ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর:

সর্বজনীন পর্যায়বৃত্ত পুনর্নিরীক্ষণ বা ইউপিআর জাতিসংঘ মানবাধিকার ব্যবস্থায় অন্তর্ভূক্ত একটি নব গঠিত কর্মপদ্ধতি। জাতিসংঘ সাধারন পরিষদ কর্তৃক ১৫ মার্চ ২০০৬ ইং তারিখের ৬০/২৫১ প্রস্তাবনার মাধ্যমে জাতিসংঘ মানবাধিকার ব্যবস্থায় নবগঠিত এই পদ্ধতি প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক ১৮ জুন ২০০৭ ইং তারিখের ৫/১ প্রস্তাবনার মাধ্যমে এই কর্মপদ্ধতি সুসম্পন্ন হয়। সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণের মাধ্যমে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ পর্যায়ক্রমে জাতিসংঘের ১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ক দায়বদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতার বাস্তবায়ন সম্পর্কে পুনরীক্ষণ করে। ইউপিআর এমন একটি সমন্বিত কর্মপদ্ধতি, যে পদ্ধতি জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র, মানবাধিকার পরিষদের সদস্য এবং পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আন্তঃআলোচনার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার চুক্তি সংস্থার (হিউম্যান রাইটস ট্রিটি বডি) কার্যক্রমের পরিপুরক হিসেবে কাজ করার জন্য এই পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; অনুকারক হিসেবে কাজ করার জন্য নয়।

সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর -এর মাধ্যমে জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং উন্ন্ধসঢ়;য়ন পর্যায়ক্রমে চার বছর অন্তর অন্তর পুনরীক্ষণ করা হয়। চার বছরের একটি কর্মপদ্ধতির দ্বারা ইউপিআর পরিচালিত হয়। ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ, যার উপর সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষন নির্ভরশীল, আত্ম-পুনরীক্ষণ এবং পুনরীক্ষণ থেকে উদ্ভুত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশসমুহের আলোকে নিয়মিত ফলো আপ করাসহ বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হয়ে এই কর্মপদ্ধতি পরিচালিত হয়। আঞ্চলিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠনসমুহ, জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমুহ, সেই সাথে বেসরকারী সংগঠনসমুহ (এনজিও), মানবাধিকার কর্মীবৃন্দ, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমুহসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করাসহ সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর কর্মপদ্ধতির সংশ্লিষ্ট স্তরে অংশগ্রহন করে।

সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর এর প্রথম চক্র শেষে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ পুনরীক্ষণের সর্বোত্তম অনুশীলন ও শিক্ষণীয় পাঠগুলোর ভিত্তিতে এই কর্মপদ্ধতির মোডালিটি ও পর্যায়ক্রমিকতা পুনরীক্ষণ করতে পারে।

সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর বছরে তিনবার (ফেব্র“য়ারী, মে এবং ডিসেম্বর) জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রসমুহকে নিয়ে বৈঠকে মিলিত হয় এবং প্রতি বৈঠকে ১৬টি করে সদস্য রাষ্ট্র অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিবেদন/উপস্থাপনা পেশ করে। তিন ঘন্টার এ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি পুনরীক্ষণ করে সুপারিশমালা প্রস্তুত করা হয়।

সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষন বা ইউপিআর কর্মপদ্ধতিতে অনুসরণীয় নীতিমালা এবং উদ্দেশ্যসমুহ:

সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কিছু অবশ্য পালনীয় নীতিমালা দ্বারা নির্দেশিত হয়।

নীতিমালাগুলো হলো:

ক) সকল মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সর্বজনিনতা, আÍনির্ভরশীলতা, অবিভাজ্যতা ও পারস্পারিক সম্পর্ককে জোরদার করা;
উদ্দেশ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং পারস্পরিক কার্যকর সংলাপের উপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত কর্মপদ্ধতি হিসেবে কাজ করা;
খ) সকল রাষ্ট্রের জন্য সমআচরন এবং সর্বজনিন সুযোগ নিশ্চিত করা;
গ) আন্তঃসরকারী প্রক্রিয়াসম্পন্ন, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রদের দ্বারা পরিচালিত এবং কর্মমুখী হওয়া;
ঘ) সকল সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পূর্নরূপে পুনরীক্ষণের আওতাভুক্ত করা;
ঙ) অন্যান্য মানবাধিকার কর্মপদ্ধতিসমুহের অনুকরণ না করে পরিপুরক হিসেবে কাজ করে ভারসাম্য বজায় রাখা;
চ) একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, স্বচ্ছ, অ-রাজনৈতিক, গঠনমূলক এবং দ্বন্দ্বহীনভাবে পরিচালিত করা;
ছ) মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্র অথবা মানবাধিকার পরিষদের কার্যসুচী অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে চাপিয়ে না দেওয়া;
জ) অতিরিক্ত দীর্ঘ নয়; এই কর্মপদ্ধতি অবশ্যই বাস্তবমুখী হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত সময়, মানবসম্পদ ও আর্থিক সম্পদ বিনষ্ট না করা;
ঝ) জরুরি মানবাধিকার পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে মানবাধিকার পরিষদের ক্ষমতা হ্রাস না করা;
ঞ) সম্পূর্নরূপে বিভেদহীন সম লিঙ্গীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা;
ট) সদস্য রাষ্ট্রের বিশেষত্ব ও উন্নয়নস্তরকে বিবেচনায় নেওয়া; এবং
ঠ) সাধারন পরিষদের প্রস্তাবনা ৬০/২৫১ এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের প্রস্তাবনা ১৯৯৬/৩১, সেই সাথে এই বিষযে মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক গৃহীতব্য অন্যান্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারী সংগঠনসহ (এনজিও) সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর এ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

ইউপিআর এর উদ্দেশ্যসমুহ:

ক) মাঠ পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন করা;
খ) রাষ্ট্রগুলোর মানবাধিকারের বাধ্যবাধগতা ও দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন করা এবং ইতিবাচক উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জসমুহ মূল্যায়ন করা;
সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সাথে আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যবস্থা করা;
গ) রাষ্ট্র এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাদের মাঝে সর্বোত্তম মতামত/চর্চা বিনিময় করা;
ঘ) মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতায় সমর্থন করা; এবং
ঙ) জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ, অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনের দপ্তরের মধ্যে পূর্ণ সহযোগীতা ও সংপৃক্ততায় উৎসাহিত করা।

উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমুহের (বিশেষত অনুন্নত রাষ্ট্রসমুহ) সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর কর্মপদ্ধতিতে অংশগ্রহন ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ফলো-আপের সুবিধার্থে “সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ স্বতঃপ্রবৃত্ত অছি তহবিল” এবং “অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য স্বতঃপ্রবৃত্ত অছি তহবিল” নামক দুটি আর্থিক কর্মপদ্ধতি গঠন করা হয়েছে।

ট্রইকাস (ঞৎড়রশধং):

একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রতিবেদক (ট্রইকা) প্রতিটি রাষ্ট্রের পুনরীক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা (ফ্যাসিলিটেট) করে। প্রতিটি রাষ্ট্রের পুনরীক্ষণের জন্য পৃথক পৃথক ট্রইকা গঠন করা হয়, যাদের জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক তাদের (জাতিসংঘের পৃথক পৃথক আঞ্চলিক দল হতে) মধ্য হতে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে মনোনীত করা হয়। ট্রইকা সদস্য মনোয়নে তিন সদস্যের মধ্যে এক সদস্য পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্র তার নিজ আঞ্চলিক দল হতে মনোনয়নের অনুরোধ করতে পারে এবং প্রয়োজনে শুধুমাত্র একবার এক সদস্যের পরিবর্তনের অনুরোধ করতে পারে। ট্রইকা সদস্যও কোন একটি বিশেষ পুনরীক্ষণ হতে নিজেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের দপ্তর ট্রইকা সদস্যদের কার্য সম্পাদনে পূর্ন সহায়তা প্রদান করে।

পুনরীক্ষণের পূর্বে পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রের তার সম্পর্কে লিখিত প্রশ্ন/বিষয়সমুহ উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এইসব প্রশ্ন/বিষয়সমুহ ট্রইকা বরারবর প্রেরিত হয় এবং এই প্রশ্ন/বিষয়সমুহ অবশ্য ইউপিআর এর তিনটি প্রধান ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হবে। ট্রইকা সেসকল প্রশ্ন/বিষয়সমুহ গ্রহণ করতে বাধ্য থাকে এবং সেগুলো শ্রেনী বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে। এই ক্ষেত্রে, ট্রয়কা কোনভাবে প্রশ্ন/বিষয়সমুহের অর্থ পরিবর্তন করবে না, এবং প্রশ্ন/বিষয়সমুহ অথবা পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি নির্ধারন করা হতে অবশ্য বিরত থাকবে। তৎপর, ট্রইকা, সেসকল প্রশ্ন ও তথ্যসমুহ ইউপিআর এর সেক্রেটারীর নিকট প্রেরণ করে, যা পর্যায়ক্রমে পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রের নিকট প্রেরিত হয়, তবে তা পুনরীক্ষণের ১০ কার্য দিবসের পূর্বে সম্পন্ন করতে হয়। এমনকি এই প্রশ্ন ও তথ্যসমূহ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র ও পরিদর্শক রাষ্ট্রকে অবগত করা হয়।

ইউপিআর কি ভাবে কাজ করে?

(ক) পুনরীক্ষণের পর্যায়ক্রমিকতা, বিন্যাস এবং ভিত্তি নিম্নে আলোচনা করা হলো:

পর্যায়ক্রমিকতা :

ইউপিআর চার বছরের একটি কার্যচক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ইউপিআর এর প্রথম চক্রের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে মানবাধিকার পরিষদ জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র পুনরীক্ষণের একটি কর্মপঞ্জিকা গ্রহন করে।

পুনরীক্ষণ ক্রম:

পুনরীক্ষণক্রমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমুহ সর্বজনিনতা এবং সমআচরন নীতি দ্বারা নির্দেশিত হয়। এছাড়া প্রস্তাবনা ৫/১ রাষ্ট্রসমুহের পুনরীক্ষণের অনুক্রম নির্ধারনের জন্য নিম্নলিখিত বিধানসূমহ প্রনয়ন করে:

ক) মানবাধিকার পরিষদের (হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল) সদস্য পদ বজায় থাকা কালীন পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্রসমুহ পুনরীক্ষিত হবে;
খ) মানবাধিকার পরিষদের প্রারম্ভিক সদস্য রাষ্ট্রসমুহ, বিশেষত যেসব রাষ্ট্রসমুহ এক অথবা দুই বছর মেয়াদের জন্যে নির্বাচিত হয়েছে, তাদের প্রথমে পুনরীক্ষণ করা হবে;
গ) পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রসমুহের সংমিশ্রণক্রমে পুনরীক্ষণ করা হবে;
ঘ) পুুনরীক্ষণের জন্য রাষ্ট্রসমুহ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত ভৌগলিক সমবন্টনকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।

পুনরীক্ষণের মানদণ্ড:

পুনরীক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্র নিম্নলিখিত মানদন্ডের মাধ্যমে নিরীক্ষিত হয় ঃ

ক) জাতিসংঘ সনদ;
খ) সর্বজনিন মানবাধিকার ঘোষনাপত্র;
গ) মানবাধিকার সংক্রান্ত চুক্তিসমুহ, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র যেসব চুক্তিসমুহের একটি পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র;
ঘ) মানবাধিকার পরিষদ নির্বাচনে ঐ রাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দিতা করার সময়ে কৃত অংগীকারসহ স্বেচ্ছাপ্রদত্ত অন্যান্য প্রতিশ্র“তিসমুহ; এবং
ঙ) প্রয়োগযোগ্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইন।

(খ) পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়া:

(১) ডকুমেন্টেশন:

তথ্য প্রস্তুতিকরণ পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ। তিনটি ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে রাষ্টসমুহ্র পুনরীক্ষিত হয়। এই ৩টি ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বতন্ত্র ও সুষম অবস্থান তুলে ধরে। এই প্রতিবেদনগুলো পুনরীক্ষণের ৬ (ছয়) সপ্তাহ পূর্বে সবার জন্য উম্মুক্ত করা হয়।

ক) পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তথ্যসমুহ (জাতীয় প্রতিবেদন):

একটি রাষ্ট্র পুনরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য জাতীয় প্রতিবেদন আকারে মৌখিক ভাবে অথবা লিখিত আকারে উপস্থাপন করবে, অবশ্য লিখিত প্রতিবেদন ২০(বিশ) পৃষ্ঠার অধিক হবে না। রাষ্ট্র যেন জাতীয়ভাবে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল ষ্টেকহোল্ডারের সাথে আলোচনা করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সে ব্যাপারে রাষ্ট্রকে উৎসাহিত করা হয়।

খ) জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) কর্তৃক সংকলিত জাতিসংঘের তথ্যসমূহ:

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) বিভিন্ন মানবাধিকার চুক্তি সংস্থার প্রতিবেদনভুক্ত তথ্য, বিশেষ পদ্ধতিসমুহ এবং জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক অন্যান্য প্রতিবেদনসমুহের সংকলন প্রস্তুত করে, অবশ্য তা ১০ (দশ) পৃষ্ঠার অধিক হবে না।

গ) জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত স্টেকহোল্ডারদের প্রতিবেদন/উপস্থাপনার সারাংশ:

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ইউপিআর এর অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের (সেইসাথে জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমুহ, বেসরকারি সংগঠনসমুহ এবং নাগরিক সমাজের কর্মীবৃন্দ) সরবরাহকৃত প্রতিবেদন/উপস্থাপনার সারাংশও প্রস্তুত করে। পুনরীক্ষণ কালে স্টেকহোল্ডারদের সারাংশ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

পুনরীক্ষণের জন্য তথ্যসমূহ প্রস্তুত করার সাধারণ নিদের্শনাবলী:

মানবাধিকার পরিষদের ৬/১০২ সিদ্ধান্তে সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণের অধীনে তথ্য প্রস্তুত করার কতগুলো নির্দেশনা প্রনয়ন করে। এই নির্দেশনাগুলো জাতিসংঘ মানবাধিকার সংক্রান্ত হাই কমিশনের দপ্তরসহ রাষ্ট্রসমুহ এবং স্টেকহোল্ডারসমুহ কর্তৃক তাদের বাধ্যবাধকতার অধীনে ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে প্রয়োগ করে, এবং পুনরীক্ষণের জন্য পেশকৃত তথ্যে নিম্নলিখিত বিষয়সমুহ অন্তর্ভুক্ত হবে:

ক) সরবরাহকৃত তথ্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি ও তথ্য প্রস্তুতি পর্ষদের কৃত পরামর্শ পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ননা;
খ) রাষ্ট্রের মানবাধিকার সংরক্ষন ও উন্নয়নের নিয়ামক পটভূমি ও কাঠামো, যেমন- সংবিধান, জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রনীত আইন, নীতি নির্ধারন, আইনশাস্ত্র, মানবাধিকার বিষয়ক অবকাঠামো এবং পুনরীক্ষণের মানদন্ডের আলোকে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাসমুহ;
গ) পুনরীক্ষণের মানদন্ডের আলোকে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাসমুহের বাস্তবায়ন, জাতীয় আইন এবং স্বেচ্ছা প্রদত্ত অঙ্গীকারসমুহ, জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমসমুহ, মানবাধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা, এবং মানবাধিকার পদ্ধতির সাথে সহযোগিতাসহ মানবাধিকার সংরক্ষন ও উন্নয়নের ভিত্তিসমুহ; এবং
ঘ) অর্জন, সর্বোত্তম চর্চা, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতাসমুহ সনাক্তকরণ।

প্রত্যেক রাষ্ট্র নিম্ন লিখিত তথ্যসমুহ চিহ্নিত/প্রদান করবে:

ক) প্রতিবন্ধকতা, চ্যালেঞ্জ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকারক্রমসমুহ, গৃহীত পদক্ষেপসমুহ এবং কৃত অঙ্গীকারসমুহ;
খ) সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রত্যাশাসমুহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য যদি কোন অনুরোধ থেকে থাকে;
গ) প্রাসংগিক বলে বিবেচিত অন্য যে কোন তথ্যসমুহ; এবং
ঘ) পরবর্তী পুনরীক্ষণের সময় পূর্ববর্তী পুনরীক্ষণকে অনুসরণ করা।

২. সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ কার্যদল (ওয়ার্কিং গ্রুপ):

সর্বজনীন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ বা ইউপিআর কার্যদল (ওয়ার্কিং গ্র“প) মাধ্যমে রাষ্ট্রসমুহের সঠিক পুনরীক্ষণ সম্পন্ন করে। পরিষদের (হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল) ৪৭ টি সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত ইউপিআর কার্যদলে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সভাপতি সভাপতিত্ব করেন। ইউপিআর কার্যদল প্রতি বছর দুই সপ্তাহ করে তিনটি অধিবেশনে মিলিত হয় এবং প্রতি অধিবেশনে ১৬ টি রাষ্ট্র হিসবে প্রতি বছর ৪৮টি রাষ্ট্র পুনরীক্ষিত হয়। ২০০৮ সালের এপ্রিলে ইউপিআর কার্যদল প্রথমবারের মত অধিবেশন আহ্বান করে।

এ সময় পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রসমুহ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তিন ঘন্টার একটি পারস্পরিক কার্যকর আলোচনা হয়। আলোচনা চলাকালীন সময়ে সদস্য রাষ্ট্রসমুহ এবং পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রসমুহ পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা এবং মতামত ও পরামর্শ প্রদানের জন্যে দুই ঘন্টা সময় পায়। অন্যদিকে, পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রও পুনরীক্ষণের জন্যে প্রস্তুতকৃত তথ্য কার্যদলের সামনে উপস্থাপন, রাষ্ট্রসমুহ কর্তৃক পূর্বে এবং পারস্পরিক কার্যকর আলোচনার সময় কৃত প্রশ্নসমুহ ও সুপারিশসমুহের প্রতিত্তোর প্রদান এবং সমাপ্তিসূচক মন্তব্যের মাধ্যমে পুনরীক্ষণ কার্যক্রম সমাপ্ত করার জন্য এক ঘন্টা সময় পায়।

ইকোসক এর কন্সালট্যাটিভ মর্যাদা সম্পন্ন বেসরকারী সংগঠনসমুহ (এনজিও) ইউপিআর কার্যদলের অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারে, কিন্তু পারস্পরিক কার্যকর আলোচনায় অংশ গ্রহন করতে পারে না।

৩. কার্যদল ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন(আউটকাম ডকুমেন্ট):

প্রতিটি রাষ্ট্রের পারস্পরিক কার্যকর আলোচনান্তে ইউপিআর সচিবালয়ের সহায়তায় এবং পুনরীক্ষিত রাষ্ট্রের পূর্ন অংশ গ্রহনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রইকা ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনসমূহ প্রস্তুতিতে সহযোগীতা করে। কার্যদল পুনরীক্ষণ শেষে ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘন্টার আগে নয় এমন সময়ে প্রতিটি ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন বিবেচনা ও গ্রহনের জন্য সর্ব্বোচ ৩০ মিনিট সময় বরাদ্ধ করে। কার্যদল রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন অধিকতর বিবেচনা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে তার নিজ বক্তব্য সম্পাদনার মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্য ২ (দুই) সপ্তাহ সময় প্রদান করে তা গ্রহন করে।

ইউপিআর ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন পুনরীক্ষণ কার্যপদ্ধতির সারাংশ, উপসংহারসমুহ এবং / অথবা সুপারিশসমুহ, এবং পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্র কর্তৃক কৃত সেচ্ছামূলক অংগীকারসমুহ ও প্রতিশ্রতিসমুহ অন্তর্ভূক্ত করে।

প্রতিটি পুনরীক্ষিত রাষ্ট্র ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনে অন্তর্ভূক্ত উপসংহার/সুপারিশসমুহের সাথে দ্বিমত পোষন করে কি না অথবা সমর্থন করে না এমন বিষয়গুলো নিম্নলিখিত পর্যায়ে চিহ্নিত করতে পারে:

(ক) কার্যদলের সভা চলাকালীন সময়ে;

(খ) কার্যদলের অধিবেশন এবং পরিষদের পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে; অথবা,

(গ) ফলাফল সম্বলিত প্রতিবেদন গ্রহনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভা চলাকালীন সময়ে।

ফলাফল সম্বলিত প্রতিবেদনে অন্তর্ভূক্ত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত চি‎িহ্নত সুপারিশসমুহ; সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র কর্তৃক অসর্মথিত চি‎িহ্নত সুপারিশসমুহসহ একই সাথে রাষ্ট্র কর্তৃক কোন মন্তব্য করা হয়ে থাকলে তা ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনে উল্লেখিত হবে।

৪. মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক কার্যদল ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনসমুহ গ্রহণ:

ইউপিআর এর কার্যদল কর্তৃক একবার গৃহীত হলে প্রতিটি পুনরীক্ষিত রাষ্ট্রের ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন মানবাধিকার পরিষদের নিকট প্রেরিত হয়। মানবাধিকার পরিষদ সাধারনত পরবর্তী অধিবেশনে এক ঘন্টা পর্যন্ত সময় বরাদ্ধের মাধ্যমে প্রতিটি ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনসমুহ বিবেচনা ও গ্রহন করে।

প্রস্তাবনা ৫/১ অনুসারে, প্রতিটি ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন গৃহীত হওয়ার পূর্বে:

ক) পুনরীক্ষিত রাষ্ট্রকে উপসংহারসমুহ/সুপারিশসমুহ, সেচ্ছামূলক প্রতিশ্র“তিসমুহ ও অংগীকারসমুহের বিষয়ে তার মতামত উপস্থাপন, এবং কার্যদলের পারস্পরিক কার্যকর আলোচনার সময় যে সকল প্রশ্নসমুহ ও বিষয়সমুহ যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি সেসবের প্রতিত্তোর প্রদানের সুযোগ প্রদান করা হয়;

খ) পুনরীক্ষিত রাষ্ট্র এবং পরিষদের সদস্য ও পর্যবেক্ষণকারী রাষ্টসমুহকে ফলাফলসমুহের উপর তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করা হয়; এবং

গ) অন্যান্য প্রাসংগিক স্টেকহোল্ডারদের (জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমুহ এবং ইকোসক মর্যাদা সম্পন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমুহ) সাধারণ মতামত প্রদানের সুযোগ প্রদান করা হয়।

ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনসমুহ গ্রহনের সময় যদি এবং যখন পুনরীক্ষণের কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে ফলো-আপ প্রয়োজনীয় হয়, সেই বিষয়েও পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

৫. পুনরীক্ষণসমুহের ফলো-আপ:

ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত উপসংহারসমুহ ও সুপারিশসমুহ, যা পুনরীক্ষিত রাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত, ইউপিআর ফলো আপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

ইউপিআর এর ফলাফল (আউটকাম) বাস্তবায়ন করা পুনরীক্ষিত রাষ্ট্রসমুহের প্রাথমিক দায়িত্ব (সেই সাথে পরিসমাপ্তি সমুহ এবং সেচ্ছাপ্রদত্ত প্রতিশ্র“তিসমুহ ও অংগীকারসমুহ); যাহোক, প্রস্তাবনা ৫/১ অনুযায়ী অন্যান্য স্টেকহোল্ডারসমুহ, সেই সাথে নাগরিক সমাজের কর্মীবৃন্দের সেসব ফলাফলসমূহ (আউটকাম) বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় রাষ্ট্রসমুহের সাথে পরামর্শক্রমে ও তাদের সম্মতিতে পুনরীক্ষণ ফলাফল বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়সমুহ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রসমূহকে সহায়তা প্রদান করে।

পরবর্তীতে, পুনরীক্ষন চক্র অন্যান্য বিষয়গুলোর সাথে- প্রতিটি রাষ্ট্রের সুপারিশমালার বাস্তবায়ন এবং, ইহার সমাপ্তি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোন রাষ্ট্রকে ইউপিআর কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রে সহয়োগীতা করতে উৎসাহিত করবার জন্য সকল প্রচেষ্ঠা করা সত্বেও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র কর্তৃক অবিরত এই পদ্ধতিকে অসহযোগীতা করার বিষয়ে আলোকপাত করবে।

কিভাবে সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ কর্মপদ্ধতির সাথে সংপৃক্ত হওয়া যায়?

পুনরীক্ষণের জন্য উপস্থাপনা প্রস্তুতকরণ, পুনরীক্ষণ সময়ে উপস্থিতি, এবং ইউপিআর -এর সুপারিশসমুহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফলো আপ সময়ে অবদান রাখার মাধ্যমে ইউপিআর এর প্রাসংগিক পর্যায়ে নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

ক. জাতীয় প্রতিবেদনসমূহ প্রস্তুতির সময় রাষ্ট্রের সাথে কাজ করে:

প্রস্তাবনা ৫/১ রাষ্ট্রকে একটি পুনরীক্ষণ পর্ষদের মাধ্যমে প্রাসংগিক সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে পরামর্শ প্রক্রিয়া কার্যকর করে তাদের পুনরীক্ষণের জন্য উপস্থাপিত তথ্য প্রস্তুতিতে উৎসাহিত করে। এই পদ্ধতি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমুহ, সেই সাথে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যথা- এনজিওসমুহ, মানবাধিকার কর্মীবৃন্দ, শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানসমুহ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমুহকে অন্তর্ভূক্ত করতে পারে।

জাতীয় প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে রাষ্ট্র এবং নাগরিক সমাজের সহযোগীতা ইউপিআর -এর অভিজ্ঞতায় এখন পর্যন্ত বৈচিত্র্যমূলক সর্বোত্তম চর্চা বলে প্রকাশ করে।


খ. স্টেকহোল্ডারদের প্রতিবেদন/উপস্থাপনাসমুহ:

প্রস্তাবনা ৫/১ জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) কর্তৃক স্টেকহোল্ডার উপস্থাপনার সারাংশ প্রস্তুতিতে সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তিকরণে স্টেকহোল্ডারদেরও পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রের উপর প্রতিবেদন/উপস্থাপনা পেশের আহবান করে। ওএইচসিএইচআর প্রণীত স্টেকহোল্ডার প্রতিবেদন/উপস্থাপনার সারাংশ তিনটি ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনের মধ্যে একটি, যার ভিত্তিতে পুনরীক্ষণ সম্পন্ন হয়। স্টেকহোল্ডার প্রতিবেদন/উপস্থাপনায় পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্র বিষয়ক বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

উল্লেখ্য, ওএইচসিএইচআর কর্তৃক সকল স্টেকহোল্ডার প্রতিবেদন/উপস্থাপনার একটি সারাংশ একটি ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। অধিকন্তু,জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) এর ওয়েবসাইটে ইউপিআর বিভাগে স্টেকহোল্ডার প্রতিবেদন/উপস্থাপনাসমুহ মুলরূপে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন/উপস্থাপনাসমুহের বিন্যাস:

স্টোকহোল্ডারদের ওএইচসিএইচআর এর নিকট প্রতিবেদন/উপস্থাপনা সরবরাহের জন্য আহবান করা হয়, যা:

ক)পরিষদের সিদ্ধান্ত ৬/১০২ এ স্থিরকৃত ইউপিআর এর অলোকে তথ্য প্রস্তুতির সাধারণ নির্দেশনাবলি অনুসরণ করে;
খ) ৫ (পাঁচ) পৃষ্ঠার অধিক নয়, স্টেকহোল্ডারদের বৃহত্তর জোটের ক্ষেত্রে ১০ পৃষ্ঠা;
গ) সর্ব্বোচ চার বছর মেয়াদের জন্য;
ঘ) জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষায় লিখিত, বিশেষ করে ইংরেজী, ফ্রেন্স অথবা স্পেনিস;
ঙ) প্রতিবেদন/উপস্থাপনার উদ্দেশ্য এবং কর্ম সত্তা একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে বর্ননা করে;
চ) অনুচ্ছেদ ও পৃষ্ঠা সংখ্যা উল্লেখসহ সাধারণ শব্দ বিন্যাসভুক্ত করে;
ছ) মূল বিষয়বস্তুগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে একটি সুচনা অনুচ্ছেদে অন্তর্ভূক্ত করে;
জ)উপস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট মূল শব্দসমুহ (কি ওয়ার্ডস) সূচিত করে;
ঝ) মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ কর্মপদ্ধতি অথবা মানবাধিকার চুক্তি সংস্থাসমুহের পর্যবেক্ষন ও সুপারিশসমুহের অনুলিপিকরন হতে বিরত থাকে;
ঞ) অন্যান্য সংগঠনের প্রতিবেদন হতে উদ্ধৃতিকরণ অথবা সংযুক্তিকরণ হতে বিরত থাকে।

এখানে বিশেষভাবে লক্ষনীয় যে:

ক) ৫ (পাঁচ) অথবা ১০ (দশ) পৃষ্ঠার অধিক প্রতিবেদন/উপস্থাপনা বিবেচিত হবে না;

খ) গৃহীত প্রতিবেদন/উপস্থাপনা জাতিসংঘের ৬ (ছয়) টি দাপ্তরিক ভাষার মধ্যে কোন ১ (এক) টি ভাষায় লিখিত না হলে তা বিবেচিত হবে না;

গ) উপস্থাপনা নির্দিষ্ট তারিখের পরে পেশ করা হলে তা বিবেচিত হবে না;

ঘ) সুস্পষ্টভাবে কটুক্তিমুলক ভাষা সম্বলিত প্রতিবেদন/উপস্থাপনা বিবেচিত হবে না।

কার্যদলের প্রতিটি অধিবেশনে উপস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য নাগরিক সমাজকে ওএইচসিএইচআর ওয়েবসাইটের ইউপিআর বিভাগের মাধ্যমে নিয়মিত পরামর্শ করার জন্য উৎসাহিত করে। সাধারনতঃ কার্যদলের অধিবেশনের ৭ (সাত) মাস আগে স্টেকহোল্ডার তথ্যসমুহ ওএইচসিএইচআর বরাবর পেশ করার জন্য উৎসাহিত করে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) কর্তৃক বিবেচিত হওয়া ও স্টেকহোল্ডার সংকলনে সম্ভাব্য অন্তর্ভূক্তিকরনে তথ্য পেশ করতে ইচ্ছুক নাগরিক সমাজ কর্মীদের তাদের প্রতিবেদন ই-মেইল: টচজংঁনসরংংরড়হং@ড়যপযৎ.ড়ৎম তে প্রেরণ করতে হবে। নাগরিক সমাজ প্রতিনিধিদের লিখিত কাগজে প্রস্তুতকৃত উপস্থাপনা ফ্যাক্স অথবা ডাকের মাধ্যমে ওএইচসিএইচআর এর সচিবালয়ে প্রেরন করতে অনুৎসাহিত করে, তবে যদি তাদের বৈদ্যুতিক মেইল এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে তারা +৪১(০) ২২ ৯১৭ ৯০ ১১ নাম্বারে ফ্যাক্স করে তাদের প্রতিবেদন/উপস্থাপনা পাঠাতে পারে।

স্টেকহোল্ডার তথ্য উপস্থাপনার প্রযুক্তিগত নির্দেশনা সম্পর্কে পরামর্শ করার জন্যও নাগরিক সমাজ কমীদের উৎসাহিত করে।

গ. সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ কার্যদলের অধিবেশনে অংশগ্রহণ:

ইকোসকের কনস্যালট্যাশন মর্যাদাসম্পন্ন এনজিওসমুহ একবার স্বীকৃতি প্রাপ্ত হলে ইউপিআর-এর কার্যদলের অধিবেশনে অংশগ্রহন করতে পারে, কিন্তু কার্যদলের সভায় মৌখিক বক্তব্য প্রদান করতে পারে না।

তথ্য অধিবেশনসমুহ:

ইকোসকের কনস্যালট্যাশন মর্যাদাসম্পন্ন এনজিওসমুহ একবার কার্যদলের অধিবেশনে অংশগ্রহন করার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হলে তারা কার্যদলের অধিবেশনে তথ্য অধিবেশন আয়োজন করতে পারে।

ঘ. মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহন:

ইকোসকের কনস্যালট্যাশন মর্যাদাসম্পন্ন এনজিওসমুহ একবার স্বীকৃতি প্রাপ্ত হলে মানবাধিকার পরিষদের নিয়মিত অধিবেশনে অংশগ্রহন করতে পারে, যেখানে ইউপিআর ফলাফল সম্বলিত প্রতিবেদন বিবেচিত ও গৃহীত হয়।

মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদন গৃহীত হওয়ার পূর্বে ইকোসকের কনস্যালট্যাশন মর্যাদাসম্পন্ন এনজিওসমুহকে সংক্ষিপ্ত সাধারন মন্তব্য করার সুযোগ প্রদান করা হয়।

ঙ. পুনরীক্ষণের ফলাফলগুলো ফলো আপ করা

প্রস্তাবনা ৫/১ রাষ্ট্রকে পুনরীক্ষণের ফলাফলসমুহ বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে আরোপ করে (উপসংহারসমুহ এবং সুপারিশসমুহ, এবং সেচ্ছাপ্রদত্ত প্রতিশ্র“তি ও অংগীকারসমুহসহ)। প্রস্তাবনা ৫/১ আরো উল্লেখ করেছে যে, নাগরিক সমাজের কর্মীসহ অন্যান্য প্রাসংগিক স্টেকহোল্ডারদেরও ফলাফলগুলো বাস্তবায়নে ভূমিকা রয়েছে।

নাগরিক সমাজ কর্মীবৃন্দ, সেই সাথে এনজিওসমুহ, একাডেমিয়া, গণমাধ্যম, শ্রমিক সংঘসমুহ এবং পেশাজীবী দলসমুহ ইউপিআর ফলাফল ফলো আপে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে, উদাহরনস্বরূপ:

ক) রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সত্তার (সেই সাথে সরকার, সংসদ, বিচার বিভাগ এবং এনএইচআরআই) সাথে সংপৃক্ততার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সহায়তা করে; জাতীয় আইন সংস্কার এবং জাতীয় নীতিমালা প্রনয়ন করার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ প্রায়শঃ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ইউপিআর ফলাফলসমুহকে রাষ্ট্রীয় সত্তার সাথে আলোচনার সময় ভিত্তি হিসেবে গ্রহন এবং নিজস্ব কর্মসূচী প্রনয়নেও ব্যবহার করে;

খ) মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং স্থানীয়ভাবে ইউপিআর ফলাফল বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপসমুহ পর্যবেক্ষন করে:

গ) ইউপিআর ফলাফলসমুহ রাষ্ট্রসমুহ কর্তৃক বাস্তবায়ন করার আবশ্যকতা, এবং জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকারসমুহ ভোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফলাফলসমুহকে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। বিষয় ভিত্তিক আলোচনা, গোল টেবিল বৈঠক, সেমিনার ও কর্মশালা, ইউপিআর ফলাফলসমুহ অনুবাদ ও প্রকাশ করে এবং জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমুহের সাথে কাজ করে, জাতীয় গনমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগনের মধ্যে ইউপিআর ফলাফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায়;

ঘ) পরবর্তী পুনরীক্ষণের জন্য তথ্য প্রস্তুতির জাতীয় সত্তার সাথে সংপৃক্ত হয়ে এবং

ঙ) জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ফলো আপ তথ্য প্রস্তুতি ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্যান্য নাগরিক সমাজ কর্মীকে সহযোগিতা করে ইউপিআর ফলাফলসমুহ বাস্তবায়নে স্টেকহোল্ডাগন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মানবাধিকার হাইকমিশন দপ্তরের তথ্যসম্পদসমুহ:

সর্বজনিন পর্যায়বৃত্ত পুনরীক্ষণ সংক্রান্ত ওয়েব পেইজ:

কার্যদলের অধিবেশন সংক্রান্ত তথ্যসমুহ ও সা¤প্রতিক সংযোজনসমুহের জন্য নাগরিক সমাজ কমীবৃন্দদের জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ওয়েব সাইটের ইউপিআর পরিচ্ছেদে নিয়মিত পরামর্শ করার জন্য উৎসাহিত করে।

মানবাধিকার পরিষদের ওয়েব পেইজ:

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশন সংক্রান্ত তথ্যসমুহ ও সা¤প্রতিক সংযোজনসমুহের জন্য নাগরিক সমাজ কমীবৃন্দদের জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ওয়েব সাইটের মানবাধিকার পরিষদ পরিচ্ছেদে নিয়মিত পরামর্শ করার জন্য উৎসাহিত করে। অধিবেশন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য প্রতিটি নিয়মিত অধিবেশনের ২ (দুই) সপ্তাহ পূর্বে ওয়েব পেইজে প্রকাশ করা হয়।

এক্সট্রানেট:

এক্সট্রানেট মানবাধিকার পরিষদের হোমপেইজের সাথে সংযুক্ত থাকে। নিম্নলিখিত বিষয়সমুহসহ কার্যদলের প্রতিটি অধিবেশনের নির্দিষ্ট তথ্যসমুহ ইউপিআর এর উৎসর্গীকৃত (ডেডিকেটেড) এই পেইজে অন্তর্ভুক্ত থাকেঃ

১. অধিবেশনে পুনরীক্ষিত (পুনরীক্ষণাতব্য) রাষ্ট্রসমুহ;
২. যেসব প্রতিবেদনসমুহের ভিত্তিতে পুনরীক্ষণ হয়েছিল/ হবে;
৩. পুনরীক্ষণের পূর্বে মানবাধিকার পরিষদ সদস্য রাষ্ট্রসমুহ কর্তৃক পুনরীক্ষণাধীন রাষ্ট্রসমুহ বরাবর পেশকৃত প্রশ্নসমুহ;
৪. পুনরীক্ষণের সময় সদস্য ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রসমুহ কর্তৃক প্রদত্ত মৌখিক বক্তব্য; এবং.
৫. কার্যদল কর্তৃক গৃহীত ফলাফল সম্বলিত ডকুমেন্ট/প্রতিবেদনসমুহ।

পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত এক্সট্রানেট পেইজে প্রবেশাধিকার পেতে সহজলভ্য অনলাইন ফর্ম পুরন করুন। যখন আপনি অনলাইন ফর্ম পুরুন করবেন, তখন আপনি ই-মেইলের মাধ্যমে একটি ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড পাবেন।

ওয়েবকাস্ট:

মানবাধিকার পরিষদ ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে কার্যদলের অধিবেশন সরাসরি দেখতে পারা যায়। ওয়েবকাস্ট সাইটে পূর্ববর্তী অধিবেশনসমুহের ভিডিওসমুহ সংরক্ষিত রয়েছে। ওয়েবকাস্ট দেখার জন্য আপনার উপযুক্ত সফ্ধসঢ়;টওয়্যার ডাউনলোড করার প্রয়োজন হবে।

ওয়েবকাস্ট পরিসেবাটি জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটের মানবাধিকার পরিষদ পেইজে পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্রঃ Working with United Nations Human Rights Programme