ক্যাটেগরিঃ গ্লোবাল ভয়েসেস

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত বছর ধরে যৌতুক সামাজিক একটি প্রথার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে এবং অনেক উন্নয়নশীল দেশে এই বিষয়টিকে কনের পরিবারে জন্য একটি অর্থনৈতিক চাপের কারণ হিসেবে দেখা হয়। গত শতকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে আইনের মাধ্যমে যৌতুক গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরে অবৈধ ভাবে এবং ব্যাপক হারে যৌতুক গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রতি বছরই আমরা যৌতুক সংক্রান্ত ঘরোয়া নির্যাতনের খবর পেয়ে থাকি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে যা প্রায়শ স্বামীর দ্বারা স্ত্রী হত্যার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। যৌতুক বিষয়ে সাম্প্রতিক এক প্রতিবাদ বাংলাদেশের সামাজিক প্রচার মাধ্যম আলোচিত এবং আলোড়িত হয়েছে

কনে ফারজানা ইয়াসমিন ১১/১১/১১ নামক বিশেষ তারিখটাকে তার স্বপ্নের বিয়ের তারিখ হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। ফারজানা এক বীমা কোম্পানীতে কাজ করে। তার হবু বর শওকত আলি খান হিরণ একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেডমাস্টার। গত শুক্রবার ঠিক সময়ে বিয়ের আনুষ্ঠনিকতা শুরু হয় [বাংলা ভাষায়]। কিন্তু সম্বর্ধনার সময় ফারজানা খালা শ্বাশুরী, কনের পরিবারে কাছে টেলিভিশন, ফ্রিজ, মোটর সাইকেল সহ এবং আরো কিছু উপহার দাবী করে। বিয়েতে উপস্থিত অতিথিদের সামনে তারা তাদের এই দাবী পেশ করে।

বিস্মিত কনে আবিষ্কার করে যে তার সদ্য বিবাহিত স্বামী এই যৌতুকের দাবীর পক্ষে কথা বলছে এবং বিয়ের আসরে তার স্বামীকে তালাক দিয়ে ফারজানা সারা দেশের সবাইকে এক বার্তা প্রদান করে। রাতে কনের আত্মীয়রা এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে, কিন্তু ফারজানা তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

এই ঘটনার পর বর পরে তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসে লেখে, “ ঘটনা হচ্ছে আমার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে” এবং সে এর জন্য অতিথিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। সাথে সাথে বর দাবী করে যে, সে কোন যৌতুক দাবী করেনি। এরপর সে কনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে এক নোংরা প্রচারণা শুরু করে [বাংলা ভাষায়]। সব জায়গা থেকে নেট নাগরিকরা এর প্রতিবাদ করে এবং এরপর তার ঘৃণা ছড়ানো পোস্ট অপসারণ করা হয়।

ফারজানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন :

যৌতুক সমাজের একটা ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। আমি সংবাদের পাতায় এই সংক্রান্ত সংবাদ পড়তাম আর সব সময় ভাবতাম, কেন এমনটা ঘটে। […] কিন্তু যখন তা আমার আমার চোখের সামনে ঘটতে শুরু করল…আমার ভেতরে যেন কিছু একটা ঘটল। আমি অনুভব করলাম এর বিরুদ্ধে আমার কথা বলা এবং কিছু করা উচিত[…]। হয়ত আমি আর দশটা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারি না, কিন্তু আমি মানুষকে এই শিক্ষা দিতে চাই যে মেয়েরাও কিছু করতে পারে।

……..>বিস্তারিত