ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সেদিন বাসে উত্তরা যাওয়ার পথে নভো থিয়েটারের সামনে একটি পোস্টার দেখে বিস্মিত হলাম। ভয়ও পেতে শুরু করলাম আমি। সেই সব দু;সহ স্মৃতি মনে পড়তে লাগলো একের পর এক। আতঙ্কে শিরদাড়া বেয়ে নেমে গেলো শীতল অনুভূতি। পোস্টারে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের ছবি-নিচে লেখা, দেশকে বাঁচাতে তোমাকে এখন বড় প্রয়োজন। সবাই কি ভুলে গেছে সেই সব দিনের কথা যখন জঙ্গিবাদের কালো ছায়ায় ঢেকে গিয়েছিলো পুরো দেশ। প্রতি মুহূর্তে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়েছে প্রতিটি মানুষকে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে বোমা হামলা, ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা হামলা, পিরোজপুরে বিচারকের ওপর বোমা হামলা, একযোগে সারাদেশে বোমা হামলা বিচার-ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে, টিএসসিতে বোমা হামলা-হামলার কোনো শেষ নেই। আর একদিকে বাংলা ভাইয়ের দৌরাত্ম-একের পর এক হামলা-নির্যাতন ও হত্যা। এ বোমা হামলার অনেকগুলোতে তারেক রহমান ও তার হাওয়া ভবনের জড়িত থাকার কথা এখন বেরিয়ে আসছে আদালতে এসব মামলার আসামি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ওই পাঁচ বছরে খুন হয়েছেন আহসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এম এস কিবরিয়ার মতো নেতারা। দেশটাকে আবার পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়ার সব পথ খুলে দিয়েছিলেন তারা। যে পাকিস্তানে এখনো বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে মানুষের দেহ- সেই পাকিস্তানের ভাবাদর্শে লালিতদের কোলে তুলে নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আর তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান ঘৃণ্য রাজনীতির দৃষ্টান্ত রাখতে গিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলাকারীদের আশ্রয়-প্রশয় দেন। সেই তারেককে ফের এদেশের বলে দরকার-তাও আবার দেশকে বাঁচাতে। কষ্ট হলেও খেয়ে-পরে বেঁচে আছে এদেশের মানুষ- বোমা হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে না তো কেউ। কিন্তু উনি আবার ক্ষমতায় গেলে মুফতি হান্নান, বাংলা ভাই, মওলানা তাজউদ্দিনের মতো অসংখ্য ঈমানদার আবারো মাঠে নেমে যাবেন বোমা, গ্রেনেড ও মেশিনগান নিয়ে। তাই প্রশ্ন জাগে তারেককে কী দেশ বাঁচাতে না মারতে প্রয়োজন।

তারেক রহমান