ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব আজ সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিসর বাড়িয়ে প্রথমবারের মতো অনগ্রসর জনগোষ্ঠী যেমন দলিত, হরিজন, বেদে ও হিজড়াদের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন খাতের জন্য ২২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছেন। এই অর্থ জিডিপির দুই দশমিক ১৮ শতাংশ। তিনি বলেছেন, “আমরা চেষ্টা করেছি এ দেশের যে সব জনগণ দারিদ্র সীমার নিচে রয়েছে তাদের দারিদ্র সীমার নীচ থেকে তুলে আনতে। তাই আমরা এ দরিদ্র অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সামাজিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে চাই।”

গ্রাম প্রধান এদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ৩০ দশমিক ১ শতাংশ এবং দেশের প্রায় ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারকে সরকারের বিভিন্ন নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের আওতায় এনেছেন বলেও জানান তিনি। মুক্তিযোদ্ধা সন্মানী ভাতা কার্যক্রমের আওতায় দেড় লাখ সুবিধাভোগীর জন্য ৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দেরও প্রস্তাব করেন এই মন্ত্রী। মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে এক লাখ ১২ হাজার জনে উন্নীত করে সাড়ে ৪২ কোটি বরাদ্দেরও প্রস্তাব রয়েছে এই বাজেটে। ২৪ লাখ ৭৫ হাজার বয়স্ক ভাতাভোগীর জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৯১ কোটি টাকা। ৯ লাখ ২০ হাজার বিধবা ও স্বামী ‘পরিত্যক্তা’ নারীর ভাতার জন্য ৩৩১ কোটি ২০ লাখ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় ৭ লাখ ৫০ হাজার নারীর জন্য মাসে মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়। পাশাপাশি ভিজিএফ কার্ডের সংখ্যা ৩ কোটি ১১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ৪২ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে থাকা এতিম শিশুদের মাসিক খোরাকি ভাতা ইতোমধ্যে ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ খাতে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি এতিমখানার শিশুদের জন্য জনপ্রতি মাসিক এক হাজার টাকা করে মোট ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। আগামী অর্থবছরে প্রতিবন্ধীদের জন্যও থাকছে ১৭০ কোটি টাকা। আর অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১২০০ কোটি টাকা, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ ও ‘আশ্রয়ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে ৬৫০ কোটি টাকা এবং ভিক্ষুক পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনগ্রসর দলিত, হরিজন, বেদে ও হিজড়া স¤প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই প্রস্তাবনা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। শিক্ষিত সুশীল সমাজের প্রতিনধি স্বয়ং অর্থমন্ত্রী। কিন্তু তার মনে কী করে দলিতদের, হরিজনদের ও হিজড়াদের উন্নয়ন ও তাদের অধিকারের চিন্তা এলো? আমরা যারা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তারা রাস্তায় হেটে যাওয়ার সময় কোনো হিজড়াকে দেখলে চুপি চুপি তাকে এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজি। অথচ আমরাই না এদেশের সবচেয়ে প্রগতিশীল জনগোষ্ঠী, সবচেয়ে মানবতাবাদী। কিন্তু তাদের প্রতি সামাজিক আমাদের বোধে নেই কেন? ধন্যবাদ অর্থমন্ত্রীকে ক্ষমতার রাজনীতি করেও তিনি কথিত ক্ষমতাহীন, সমাজের উপেক্ষিত শ্রেণীর অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। তার এই পথ চলা যেন আমাদের মাঝেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আমরা যেন সমাজের উপেক্ষিত এই শেণ্রীর প্রতি ভ্রুঁ কুচকে চলে না যাই। অন্তর দিয়ে দেখি তাদের সুখ-দুঃখ বেদনা।