ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান এবার আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন। দেশের জন্য তিনি বয়ে এনেছেন অনন্য এক সম্মান। তাকে নিয়ে এবার তৎপর হতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। এই বহুজাতিক দাতা সংস্থাটি বিশ্বের সব চোরদের অর্থাৎ অর্থপাচারকারীদের যে তালিকা করেছেন তাতে আরাফাত রহমান কোকোর নামটি উঠে এসেছে। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে এই ভোলাভালা চেহারার কোকো দুর্নীতিতে তার পারদর্শিতা প্রমাণ করেছেন। বিদেশেও পাচার করেছেন অবৈধভাবে অর্জিত সে অর্থ। আর তা শুধু বাংলাদেশি আদালত ও সংস্থার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। কোকোর এই চুরি নিয়ে তৎপর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। বিশ্ব ব্যাংকের ওই তালিকায় কোকোর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি জনাব কোকোর বিচার শুরু হয়। তার অনুপস্থিতিতেই চলে বিচার কাজ। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ একটি অভিযোগ করে যে, সিঙ্গাপুরের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে অর্থ রাখা হয়েছে যা ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে রাখা হয়েছে। ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া জেলা আদালতের এক রায়ে বলা হয়, ১. জেডএএসজেড ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেডের নামে সিঙ্গাপুরে ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকের ৩৫২-০১৫-৫৪০-৪ হিসাব নম্বরে রাখা অর্থ, ২. স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিঙ্গাপুর শাখায় জুলফিকার আলী নামে ০১৭৪০৫৩৭৪৬ হিসাব নম্বরে আটক সাত লাখ ৬২ হাজার ডলার এবং ৩. স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিঙ্গাপুরে ০১৭৪০০১৭৭০ হিসাব নম্বরে ফজলে সেলিমের নামে রাখা দুই লাখ ২৬ হাজার ২৪৯ ডলার- এই সব অর্থ তারেক রহমানের। এ অর্থ তিনি সিমেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড ও চীনা হার্বার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে তাকে এ দেয়া হয় যাতে তিনি ওই সব প্রতিষ্ঠানকে ‘সুরক্ষা’ দিতে পারেন অর্থাৎ তিনি যাতে তাদের কাজের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ান তা দেখার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রে অন্য একটি মামলায় সিমেন্স স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশ টেলিফোন টেলিগ্রাফ বোর্ড (বিটিটিবি) প্রকল্পের আওতায় যাতে সুবিধা পান সেজন্য ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের তারা ঘুষ দিতো। বাংলাদেশে সব চেয়ে বড় নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপনে ২০০৩ সালে একটি দরপত্রে অংশ নেয় চীনা হার্বার।ওই প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দিতে এবং তিনি যাতে কোনো বাধা না হয়ে দাঁড়ান সেজন্য আরাফাত রহমান কোকো তাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন বলে একটি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

বিশ্ব ব্যাংকে কোকো-http://star.worldbank.org/corruption-cases/node/18728

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোকোর এই বিদেশে পাচার করা ২০ কোটির বেশি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর তাকেও ফিরিয়ে এনে মুদ্রাপাচারের জন্য আদালতের রায়ে প্রাপ্ত সাজা ভোগ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে গত মাসে অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় জাতিসংঘের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধবিষয়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ইউএনওডিসির (ইউনাইটেড নেশন অফিস অন অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম) অ্যাসেট রিকভারি শাখার বিশেষ সম্মেলনে অন্যতম এজেন্ডা ছিল বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত টাকা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা।