ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আজ অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ২৪ এ “কঙ্গোর যুদ্ধবাজ নেতা লুবাঙ্গার ১৪ বছরের জেল” শীর্ষক খবর পড়ে আমার কিছু স্মৃতি কথা মনে পড়ে গেল। ২০০১১ সালের এপ্রিল মাসের কোন একদিন, ঠিক মনে করতে পারছি না, আমি উপস্থিত আছি নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কঙ্গোর যুদ্ধবাজ নেতা লুবাঙ্গার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্য গ্রহন করছে। সরাসরি নয়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। সুদূর কংগো থেকে একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিচ্ছে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। অভিযুক্ত লুবাঙ্গা বসে আছেন বিচারকদের ডান পাশে তিন লাইন বসার জায়গার শেষ লাইনে। তার সামনে দুই লাইনে তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী ও পরামর্শদতাগন। দরজার পাশে একজন পুলিশ সদস্য দাড়িয়ে। ক্লিন শেভ, তেল চিক চিকে কালো স্যুট পরিহিত মাঝারি বয়সের একজন স্মার্ট মানুষ। দেখে বুঝার উপায় নেই যে তিনি একজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী, যার নির্দেশে হাজার হাজার শিশুকে যুদ্ধে অংশগ্রহন করতে বাধ্য করা হয়েছে। তার হাতে নেই হাত করা বা পায়ে ডান্ডাবেড়ি। এমনকি তাকে দাড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে না, কাঠগড়ার কথা তো বাদই দিলাম। বিচারকদের বামপাশে সরকারী পক্ষের আইনজীবীগন তিন সারি বসার স্থানে বসে। যেখান থেকে তারা সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করছে। বিচারকদের সামনে এক সারিদের বিচারক সহকারীগন বসে। আর আমরা দর্শনার্থীরা সামনে কাঁচ ঘেরা দেওয়ালের অপর পার্শ্বে সারিবদ্ধ আসনে বসে আছি। চারদিকে পিনপতন নিরবতা। সামনে বিশাল বিশাল টিভি স্কিন। সরাসরি অথরা টিভি স্কিন যেটা ইচ্ছে সেভাবে বিচারকার্য দেখার অপুর্ব সুযোগ। বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে আগাম তথ্য জানার জন্য প্রকাশিত লিফলেট, বুকলেট সহজ লভ্য। মাঝে মাঝে প্রাইভেট সেশন, যদি রাষ্ট্রপক্ষ বা আসামী পক্ষ মনে করছে যে সাক্ষ্যের বিষয়গুলো সর্বসাধারনের জন্য প্রকাশ করা ঠিক হবে না, তবে দর্শনার্থীদের সামনের পর্দা নামিয়ে দেওয়া, সকল টিভি স্কিন বন্ধ এমনকি শব্দও বন্ধ। আদালতের পরিবেশ দেখলেই মনটা ভরে যায়। কেমন যেন ন্যায় বিচার, ন্যায় বিচার একটা পরিবেশ। যেখানে আসামিকে আসামী হিসেবে ট্রিট করা হয় না। যেখানে আসামীর জন্য কোন কাঠগড়া নেই। নেই আসামীর হাতে হাত করা বা পায়ে ডান্ডাবেড়ি। সেই আদালত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে লুবাঙ্গাকে ১৪ বছরের জেল সাজা প্রদান করেছে। আজ কঙ্গোর জনগন ন্যায় বিচার পেয়েছে।