ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না আমি আমার দেশকে ফিরে কেড়ে নেব বুকের মধ্যে টেনে নেব কুয়াশায় ভেজা কাশ বিকেল ও ভাসান সমস্ত শরীর ঘিরে জোনাকি না পাহাড়ে পাহাড়ে জুম অগণিত হৃদয় শস্য, রূপকথা ফুল নারী নদী প্রতিটি শহীদের নামে—-

বুদ্ধ তুমি রবে তাদের মধ্যমনি হয়ে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার রহস্য এখন উন্মোচন হতে শুরু করেছে। এ হামলায় জড়িতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। আর তাদের মধ্যে আছে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য, মাদ্রাসাছাত্র ও রোহিঙ্গা নেতারা। ১৯৭১ সালে যেভাবে এই বাঙলায় গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সেই একই কায়দায় হয়েছে এই হামলা। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে লোক জড়ো করে বাস ও ট্রাক ভরে নিয়ে গেছে রামুতে হামলার জন্য। আর ধ্বংস করেছে বৌদ্ধ মন্দির-জ্বালিয়ে দিয়ে বাঙলার হৃদয়। আশ্রয়হীন করে তুলেছে শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধদের- ভেঙেছে গৌতম বুদ্ধের মূর্তি যে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মতো যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নয়-অহিংসার মধ্য দিয়ে, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে জয় করেছিলেন মানুষের হৃদয়- জয় করেছিলেন ধর্মীয় তীর্থ স্থান। আর তাকেই এবার ভেঙে ফেললো সেই হযরত মুহাম্মদের উগ্র অনুসারীরা- ধর্ম রক্ষায় যাদের কোনো প্রয়োজন ছিল না- নিরস্ত্র, নিরীহ ও নিরাপরাধ ওই বৌদ্ধদের ওপর এই হামলা চালানোর। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা ঘটিয়েছে এ ঘটনা। একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি দেখাতে চেয়েছে তার পুরনো চেহারা। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গারা। পুলিশের বরাত দিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে শনিবার বলা হয়, হামলাকারীদের ব্যবহার করা একটি ট্রাক গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চালক ও হেলপারসহ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাক চালক পুলিশকে জানায়, ঘটনার রাতে হামলাকারীদের নিয়ে কক্সবাজার থেকে রামুতে ট্রাকটি নিয়ে যান হেলপার রমজান আলী। এর আগে কক্সলাইন নামের একটি পরিবহনের বাসও আটক করা হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বৌদ্ধমন্দির, বসতবাড়ি ও দোকানপাটে হামলার সময় এসব ট্রাক-বাসে করে লোক আনা হয়।

ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার ছবি যুক্ত করার খবর প্রচারের পর প্রথম প্রতিবাদ মিছিল বের হয় রাত সাড়ে নয়টার দিকে। এর পর রাত সাড়ে ১০টার পর দিকে হঠাৎ করে বিভিন্ন যানবাহনে করে শত শত লোক রামুর দিকে যায়। তাদের কেউ গাড়িতে, ট্রাকে আবার কেউ মোটরসাইকেলে করে সেখানে যায়। বেশিরভাগ লোক আসে কক্সবাজার জেলা শহর আর আশপাশের এলাকা থেকে এবং একটু দূরের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে লোকজন যায় কক্সলাইনের গাড়িতে করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই খবরে বলা হয়, ওই সময় মোট ২৬টি গাড়িতে করে লোকজন রামুতে যায়। যার মধ্যে ১২টি কক্সলাইন পরিবহনের বাস, বাকিগুলো ট্রাক, খোলা জিপ ও ছোট-বড় পিকআপ। ৪০ থেকে ৪২টি মোটরসাইকেলে করেও লোক যায় সেখানে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানায়, কক্সলাইনের ওই গাড়িগুলো ভাড়া করে হামলাকারীদের আনার আয়োজন করেন স্থানীয় জামায়াতের একজন নেতা। তিনি ফোন করে নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়া থেকে লোকজনকে আসতে বলেন। গাড়িবহর নিয়ে সাদাচিং মন্দিরে হামলার নেতৃত্ব দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা খরুলিয়ার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ওরফে বাহাদুর। বাহাদুরকে ফোন করা হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। হামলা ও অগ্নিসংযোগে আরও ছিলেন শিবিরের কর্মী সোহরাব হোসেন, জামায়াতের কর্মী নুর মোহাম্মদ ও শিবিরের সাবেক নেতা সাইফুল ইসলাম। আর রোহিঙ্গা হাফেজ মোহাম্মদও ছিলেন হামলার নেতৃত্বে। তিনি আরাকানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এছাড়া রোহিঙ্গা নেতা জাবেদ ইকবাল, এনামুল হক, জহিরুল ইসলাম, হাসান মাসুদ, রাশেদুল ইসলাম ও তাজুল ইসলাম বৌদ্ধ মন্দির ও ঘর-বাড়িতে হামলা চালান। মাত্র ঘণ্টা খানেকের মধ্যে এভাবে সংগঠিত হয়ে কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে রামুতে গিয়ে এ হামলা চালানোতে সফলতার পরিচয় দিয়েছে জামাতি ও তাদের সহযোগীরা। অসাম্প্রদায়িক এই বাঙলার মাটিতে আবার লেপন করেছে কলঙ্ক চিহ্ন। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? আর কত কাল মার খাব আমরা নিরাপরাধ মানুষেরা-হায়েনার মতো থাবা মেলে কতোকাল ভাঙবে আমাদের হৃদয়। আর নয়-এবার প্রতিরোধের সময়। সম্মিলিতভাবে ওই ষড়যন্ত্রকারী দুষ্টচক্রকে এই বাংলার মাটি থেকে উচ্ছেদ করতে হবে।