ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথমত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০১২’ জারির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্ধারিত বয়সের চেয়ে বেশি সময় থাকা বৈধ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন, ৬০ বছর বয়স অতিক্রমের পরও মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তার ওই দায়িত্বে এভাবে বেশি সময় থাকা বৈধ ছিলো কি না, তিনি ওই সময়ে কত টাকা নিয়েছেন এবং তা বৈধ ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখতে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকাকালে ইউনূস ‘ওয়েজআর্নার’ হিসেবে কত টাকা বিদেশ থেকে এনেছেন এবং তিনি তা আনতে পারেন কি না, এনে থাকলে কর অব্যাহতি নিয়েছিলেন কি না, কর অব্যাহতি নেওয়া বৈধ ছিল কি না- সেসব বিষয়েও একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। এই হচ্ছে আজকের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদের এই সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ইউনূস সাহেব। তিনি যথেষ্ট সম্মানী মানুষ ও বিবেচক বলেই আমরা জানি। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদের এই সিদ্ধান্তে তার ক্ষেপে যাওয়ার কারণ কী? এখানে তো তাকে আগে থেকে দোষারোপ করা হয়নি বা তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও করা হয়নি। তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছেন, যেভাবে করেছেন তার স্বচ্ছতা দেখতে চেয়েছে সরকার-এখানে বিচলিত হওয়ার মতো কী আছে? তিনি যদি স্বচ্ছ থাকেন- যে জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সেই সততা ও দক্ষতার পরিচয় পেয়েই তো তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তার এতে এতো ভয়ের কী। তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্তকে-তার বিরুদ্ধে তদন্তকে দেখছেন বা দেখানোর চেষ্টা করছেন ষড়যন্ত্র হিসাবে-গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হিসাবে। ইউনূস বলেছিলেন, তিনি না থাকলে গ্রামীণ ব্যাংক থাকবে না-ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু উপস্থিতিতেও যে গ্রামীণ ব্যাংক সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা ইউনূসেরই সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র বলেছে। তাই নাটকের অবতারণা না করে, মানুষকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা না করে তদন্তে সহযোগিতা করে নিজের সততা ও কতর্ব্যনিষ্ঠার পরিচয় দিন-তাতেই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।