ক্যাটেগরিঃ উন্মোচন

 

যেকোনো সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া যেভাবে ব্লগে উঠে আসে কর্পোরেটকবলিত গণমাধ্যমে অসংখ্য সম্পাদনা এবং কাটছাটের পর যেভাবে প্রতিক্রিয়াগুলো প্রকাশিত হয় না। প্রতিনিয়ত অমানবিকতা দেখতে দেখতে মানবিকবোধশূণ্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভেতরে বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতিভঙ্গ তেমন প্রভাব ফেলে না, গা সওয়া হয়ে যাওয়া অপমানগুলো গায়ে না মাখতে মাখতে এখন আমাদের চামড়া ভেদ করে কিছুই প্রবেশ করছে না।

গত ৬ বছর ধরেই নিয়ম করে র‍্যাব মানুষ খুন করছে , দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য আত্মরক্ষার ছদ্মবেশে এইসব হত্যাকান্ডের বৈধ্যতা দিয়েছে প্রশাসন, এভাবেই গত ৬ বছরে ১৫০০ ব্যক্তিকে হত্যা করবার পরও র‍্যাবের বিচার বহির্ভুত হত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহন করতে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।

এমন নিয়ম করে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া, লালন পালন করার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় র‍্যাব সদস্যের ভেতরে যেমন উচ্ছৃঙ্খলতা দেখা দেওয়ার কথা তেমনটাই দেখা দিয়েছিলো ২০০৬-০৭ সময়কালে। তারা ব্যপক মাত্রায় চাঁদাবাজি, কিডন্যাপিং এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধে জড়িয়েই পরে নি শুধু বরং বিভিন্ন সময়ে ধনীদের ভাড়াটে গুন্ডা হিসেবেও কাজ করেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাবের সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এরপর থেকে র‍্যাব অর্থসম্পর্কিত কোনো বিবাদ মীমাংসা করবে না। সে সময়ে উড়ো কথায় জানতে পারলাম এমন ভাড়াটে গুন্ডা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য ৮ সদস্যের একটি দলকে হাত-পা ভেঙে ফেলার জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা দিলেই চলে, কমান্ডারের সাথে ব্যক্তিগত সখ্যতা এবং এ পরিমাণ অর্থ প্রদানের ক্ষমতা থাকলে প্রতিদন্ডীদের বিকলাঙ্গ করে দেওয়া সম্ভব।

প্রতিটি র‍্যাব সদর দপ্তরের বাইরে বড় বড় অক্ষরে র‍্যাবের নীতিমালা লেখা থাকলেও র‍্যাবের পরবর্তী কর্মকান্ডে স্বচ্ছতার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। নিজেকে আইনের রক্ষক মনে করা এইসব খুনোন্মাদ নিয়মিত বিরতিতে ক্রস ফায়ার কিংবা এনকাউন্টারের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ করে নি। মানবাধিকার, আইনের শাসন শব্দগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে তেমন গুরুত্ব বহন করে না, বরং সমাজের নামীদামি ব্যক্তিরাও মনে করেন র‍্যাবের এইসব বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের প্রয়োজন আছে। আমাদের দেশে এমন চরমপন্থার প্রদর্শনে অপরাধীগণ ভীত হয়ে অপরাধ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে।

অপরাধ দিয়ে অপরাধ দমনের কৌশল কবে কাজে এসেছিলো? কোনো সমাজে, কোনো সময়ে কঠোরপন্থা অবলম্বনে অপরাধপ্রবনতা কমে যাওয়ার নজির নেই, এরপরও তাদের আশাবাদ এভাবেই অপরাধনির্মূল করা সম্ভব। তার ফলাফল হিসেবে আমরা দেখছি ইদানিং এমন সব মানুষ র‍্যাবের হাতে আক্রান্ত হচ্ছে যাদের অপরাধের পূর্বতন কোনো রেকর্ড নেই থানায়, এমন সব মানুষ র‍্যাবের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে, বিকলাঙ্গ হচ্ছে যাদের ব্যপারে স্থানীয় মানুষের ভাষ্য তারা কোনো সময়েই কোনো রকম অপরাধে জড়িত ছিলো না।

…………..> বিস্তারিত