ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বসছে ১৬ কোটি লোকের এ দেশে। ঢাকার মিরপুরে যে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের বেশির ভাগ খেলা হবে, তার ধারণ ক্ষমতা মাত্র ২৫ হাজার।

ফলে খেলার দেখার জন্য টেলিভিশনের পর্দায়ই চোখ রাখতে হবে অধিকাংশ বাংলাদেশির। কিন্তু তাতেও যে খেলা দেখা পুরোপুরি যাবে, সে ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বিদ্যুৎ সঙ্কট।

বর্তমানে দেশে দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট। সেই হিসেবে প্রতিদিন দেড় হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সেচ মৌসুম।

উদ্বোধনের পর ১৯ ফেব্রুয়ারি খেলা শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপ খেলা চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। সেচের পাশাপাশি খেলা দেখার এ সময়ে টেলিভিশনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পাখা, বাতি, শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার বাড়লে লোডশেডিংও বাড়বে বলেই আভাস মিলছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবীর সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সেচ মৌসুম ও বিশ্বকাপ এক সঙ্গে শুরু হওয়ায় ঘাটতি মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য প্রতিদিন ১৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন।

তবে বর্তমানে সব এলাকায় সেচ কাজ শুরু না হওয়ায় একটু কম বিদ্যুৎ লাগছে। তবে মার্চের শুরু থেকে পুরোপুরি লাগবে। তখন লোডশেডিং এর পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

বিউবো চেয়ারম্যান বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এক সঙ্গে অনেকে খেলা দেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি কিছুটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।”

খেলা চলাকালে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বাতি ও পাখা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত খেলাগুলোর সময় যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট না ঘটে সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আলমগীর জানান।

রাজধানীর দুটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি জানিয়েছে, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন রাজধানীতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে অন্তত ৭০ মেগাওয়াট। তাই বাড়তি চাহিদার জন্য বিদ্যুৎ না পাওয়া লোডশেডিং ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

ঢাকা ইলেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডেসকোর আওতাধীন অঞ্চলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মেগওয়াট। সেই হিসেবে ঘাটতি থাকছে ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট।”

মিরপুর স্টেডিয়াম ডেসকোর আওতায় হওয়ায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ চলাকালে (প্রায় ৮ ঘণ্টা) স্টেডিয়ামের জন্য প্রায় আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডিপিডিসির আওতাধীন অঞ্চলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৬৫০ মেগওয়াট। সেই হিসেবে ঘাটতি থাকছে ২০০ মেগাওয়াট।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ডিপিডিসির আওতায় হওয়ায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে (প্রায় ৪ ঘণ্টা) স্টেডিয়ামের জন্য প্রায় তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

——————————————————————-
আমিনূর রহমান রাসেল
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরআর/এমআই/১২৪০ ঘ.