ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। তার বিষয় ছিল- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পক্ষ নিয়ে সরকারকে হুমকি-ধমকি প্রদান। রাজ্জাককে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক করা হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রধান আইনজীবীর দায়িত্ব পালনকারী আব্দুর রাজ্জাককে পাশে বসিয়ে রেখেছিলেন তিনি। রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তা নিয়ে সরকারকে হুমকি দেন বিএনপির এই আইনজীবী। তিনি বলেন, রাজ্জাকের ওপর ‘আঘাত’ এলে আইনজীবীদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

যুদ্ধাপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যারিস্টার রাজ্জাকও গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর ওই সংবাদ সম্মেলন করেন খন্দকার মাহবুব। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার সময় একাত্তরে রাজ্জাকের ভূমিকা তুলে ধরে তার বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলেন ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের নেতা মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। একাত্তরে এই মিছবাহুর রহমানও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র শাখা ছাত্রসঙ্ঘের সদস্য ছিলেন। ওই ছাত্রসংঘের ক্যাডাররাই আল-বদর, আল-শামস গড়ে তোলেন যারা এদেশের মুক্তিকামী মানুষ ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেয় বাঙলার মা, মেয়ে ও গৃহবধূকে। কিন্তু মিছবাহুর ছাত্রসংঘ করলেও মুজাহিদ, নিজামী, গোলাম আযম, সাঈদী, মীর কাশেম ও রাজ্জাকের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেনি। তাই মানবতার শত্রুদের সঙ্গ আলাদা রাজনৈতিক আদর্শের রাজনৈতিক দল করেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ চিহ্নিত বড় বড় অপরাধী অর্থাৎ স্বাধীনতাবিরোধীদের মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয় ছিলেন তাদের বিচার শুরুর পর এখন তার নিচের কাতারের যুদ্ধাপরাধীদের আইনের আওতায় আনার তৎপরতা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। একাত্তরের ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজাকার মাঈনউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে গতকাল তা প্রসিকিউশনকে দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। এরই এক পর্যায়ে হয়তো ব্যারিস্টার রাজ্জাকের আমলনামার খোঁজ-খবর শুরু হয়েছে। একজন আইনজীবী হওয়ার সুবাদেই কী তার মানবতাবিরোধী অপরাধ পার পেয়ে যাবে? তিনি হয়ে উঠবেন নিষ্পাপ? বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা খন্দকার মাহবুবের কণ্ঠে সে ধরনের সুরই বেজেছে। তিনি বলেছেন, “একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাককে গোয়েন্দা নজরদারির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ভূমিকা রাখতে না পারেন, সে ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা সকলকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, একজন আইনজীবীর ওপর আঘাত এলে আমরা এটাকে সমগ্র আইনজীবীদের ওপর আঘাত বলে ধরে নেব।”

একজন যুদ্ধাপরাধীর প্রতি বিএনপির এই নির্লজ্জ সমর্থনে ব্যথিত হয়েছি। তবে আশাকরি, বিএনপির নেতা খন্দকার মাহবুবের হুমকিতে একাত্তরের কোনো যুদ্ধাপরাধী বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তার শাস্তির মধ্য দিয়ে শহীদের রক্তের ঋণ শোধ হবে- শান্তি পাবে তাদের আত্মা। বাংলাদেশের কলঙ্ক মোচনে তার যে কোনো বিকল্প নেই।