ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

একাত্তরে ন্যাপ নেতা সাইফুদ্দিন খানকে ধরে নিয়ে যায় রাজাকার বাহিনী। ডালিম হোটেল নামে তাদের নির্যাতন কেন্দ্রের অন্ধকার ঘরে আটকে নির্মম নির্যাতন করা হয় তাকে। সাইফুদ্দিন তার ওপর নির্যাতনকারীদের বিচার দেখে যেতে পারেননি। ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

47020141102112108

কিন্তু তার স্ত্রী নূরজাহান খান বেঁচে আছেন। নির্যাতনকারীর বিচার দেখার জন্য তার অপেক্ষা।সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলী গ্রেপ্তার হলে নূরজাহান খানের উদ্ধৃতি দিয়ে বিডিনিউজের খবরে বলা হয়, কাসেম আলী গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি আনন্দিত। কিন্তু এই নির্যাতনকারীর বিচার দেখে যেতে চান তিনি। সেই অপেক্ষায় কাটছে তার জীবন।বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার নেত্রী নূরজাহান খান বলেন, একাত্তরের ৩ নভেম্বর স্থানীয় রাজাকার আবুল কালামের (যিনি এখন টিকে গ্রুপের চেয়ারম্যান) নেতৃত্বে একদল লোক মাদারবাড়ি এলাকার বাড়ি থেকে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে আল বদর বাহিনীর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। ১৭ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে আটক থাকেন তিনি। এ সময় তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় বদর বাহিনী।ওই হোটেলে ধরে নেওয়ার পর প্রথম তিন দিন কিছুই খেতে দেওয়া হতো না। বন্দিরা খেতে চাইলে তাদের প্রসাব খেতে দেওয়া হতো। অনেক সময় নিজেদের প্রসাব খেতে বাধ্য করা হতো।-একথা এই সাইফুদ্দিন খানের বরাত দিয়ে বিভিন্ন বইয়ে বলা হয়েছে।নূরজাহান খান জানান, ১৯৭১ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মুক্তিযোদ্ধা জসীম উদ্দিন এবং নন্দনকানন এলাকার দোকানদার জীবনকৃষ্ণ শীলকে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে বদর বাহিনী।

“দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ২/৩ দিন আগে ডালিম হোটেলে নির্যাতন কেন্দ্রের সামনে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন সাইফুদ্দিন।”

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই পালিয়ে সৌদি আরব যান মীর কাসেম আলী। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে ফেরেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যে হয়ে পড়েন দেশের শীর্ষ ধনীদের একজন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, সাকা চৌধুরী ও সাঈদীরা গ্রেপ্তার হলেও প্রায় বছর খানেকের বেশি সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন কোটি কোটি টাকার মালিক মীর কাসেম যিনি একাত্তরে চট্টগ্রাম শহরে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্যাতনে নেতৃত্বে ছিলেন আল-বদরের স্থানীয় কমান্ডার হিসেবে। অবশেষে কাসেম আলী গ্রেপ্তার হওয়ায় আনন্দের কথা জানান নূরজাহান।কাসেম গ্রেপ্তার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে ওই নরপশুর বিচারের অপেক্ষায় আছেন বলে জানান তিনি। তবে বাচ্চু রাজাকার নামে পরিচিত আবুল কালাম আযাদ পালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতো অনেক নির্যাতিতের আত্মীয়-স্বজন তাদের আপনজনকে নির্যাতনকারীর-হত্যাকারীর সাজা দেখতে পেলেন না বলে কষ্ট তার।একাত্তরে যারা এ মাটির সন্তানদের রক্ত ঝরিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে মা-বোনের ইজ্জত সেই অপরাধীদের কেউ যেন আর পালিয়ে যেতে না পারে। কারণ ওই ঘাতকদের বিচারের অপেক্ষায় যে নূরজাহান খানের মতো অসংখ্য নারী-পুরুষ যারা এদের হাতে আপনজনকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন।