ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বিডিনউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপ নারীর ক্ষমতায়নে বাধা হিসেবে কাজ করবে বলে অভিযোগ এনেছে তারা। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারির একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের তিন দিনের মাথায়ই রোববার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ প্রতিক্রিয়া জানান দিলো। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের পারিবারিক বন্ধু বলে পরিচিত নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব ৭১ বছর বয়স পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকাটা বৈধ ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেখানে ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত এমডি থাকার বিধান রয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় আরো কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক ও ইউনূসকে নিয়ে। তিনি এমডি থাকাকালে কত টাকা নিয়েছেন এবং তা বৈধ ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখতে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকাকালে ইউনূস ‘ওয়েজআর্নার’ হিসেবে কত টাকা বিদেশ থেকে এনেছেন এবং তিনি তা আনতে পারেন কি না, এনে থাকলে কর অব্যাহতি নিয়েছিলেন কি না, কর অব্যাহতি নেওয়া বৈধ ছিল কি না- এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বেচারা ফেঁসে গেছেন বুঝতে পেরেই সেদিনই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সরকার এ পদক্ষেপ ঠেকাতে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। আর আজ যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, “সরকারের নিয়োগ দেওয়া ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোনয়নের ক্ষমতা দেওয়ায় বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশে এবং প্রকৃতপক্ষে সারা বিশ্বের লাখ লাখ দরিদ্র নারীর জীবনে পরিবর্তন সূচনাকারী বিশাল অংশের নারী ঋণগ্রহিতার অধিকার খর্ব করবে।” (সূত্র:বিডিনউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

ভাই, এ কথা কি স্বয়ং ইউনূস সাহেবই বলতে পারবে যে, তিনি এমডি থাকাকালে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকৃত মালিক তথা ঋণগ্রহীতা দরিদ্র নারীরা এই ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণে ন্যূনতম ভূমিকা রাখতে পেরেছে? বরং ঋণের কিস্তি দিতে না পারলে ঘরের টিন নিয়ে আসা হয়েছে ওই সব নারীদের নয়তো অসহ্য গালি শুনতে হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মীর। তাহলে তারা কিভাবে এই ব্যাংকের মালিকানায় ছিলো এবং সে ক্ষেত্রে নীতি-নির্ধারণীতে ভূমিকা রেখেছে। মানুষকে ঋণ দিয়ে তাদের কাছ থেকে চড়া হারে সুদ আদায় করা হয়েছে। আর সুদসহ ঋণের অর্থ আদায় করা হয়েছে চরম নিষ্ঠুরতার সঙ্গে। সরকারি বিভিন্ন ব্যাংক প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন বন্যা, খরা ও ঝড়ের কারণে দরিদ্র গ্রামবাসীকে কৃষিঋণের অর্থ মওকুফ করলেও গ্রামীণ ব্যাংক কখনো কারো ঋণের অর্থ মওকুফ করেনি। বরং সুদসহ আদায় করা হয়েছে ঋণের টাকা। তাহলে এই ব্যাংকের মালিকানায় কিভাবে দরিদ্র নারীরা?

গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে ইউনূসকে অব্যাহতি দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু কেন? গ্রামীণ ব্যাংকে তাদের কোনো অর্থ লগ্নি কিংবা অনুদান না থাকলেও এ নিয়ে তাদের বারবার উদ্বেগের কারণ কী? তারা বলছে,“সরকারের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আমরা উদ্বিগ্ন।” (সূত্র: বিডিনউজ)

ভাই, আপনারাই বলুন গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়ে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্বেগ কেন। ব্যাংকটিতে সরকারের একটি বড় অংশের শেয়ার রয়েছে এবং বাংলাদেশে পরিচালিত যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে-তাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকি-ধমকি কিসের প্রয়োজনে? এটাতো তাদের প্রতিষ্ঠা করা প্রতিষ্ঠান নয় বা এখানে তাদের কোনো বিনিয়োগও নেই-তাহলে এই ঘেউ ঘেউ কার স্বার্থে-কি জন্যে?