ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

তেহরান, ফেব্রুয়ারি ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- ইরানে বিক্ষোভে মদদ দেওয়ার অভিযোগে বিরোধী পক্ষের দুই নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আইনপ্রণেতারা।

ইসলামি শাসনব্যবস্থার অধীন দেশটির বিচার বিভাগের কাছে তারা এই দাবি জানায়।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার ইরানের কোথাও কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। তেহরানসহ অন্যান্য শহরে জীবন-যাত্রা স্বাভাবিক বলে জানা গেছে।

সোমবার রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ করে ইরানিরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বেধে গেলে একজন নিহত ও অনেকে আহত হয়।

এ বিক্ষোভের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা মির হোসেইন মুসাভি ও মেহদি কারুবিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানায় প্রায় দু’শ আইনপ্রণেতা। ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ খবর জানা যায়।

এক বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা বলেন, “(বিরোধীদলীয় নেতা) মেহদি কারুবি ও মির হোসেইন মুসাভি আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ, তাদের বিচার হওয়া উচিত।”

অতীতে ইরানে ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ’ অভিযোগ রাজনৈতিক বিবেচনায় বন্দিদের ক্ষেত্রে আনা হতো। ইসলামি শাসনব্যবস্থার অধীন দেশটিতে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

বিচারবিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেইন মহসেনি ইজেই বলেন, “যারা সোমবার গণবিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, তাদের অতিঅবশ্যই যতদ্রুত সম্ভব বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।”

ইরানের কর্তৃপক্ষ বারবারই অভিযোগ করে আসছে, বিরোধী নেতারা দেশটিতে ইসলামি শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত করতে পশ্চিমা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে মুসাভি ও কারুবি।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার আলি লারজানি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধেও বিরোধীপক্ষকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

তিউনিসিয়া ও মিশরের বিপ্লবের সমর্থনে ইরানিরা সোমবার রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ার (স্বাধীনতা চত্ত্বর)-এর দিকে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে ও ব্যাপক লাঠিপেটা করে।

ইরানের এই বিক্ষোভে সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, “মিশরে অধিকার আদায়ে যা ঘটেছে, সেই একই অধিকার ইরানিদেরও রয়েছে।”

ইরানিদের এই মিছিল ২০০৯ সালে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনপরবর্তী বিক্ষোভের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে বিরোধীপক্ষ।

২০০৯ সালে প্রায় মাসব্যাপী চলা ওই সরকারবিরোধী আন্দোলনে ৮ জন নিহত হয়। পরবর্তী সময়ে নানা অভিযোগে অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে ২ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

এখনো ইরানের কারাগারে আটক রয়েছে অনেক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী।

———————————————————–
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/সিআর/১৩০০ ঘ.