ক্যাটেগরিঃ গ্লোবাল ভয়েসেস

জানুয়ারীর ১৪ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার উপর বেশ কয়েকটা ছোট আইনগত সংস্কার সাক্ষর করেছেন। এই সংস্কারগুলো (যার বিস্তারিত এখানে) যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবাতে যাতায়াতের সুযোগ বৃদ্ধি করছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের সুযোগ করে দেবে ওই দ্বীপে থাকা ‘পরিবারের সদস্য নন’ এমন ব্যক্তির কাছে অর্থ পাঠানোর, যদি না তারা সিনিয়র সরকারী কর্মকর্তা বা কিউবার কমিউনিস্ট দলের সিনিয়র সদস্য হন। এই সংস্কার শিক্ষা, সাংবাদিকতা আর ধর্মীয় ভ্রমণকে সহজ করার সুযোগ করে দেবে, আর এটা বর্তমানের থেকে বেশী হারে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশেষ স্বাধীনতা দেবে কিউবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত হওয়ার।

মার্কিন-কিউবা ব্লগিং কমিউনিটির অনেকে এটাকে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখেছেন দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে। দ্যা হাভানা নোটস ব্লগের আনা লান্ডাউ- ফ্রেঞ্চ, যিনি সংস্কারের গতি কাছ থেকে দেখছিলেন, লিখেছেন:

যদি এটা পথের শেষ না হয়ে শুরু হয়- যেমন প্রেসিডেন্ট ওবামা কথা দিয়েছেন ২০০৯ সালের এপ্রিলে, – এইসব নতুন ভ্রমণের আইন আশার সঞ্চার করে যুক্তরাষ্ট্র- কিউবার ধরাছোঁয়ার বাইরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

লান্ডাউ –ফ্রেঞ্চ আরো লক্ষ্য করেছেন যে এলাকাভিত্তিক প্রচারণা যেমন কৃষিভিত্তিক এবং শিক্ষাগত থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই সংস্কার সম্ভব করতে সাহায্য করেছে। হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রকাশিত বার্তা জোর দিয়েছে প্রেসিডেন্টের কিউবার আর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন নাগরিকের মধ্যে – ‘মানুষের সাথে মানুষের’ যোগাযোগ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যের প্রতি। দ্যা কিউবান ট্রায়াঙ্গালের ফিল পিটার্স এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন:

আমেরিকা আর কিউবার মধ্যে বাড়তে থাকা যোগাযোগ তথ্য আর ধারনার বিকাশে সাহায্য করবে, আর দেশটার বাড়তে থাকা প্রাইভেট সেক্টরের ক্ষেত্রে কিউবাবাসীর কামাই বাড়বে।

মার্কিন-কিউবা নীতির অন্যান্য জোরালো কণ্ঠ এই সংস্কারের সমালোচনা করেছেন, এই ধারনা করে যে অর্থনৈতিক যে প্রভাব তা কেবল ক্যাস্ট্রো সরকারকে শক্তিশালী করবে।

এই ব্যাপারটাকে তুলে ধরতে, ক্যাপিটল হিলস কিউবানস এই সংস্কারকে কিউবার সরকারকে উদ্ধারের সাথে তুলনা করেছেন, যেটা প্রচন্ড অর্থনৈতিক কষ্টের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। ফ্লোরিডার নতুন সিনেটর মারকো রুবিও এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, আর এটাকে কিউবার প্রতি আমেরিকার দুর্বল নীতি বলে জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন:

এই প্রশাসনের করা পরিবর্তনের ব্যাপারে আমার বিরোধীতা ছিল আর আমি এইসব নতুন পরিবর্তনের বিরোধীতা করছি…এটা চিন্তাই করা যায় না যে এই প্রশাসন কিউবার শাসকদের শক্তিশালী করছে যারা লাগাতার মানবাধিকার লংঘন আর তার মানুষের সম্ভ্রম হানী করছে।

রুবিওর মন্তব্যের ব্যাপারে এল ইউমা বলেছেন:

যদিও তিনি মাত্র ৩৯ বছর বয়সী, কিউবার নীতির ব্যাপারে মনে হয় উনি একটা উপস্থাপনায় বিশ্বাস করেন শাস্তি আর একা করে রাখার যা কার্যে আছে কিন্তু অকার্যকর আছে তার জন্মের আগ থেকে…আমি বলি: সমগ্র ‘কিউবার শাসন ব্যবস্থার উন্নতির থেকে কিউবার মানুষের ক্ষমতায়ন নিয়ে কেন চিন্তা করা হয়না।

ফ্লোরিডা স্ট্রেইট ব্যাপী, কিউবার কর্তৃপক্ষ আর সরকারের পক্ষের ব্লগাররা এই সকল সংস্কারের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন। ইয়োহান্ড্রেইস ওয়েব লগ মতামত জানিয়েছেন যে তারা যখন প্রচার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কিউবার সাথে যুক্ত হতে চায়, তারা একই সাথে ঐতিহাসিক সব দিক তুলে ধরেছেন যে তাদের কিউবার উপরে প্রভাবের।

[La reforma es] expresión…del reconocimiento del fracaso de la política de los Estados Unidos contra Cuba y de que busca nuevas vías para lograr sus objetivos históricos de dominación de nuestro pueblo.
[…]
Aunque las medidas son positivas, se quedan muy por debajo de esos justos reclamos, tienen un alcance muy limitado y no modifican la política contra Cuba.

[সংস্কারগুলো হচ্ছে] কিউবার ব্যাপারে মার্কিন নীতির ব্যর্থতার প্রতীক যারা নতুন পন্থা খুঁজে পায় তাদের লক্ষ্য আদায়ের জন্য আমাদের মানুষদের ঐতিহাসিকভাবে দমন করে রাখার জন্য।
[…]
যদিও পদক্ষেপগুলো ভালো, এগুলো যা আশা করা হচ্ছে তার থেকে অনেক নীচে, খুব সীমিত লাভ এতে আসবে, আর এটা কিউবার প্রতি নীতির কোন পরিবর্তন আনে না।

কিন্তু দ্বীপ থেকে আরো কণ্ঠ সাম্প্রতিক মাসে একই ধরনের পদক্ষেপের জন্য দাবি করেছেন। ২০১০ সালের জুনে অসংখ্য ব্লগার, স্বাধীন সাংবাদিক আর সামাজিক নেতারা কিউবাতে একটা চিঠি সই করেছেন আমেরিকার কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দুই দেশের মধ্যে কৃষি বাণিজ্য করতে দেয়া হয় যাতে। তারা এই যুক্তি দেখিয়েছে যে এটা কিউবার অর্থনীতিকে জোরদার করবে, আর দ্বীপটির ভিতর আর বাইরের মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করবে।

চিঠিতে বলা ছিল:

Compartimos la opinión de que el aislamiento del pueblo de Cuba beneficia a los intereses más inmovilistas del gobierno [cubano], mientras que la apertura sirve para informar y empoderar a los cubanos y ayudar a un mayor fortalecimiento de nuestra sociedad civil.

আমরা একই মতামত মেনে চলি যে কিউবার মানুষকে একা করে রাখা কিউবার সরকারের অপরিবর্তনীয় ইচ্ছাকে পূরণ করে। আর একটা উন্মোচনের সুযোগ কিউবাবাসীকে তথ্য জানা আর ক্ষমতায়নে সাহায্য করতো আর তাদের সুধী সমাজকে শক্তিশালী করতো।

জুন ২০১০ এর একটা পোস্টে, ব্লগার ক্লাউডিয়া ক্লাডেলো , যিনি চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন, লিখেছেন:

Quizás sea ingenuo pensar que estas flexibilizaciones promoverían la democratización de Cuba, sin embargo, lo contrario termina por ser -cuando se le mira fríamente- igualmente naif.

এটা ভাবে হয়তো বোকামি যে এই স্বাধীনতা কিউবার গণতন্ত্রায়নকে তুলে ধরবে, কিন্তু এর বিপরীতে- ঠিকভাবে দেখলে- একই ধরনে অবাস্তব।

এই বির্তকের সব দিকের কণ্ঠ স্বীকার করে যে এইসব নীতি দ্বীপটার সর্বময় অর্থনীতির উপরে প্রভাব রাখবে, যেহেতু এটা কিউবার জনগণের কাছে আমেরিকান ডলারের প্রবাহ বাড়াবে। কিউবার বর্তমান অর্থনীতিতে যে কোন ধরনের সম্ভাব্য উন্নতি সাধারণ নাগরিক, সরকারী নেতা আর এদের মধ্যবর্তী সকলকে উপকৃত করবে। কিন্তু এটার কোন প্রভাব কিউবার রাজনৈতিক বা মানাবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রভাব ফেলবে কিনা বা মার্কিন- কিউবার মধ্যকার সম্পর্ক বিশেষভাবে বাড়াতে সক্ষম হবে কিনা, তা দেখতে হবে। কিউবা সেন্ট্রাল জানিয়েছে যে কিউবার নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারে পরিবর্তন এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হতে পারে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আসলেই এগিয়ে যেতে চায় দু দেশের মধ্যে সত্যিকারের খোলা আর পারষ্পরিক বিশ্বস্ততার সম্পর্কের ব্যাপারে। তারা লিখেছেন:

যুক্তরাষ্ট্রকে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যে কিউবার সরকারকে ছোট করে দেখা বা ক্ষমতাচ্যুত করতে চাওয়া আর সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে গড়ে তোলা। কিউবা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে নিজের ক্ষমতায়। আমাদেরও তাই করা উচিত।

———————————————————
লিখেছেন Ellery Biddle · অনুবাদ করেছেন রেজওয়ান
মূল খবরঃ গ্লোবাল ভয়েসেস