ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

ঘটনা বিরাট। পাবনার সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছেন। এ.কে খন্দকারের ‘বিকৃত ইতিহাস’ কর্মকান্ডের প্রতিবাদে তিনি নিজের পিতৃ-মাতৃ প্রদত্ত নাম হইতে ‘খন্দকার’ অংশটি ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন। সাধু! সাধু!!

এই মহতি সিদ্ধান্তের কারণে তিনি দলে অতিরিক্ত কোন সুবিধাভোগী হইবেন কি-না বলিতে পারি না। তবে এই মহতি সিদ্ধান্তের উল্লেখ তিনি বিভিন্ন স্থানে গর্বের সহিত করিতে পারিবেন- ইহাতে আর সন্দেহ কি।

এই সিদ্ধান্তকে পিতৃ-মাতৃর প্রতি অসম্মান গণ্য করা যাইবে কি-না, তাহা গবেষণা সাপেক্ষ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য তাহার অতি প্রয়োজনীয় জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংশোধনের ধকল সহ্য করিতে হইবে বৈকি। যদিও সস (সংসদ সদস্য) হিসেবে এই সংশোধন কর্ম কষ্টসাধ্য হইবে না বলিয়াই আমরা দেখিয়া আসিয়াছি। তবু এই সংশোধন প্রক্রিয়া দেখিয়া জনগণের আমোদ হইবে বলিয়া ধারণা হয়।

তবে আমার বিবেচনাটি অন্য জায়গায়। আলোচ‌্য সস-এর নামের তিনটি অংশ রহিয়াছে (এখন বলিতে হইবে ছিল)। গোলাম ফারুক খন্দকার। এ.কে খন্দকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধতার আতিশয্যে তিনি ‘খন্দকার’ ত্যাগ করিয়াছেন। এখানেই আমি শঙ্কিত। কারণ যুদ্ধাপরাধের তালিকার অন্যতম প্রধান আসামির নামে ‘গোলাম’ রহিয়াছে। আর বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত হত্যাকারীদের মধ্যে ‘ফারুক’ রহিয়াছেন। এ.কে খন্দকারের কর্মকাণ্ডের তুলনায় উল্লেখিত অপর দুজনের কর্মকাণ্ড কোন অংশ হ্রস্ব ভাবিতে পারি না। সেই ক্ষেত্রে আমাদের আলোচ্য সংসদ সদস্যের নাম পুরোটাই বিলুপ্ত করিতে হয়।

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি এই সংসদ সদস্যের ভালবাসা ও ভক্তিতে প্রকৃত ও নিখাঁদ ভাবিয়াই আমি আতঙ্কিত হইতেছি। সেই ক্ষেত্রে আমরা তাকে কি নামে চিনিব? তাহার পরিচয়পত্রে কি নাম লিখা থাকিবে?

পৃথিবীতে প্রথম নামহীন মানুষের গৌরব তাহলে বাংলাদেশের কপালেই রইলো। মন্দ কী!!