ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

 

বৃহত্তম সাপ টাইটানোবওয়া

স্কুলে যাওয়ার আগে সময় পেলেই সাপখেলা দেখে স্কুলে যেতাম। স্কুল ছিল ডে শিফট মানে শুরু হতো সকাল ১১:৪৫ থেকে। ১০:৩০ টার দিকে বেরিয়ে যেতাম। সাপ খেলা দেখার ও কবিরাজী ঔষুধ বেচা দেখার জন্য ছিল এক্সট্রা টাইম। স্কুল থেকে ছুটি শেষেও একই খেলা দেখা। আর হরতাল হলেই তো কোনো কথায় নাই; সারাদিনই সাপ খেলা আর কবিরাজি কারবারি দেখার সময় পাওয়া যেত। অনেকের কাছেই হয়ত এইগুলো সবই আলতু ফালতু। কিন্তু বাস্তবতা হলো আজ সাপ কে চিন্তা করেই অনেক মডেলিং করতে হচ্ছে।

প্রথমেই আসি ‘সাপ কি?’। সাপ বা সর্প হাতপাবিহীন এক প্রকার সরীসৃপ।বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী,প্রাণী জগতের, কর্ডাটা পর্বের মেরুদণ্ডী উপপর্বের, সরোপ্সিডা শ্রেণীর (শল্ক বা আঁশযুক্ত), স্কোয়ামান্টা বর্গের, সার্পেন্টেস উপবর্গের সদস্যদের সাপ বলে অভিহিত করা হয়। [১]

সাপ বা সর্প পুরাণ কাহিনী খুঁজে পাওয়া যায় মহাভারত ও কম্বোডিয়া তে নাগা; গ্রিকে অফিওন, টাইফন, পাইথন ; মিশরে ওয়াডজেট ও এরনুটেট; ইউরোপে এস্কুলাপাস, নর্ডিকে জোরমুন্ডগান্ডোর, আফ্রিকায় ডাহোমি, নেটিভ আমেরিকায় কিত্সাকোটল, অস্ট্রলিয়াতে অলুনকা; কোরিয়ায় ইওবসিন, খ্রিষ্টান ও মুসলিম ধর্মে ইডেন গার্ডেনে এডাম ও ইভের সাথে সাপ কে শয়তান হিসাবে, মোজেসের লাঠিকে সাপে পরিনত হওয়া ইত্যাদি। [২]

সুরা মুরসালাত নাজিল হওয়ার সময় ও সাপের কথা আমরা খুঁজে পাই। সহীহ বোখারীর রেওয়াতে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে-মসউদ (রা:) বলেন: আমরা মিনার এক গুহায় রসুল্লাহ (সা:)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে সূরা মুরসালাত অবতীর্ণ হল। রসুল্লাহ (সা:) সূরাটি আবৃত্তি করতেন আর আমি তা শুনে মুখস্থ করতাম। সূরার মিষ্টতায় তার মুখমন্ডল সতেজ দেখাচ্ছিল। হটাত একটি সর্প আমাদের উপর আক্রম আক্রমণোদ্যত হলে রসুল্লাহ (সা:) তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। আমরা সর্পের দিকে অগ্রসর হলাম, কিন্তু সেটি পালিয়ে গেল। রসুল্লাহ (সা:) বললেন: তোমরা তার অনিষ্ঠ থেকে নিরাপদ রয়েছ, তেমনি সেও তোমাদের অনিষ্ঠ থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে।-(ইবনে কাসীর) [৩]

এখন আসি সাপের মডেলিং নিয়ে। প্রথমেই জীবের মূল কাঠামো ডিএনএ, সাপের মতন করেই তৈরী করা। এটা আমার একটি ভিডিও পোস্টেই দেখতে পাবেন। জীবের দেহের আবরণ ও ভিতরেও অনেক অনেক সুন্দর ও অসুন্দর (সাধারণ মানুষের আপাদত দৃষ্টিতে ) সাপ আছে। সব চেয়ে বড় সাপ যেন আমাদের ভিতরেই আছে; মাথা (সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম) থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত চিন্তা করলেই যেন বোঝা যায়। এর পর খাওয়া দাওয়া। আমরা যেন প্রতিনিয়ত নানা রং বেরঙের সাপ খেয়ে যাচ্ছি। নুডুলস গুলোর কথা চিন্তা করুন। বস্ত্রর কথা চিন্তা করলে সেই গুলো ও যেন সুন্দর সুন্দর সাপ। জুতার ফিতা থেকে শুরু করে কোমরের বেল্ট , গলার স্কার্ফ , মাথার পাগড়ি সবই যেন সাপ। বাসস্থানের কথা বললে সিড়ি দিয়ে উঠা নামায় আমার যেন সব সময় সাপের উপর ভর দিয়ে চলছি। ঔষুধ পত্রের কথা বললে সেখানেও আমরা সাপের মডেলিং খুঁজে পাই। মৌলিক চাহিদার গুলোর মধ্যে এর পরে শিক্ষা। এটা ব্যাপক। এর যেন কোন শেষ নাই। কোন দিন শেষ হবেও না। বই বাধার সুই সুতা থেকে আশ (ফাইবার) দিয়ে বানানো বইয়ের পাতা ও কালারফুল সাপ।

বিজ্ঞান ও এগিয়ে গেছে সাপকে চিন্তা করে। সাপ যখন তার লেজকে কামড়ে ধরে তখন যেন তা একটি চাকা বা চক্র। ইঞ্জিনিয়ারিং .অতি গুরত্বপূর্ণ স্প্রিং সাপকে মাথায় রেখেই তৈরী করা। অতি আধুনিক ফাইবার ম্যাট্রিকস , কার্বন ফাইবার , নানো টিউবের মডেলিং ইত্যাদি আমরা খুঁজে পাই শুধুই যেন সাপ।

ম্যাথ এ নম্বর গুলো (সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে ০-৯ পর্যন্ত) ও যেন সবই সাপের মডেলিং এ তৈরী করা। নম্বর গুলোর মধ্যে আমার কাছে গুরত্বপূর্ণ ‘৪’। ৪ এর সোন্দর্যে আমি যেন শুধু মুগ্দ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকি, এ কেমন সাপ। সাপ দিয়ে ৪ নামক পাখির ডানা বানিয়ে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করে। এই জন্যই মনে সাপ ও পাখির বিশেষ মিল আছে।কেউ কেউ আবার সংখ্যার শুভ অশুভ নির্মান করেন। কে বলে শুভ অশুভ ! সব সংখ্যায় শুভ যদি তার সোন্দর্য উপলব্ধি করা যায়। প্রিয় অপ্রিয় সংখ্যা থাকতেই পারে। আমার মনে যারা অতীতে সংখ্যার অশুভ ব্যাখা দিয়েছেন, তারা তাদের অপ্রিয় সংখ্যাটিকে অশুভ ধরে ব্যাখা দিয়েছেন। যেমন আমার প্রিয় সংখ্যা ১, ৩, ৯; অপ্রিয় সংখ্যা ৬। মাযের শেখানো প্রবাদ ‘ ছয়ে ক্ষয় নয়ে জয়’; এইখান থেকেই মনে হয় এই ধারণা এসেছে। কথাটির বাস্তবতাও আছে। প্রকৃতি বলেন , সৃষ্টিকর্তা কর্তিক সৃষ্টি বলেন, মানুষ কর্তিক সৃষ্টি বলেন পারফেক্ট ডিজাইনে ৬ নম্বরে পয়েন্টে ধ্বংসর মূলমন্ত্র গোপন করা হয়। যেমন মানুষের মেরুদন্ডের ৬ নম্বরে পয়েন্টে মৃতু অলিখিত ভাবে লেখা আছে। মেরুদন্ডের শুরু (সি ০) থেকে গনে এসে সি ৫ কে সরিয়ে ফেলে হালকা শ্বাস আটকাইয়া ধরলে সহজেই মানুষের মৃতু ঘটে। ফিউচার প্রেডিকসন করলেও ৬ কে ক্ষয় হিসাবে চিহিন্নিত করা যেতে পারে। যেমন এই বছর ২০১৩ (২+০+১+৩=৬) -এ কিছু গোড়ামি ধবংশ হবে বলেই আমি মনে করি। ধ্বংসর বিপরীতে সৃষ্টি। তাই যেন ৭ কে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই আশা করা যায় এর পরের বছর অনেক নতুন নতুন কিছু সৃষ্টি হবে বলেই আমি মনে করি।

প্রকৃতির শুধু মাত্র একটা সৃষ্টি সাপ নিয়েই যেন অনেক কিছু আছে, যা বললেও যেন শেষ হবে না। এখন শেষে বলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ’। অথচ যাদের জন্য এই কথা বলা হয়েছে তারা যেন মানছেন না। জার্মানির কাছে থেকে শিখলাম পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। আচ্ছা সাপের মতন করে ঘর মুছলে দেখা যায় কত সুন্দর ভাবে যেন পরিষ্কার হয়ে গেছে।

নাকের সাথে দু চোখের ভ্রু মিলালে দেখা যায় দুটি সাপ ডান ও বাম দিকে হয়ে ফনা তুলে আমাদেরকে গাইড ও প্রটেক্ট করছে। এখন কেউ কেউ প্রশ্ন করবেন হটাত করে সাপ নিয়ে জাফরুলের বন্দনার কারণ কি! কারণ টি যেন খুবই সহজ অথচ আমরা কেউই পাত্তা দেই না। এই বত্সর জার্মানিতে কোন শীত যেন নাই। সব শীত যেন বাংলাদেশের দিকে ধাওয়া করছে। কেন এমন হলো ! অনেক অনেক চিন্তার বিষয় আছে। প্রকৃতিকে রক্ষা করতে না পারলে , প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিরবে নিরবে নেয়। এইজন্য সাপের ভিতরে প্রকৃতি গোপন করে রেখেছে সাপের বিষ, যা সাপ ব্যবহার করতে চায় না, যদি না তার প্রয়োজন হয়। মনে পরে কি ‘ এই যে দুনিয়া কিসের ও লাগিয়া এত যত্নে গড়াইয়েছেন সাই …. হাকিম হইয়া হুকুম কর পুলিশ হইয়া ধর সর্প হইয়া দংশন কর ওঝা হইয়া ঝার ….।

আসেন সাপের প্রতি বা প্রকৃতির প্রতি স্নেহ আদর ভালবাসা ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতির সৃষ্টিকে রক্ষা করি, তাহলেই সম্ভব নিজ নিজ জীবনের জীবিত অবস্থায় বাস্তব জাহান্নাম দর্শন থেকে মুক্তি।
___________________________
তথ্যসূত্র:
[১] সাপ -উকিপিডিয়া লিংক (দেখেছি ০৪ .০২ .২০১৩)
[২] সর্প পূজা -উকিপিডিয়া লিংক (দেখেছি ০৪ .০২ .২০১৩)
[৩] মুহাম্মদ শাফী, অনুবাদ: মুহিউদ্দীন খান, খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহদ কোর্আন মুদ্রণ প্রকল্প -মদীনা মোনাওয়ারা,তফসীরে মাআরেফুল ক্বোরআন – বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তফসীর, (১৪১৩ হি:) পৃষ্ঠা ১৪২৯।
[৪] বৃহত্তম সাপ টাইটানোবওয়া ফিচার ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে এই লিংক থেকে। (দেখেছি ০৪ .০২ .২০১৩)