ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

লেখাটি একটি সমালোচনা। লেখাটি শুরু করছি কিরোর [১] কথা দিয়ে।

শ্রেষ্ঠ সত্য নিহিত থাকতে পারে ক্ষুদ্র বস্তুতে;
শ্রেষ্ট মঙ্গল থাকতে পারে, যাকে আমরা অবজ্ঞা করি;
শ্রেষ্ঠ আলো থাকতে পারে অন্ধকার আকাশ থেকে;
শ্রেষ্ঠ রজ্জু হতে পারে দুর্বল সুতা থেকে। [২]

তাই একটি অতি ক্ষুদ্র বস্তুতেও অনেক কিছু শেখার থাকতে পারে। প্রতিটা বিষয়ের ভালো ও মন্দ দুইটা দিকই থাকতে পারে। ব্লগিং ও মন্তব্য করার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেখেছি, কেউ কোন কিছু ভালো বললে তাকে ঐ বিষয়ের লেবেল দেওয়া হয়। উল্টা ভাবে বললে ,কেউ কোন কিছুর খারাপ বললে, তাকে ঠিক ঐ বিষয়টির বিপরীতটির লেবেল দেওয়া হয়। যা একজন ব্লগার ও মন্তব্যকারীর কূপমুন্ডকতার প্রকাশ করে।

যেমন ধরা যাক: আমি যদি আওয়ামী লীগের কোন কিছু ভালো বলি, বি.এন.পি’র খারাপ বলি; আমাকে বলা হবে লীগার অথবা বাকশালী। উল্টা ভাবে আমি যদি বি.এন.পি’র কোন কিছু ভালো বলি, আওয়ামী লীগের খারাপ বলি; আমাকে বলা হবে বি.এন.পি পন্থী। একই ভাবে, ইসলামের কথা বললে তাকে বলা হবে জামায়াতি; ইসলামের ভন্ডদের ধরে দিলে বলা হবে প্রগতিবাদী অথবা নাস্তিক । কি না আজব আজব ব্লগারগণ ও মন্তব্যকারীরা !

ব্যাক্তিগত স্বাধীনতায় যে কেউ যেকোন পন্থীকে সমর্থন করতে পারেন । কারণ মন্দদের মধ্যে যার কম মন্দ মনে হয়, এইরকম একটিকে সমর্থন করার প্রয়োজন আছে বলে, আমার কাছে মনে হয়। তবে এটা একান্ত নিজেস্ব বিচার বিবেচনা। এই রকম না যে বামপন্থীরা খারাপ, ডানপন্থীরা ভাল অথবা উল্টাভাবে এই রকম না যে ডানপন্থীরা খারাপ, বামপন্থীরা ভাল। আমার তাই মনে হয়, এইজন্য ব্যাক্তিগত রাজনীতির জন্য ঐ ব্যাক্তিকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করা ঠিক না। আক্রমন করলে তার রাজনীতি ও তার কর্মকে আক্রমন করা যেতে পারে।

কাজেই সবকিছুই দুই দিক থেকেই যুক্তিগত চিন্তা করার দরকার আছে। তাহলেই সম্ভব এই কূপমুন্ডকতা দূর করা।

আরো একটা ট্যাগ লাগানো ভাদা, পাকি, ইহুদী, হিটলার ইত্যাদি । শুরু করছি , ‘মহান জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতি ও অবমাননা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক-জিনিয়া’, এই পোস্টের আরিফুল হকের [৩] মন্তব্য দিয়ে। উনি বলেছেন:

শুধু শুধু সমস্ত দোষ পাকিস্তানী তবলাবাদকের ঘাড়ে চাপানোর কোন মানে হয় না। যেখানে গানের মূল শিল্পী ও পরিচালক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সেখানে আর বলার কি থাকতে পারে? পাকিস্তানি হলেই তো সবাই আর ইয়াহিয়া, টিক্কা খান আর নিয়াজি হয়ে যায় না! ভাল মন্দ সর্বত্রই থাকে। কেন, আসমা জাহাংগীর কিংবা হামিদ মীরের মত যারা পাকিস্তান সরকারের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন তারাও তো ঐ তবলাবাদকের মতই পাকিস্তানি। জাতীয়তা দিয়ে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়, তাহলে সব জার্মান/অস্ট্রিয়ান হত হিটলার আর সব ইটালিয়ান হত মুসোলিনি। একবার ভাবুন তো বাইরের দেশের লোকেরা যদি নিজামী বা মুজাহিদের মত নরপশুদের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশীদের মূল্যায়ন করা শুরু করে!

লালন শাহর ‘জাত গেল জাত গেল বলে’ গান টি একটু চিন্তা করেন। ভারতের ভালো দেখে ভালো বললেই কি আমি ভাদা হয়ে গেলাম! পাকিস্থানের ভালো দেখে ভালো বললেই কি আমি পাকি হয়ে গেলাম ! ইসরাইলের ভালো দেখে ভালো বললেই কি আমি ইহুদি হয়ে গেলাম! ইতালির ভালো দেখে ভালো বললেই কি আমি মুসোলিনি হয়ে গেলাম! জার্মানির ভালো দেখে ভালো বললেই কি আমি হিটলার হয়ে গেলাম!

যে দেশের কোন বিষয় ভালো দেখব সে দেশের ঐ বিষয়টির প্রশংসা করব , খারাপ দেখলে ঐটির তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা করব। এমনকি নিজ জন্মভূমির ভুল দেখলেও সমালোচনা করব। কিন্তু ভালবাসায় নিজ জন্মভূমিকে সবার আগে স্থান দিব। তাই নিজ জন্মভূমির ভালো দেখলে প্রশংসায় সমস্ত হৃদয় মেলে দিব। তাই নিজের ও নিজের দেশের উন্নতি সবার আগে।

আমরা সবাই কি পারি না ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান হার্ট’ চিন্তা করতে।

-বোতল বাবা
জার্মানি, ১৬.০১.২০১৩ ইং
__________________

তথ্যসূত্র:
[১] কিরো উকিপিডিয়া। (হাইপার লিংক দেখেছি: ১৬-০১-২০১৩)
[২] কিরো, অনুবাদ: শ্রীভৃগু , ”কিরো অমনিবাস”, শ্যামনগর ২৪ পরগনা, পৃষ্ঠা ১। (দুঃখিত ইন্টারনেট ডাউনলোড ভার্সনে সাল ও প্রকাশকের নাম জানতে পারলাম না)
[৩] জিনিয়া, মহান জাতীয় সঙ্গীতের বিকৃতি ও অবমাননা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক (মন্তব্য ৩৯), বিডি নিউজ ২৪ ব্লগ, ২১-১২-২০১২। (হাইপার লিংক দেখেছি: ১৬-০১-২০১৩)