ক্যাটেগরিঃ বিডিনিউজ২৪ ডট কম

 

গুমের মাসুল হরতাল ?
সারা দেশে একটানা হরতালের তিন দিন পার হলো গত সপ্তাহে। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে না-পাওয়ায় হরতালের ফাঁসের দড়িতে বাংলাদেশ ক্রমশই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ধীরে ধীরে অবশ হয়ে পরেছিলো। যেমনটা হয়েছিলো এক সময় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ৯-এর দশকে। শনিবারের(২৮ এপ্রিল) মধ্যে তাকে পা্ওয়া যায়নি বলে আবারও একটানা হরতাল শুবু হবে রোববার থেকে।

রাজনৈতিক দলের একজন নেতার নিখোঁজ হওয়ার মাশুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে জীবন দিয়ে। গরীবের গরীব এই দেশটির যাওবা একটু আধটু সম্পদ আছে হরতালপন্থীদের আক্রোসের আগুনে পুড়ে তা ছাই হয়ে যায়। আমরা যারা আমজনতা তাদের অবস্থা যে কী তা আর নতুন করে বলার দরকার আছে বলে মনে হয না। এই অবস্থা আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে কবি বিষ্ণু দে’র বিখ্যাত কবিতা ‘ কাসাণ্ড্রা’র সেই অবিস্মরণীয় পংক্তিগুলো:

আমরা কখনো হেরিনি হেলেন সে-মায়াননে
তবু কেন মরি ঘরে বসে লোভী ট্রয়ের রণে

উন্নত দেশ নই কোনদিন, দিন আনি খাই,
আমরা কখনো ঘামাইনি মাথা দেশ শাসনে;

ক্ষমতার হেলেনের জন্য যারা লড়াই করেন তাদের গাড়িও কেউ ভাঙে না, মূল্যবান বিলাসী জীবনও তাদের খোয়া যায় না। যা হারাবার তা কেবল সাধারণ জনতাই হারায়।

হাইড এন্ড সিক, হাইড এন্ড সিক . . . . .হোয়ার ইজ বেবি হাইডিং
বিএনপি অভিযোগ করেছে ইলিয়াস আলীকে সরকারই তাদের কোন বাহিনী দিয়ে গুম করেছে। বিএনপি যতই বলুক না কেন যে সরকার ‘লোক দেখানো’ অভিযান চালিয়েছে ইলিয়াসকে উদ্ধারে– এ কথাটা জনগণের কাছে আদৌ বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় আছে। সংশয়ের কারণ প্রথমত বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য ধুরন্ধর আওয়ামী লীগ এতো বোকাটে পথে আগাবে কেন? কাউকে গুম করা মানে সবার মধ্যেই আতংক ছড়িয়ে দেয়া। সাধারণ মানুষের কথা বাদই দিলাম, কারন সাধারণ মানুষকে তো কেউই পোছে না, এখনতো দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী নেতারাও নাকি গুমের আতংকে আছেন। সুতরাং বিরোধী দলের কাউকে গুম করাটা আওয়ামী সরকারের জন্য কোন দিক থেকেই সুফল তো বয়ে আনবেই না, বরং কুফলই বয়ে আনবে– এই সরকার সাধারণ এই হিসাবটি মাথায় রাখবে না তা বিশ্বাস করা কঠিন। আর ইলিয়াস আলীতো বিএনপির এমন কোন স্তম্ভও নয় যাকে গুম করে দিলে বিএনপি ঝুর ঝুর করে ভেঙে পড়ে যাবে। শোনা যায় ইলিয়াস আলী এর আগেও একবার নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং আবার তিনি ফিরেও এসেছেন।

……..>বিস্তারিত