ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ সরকার নারী উন্নয়নে কিছু আইন প্রনয়নসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তা শুধু কাগজে কলমেই রয়ে গেছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন আমরা খুব কমই দেখতে পাই। আইনে পতিতাবৃত্তি নিশিদ্ধ থাকলে ও বাস্তবে আমরা দেখতে পাই দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারের গোচরেই বেশ কিছু পতিতালয় রয়ে গেছে। আইন অনুযায়ী পতিতাদের সরকাররে পূনর্বাসন করার কথা কিন্তু সরকার এ বিষয়ে উদাসীন ভূমিকা পালন করছে।

নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ, খুন, অপহরণ, পাচার, এসিড নিপে, ফতোয়াবাজী, প্রতারনা, লাঞ্চনা ইত্যাদি বন্ধে বাংলাদেশ সরকার আঙ্গিকার বদ্ধ। এব্যপাওে দেশে বেশ কিছু আইন প্রনীত হলেও,সেসব আইন বাস্তবায়ন খুবই দূর্বল ও অকার্যকর। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মজুরীসহ বাৎসরিক ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, দিবা যত্ন কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতের কথা থাকলেও নারী শ্রমিকরা নুন্বতম মানসম্পন্ন কর্মপরিবেশ পায়না। বরং কর্মে ক্ষেত্র অহরহ তারা ধর্ষনসহ নানাবিধ যৌন হয়রানীর শিকার হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায় এবং বিচার চাইতে গেলে চাকুরী চ্যুতিসহ বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয়।এমন কি শিক্ষা ক্ষেত্রেও নারীরা শিকক্ষ ও সহপাঠী কর্তৃক বিভিন্নভাবে ধর্ষন ও যৌন হয়রানীর শিকার হয়ে থাকে।

সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে নারীরা সর্বদা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। একজন মা দশ মাস গর্ভে ধারন করে প্রচন্ড কষ্ট সহ্য করে একজন সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মায়া মমতা দিয়ে লালন পালন করে তাকে বড় করে তোলে। কিন্ত অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রের উক্ত মা তার অভিভাবক হন না, অভিভাবক হন তার বাবা। আবার উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষ সমান অংশ লাভ করেন না। একই মা-বাবার সন্তান হওয়া সত্তেও এক জন ছেলে এক জন মেয়ের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পায়। সিডও সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র যেখানে সবক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ, সেখানে বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সরকার এভাবে এখনো নারী পুরুষের মধ্যে বৈষম্য করে চলেছে।

বাংলাদেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সরকারকে অনেক পথ পারি দিতে হবে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করলেই শুধু চলবে না, শুধু সভা সমাবেশে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে তা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সরকারককে তা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিক হতে হবে। এ জন্য সিডও সনদের সাথে সংগতি রেখে আইন প্রনয়ন করতে হবে । শুধু আইন প্রনয়ণ করে বসে থাকলে চলবে না তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে এবং সকল ক্ষেত্রে তা কঠোরভাবে অনুসরন করতে হবে। এছাড়া, সমাজের সকল স্তরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহনের মাধ্যমে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের মনোভাব গঠন করতে হবে । তবেই নারী তার পূর্ন অধিকার ভোগ করতে পারবে এবং সমাজে নারীর ধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।