ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আজ আমি এমন একটি সময়ে এই পোস্টটি লিখছি যখন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা জোরপূর্বক গুম করা, নির্যাতন করা, তথা কথিত ক্রসফায়ার আর এনকাউন্টারের নামে বিনা বিচারে হত্যা করা, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, শ্রম অধিকার কর্মী ও সাংবাদিকের উপর হামলাসহ ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে খুব গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের মত মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম ক্রিটিকাল অবস্থা দেশে বিরাজমান যা দেশ বিদেশে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই লিখার মাধ্যমে আমি আমাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সংক্রান্ত গত চার বছরের (২০০৯-২০১২) পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার :

১। অন্তর্ধান/গুম:
অন্তর্ধান/গুম এবং রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়টি বর্তমান সময়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং আলোড়ণ সৃষ্টি করেছে। এ সময় পরিবারের সদস্য কর্তৃক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী উর্দি পরিহিত বা সাদা পোশাকে অধিকাংশ ভিকটিমকে গুম করার অভিযোগ করার পর নির্যাতনের দৃশ্যমান চিহ্ন যেমন হাত-পা বাঁধা অথবা আঙ্গুলের নখ উপড়ানো অবস্থার কিছু বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূতপূর্ব আইন প্রণেতা এবং বিরোধী দল বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও তার গাড়ী চালক এবছর এপ্রিল মাসে র‌্যাপিট একশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) কর্তৃক অপহরণ পূর্বক জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটি এর সংগঠক আমিনুল ইসলাম গত ৪ এপ্রিল ২০১২ ইং তারিখে নিখোঁজ হন এবং দুইদিন পর গুরতর নির্যাতনের চিহ্ন সম্বলিত তার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০১২ ইং সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৫১ জন ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছে যার মধ্যে ২৫ জনের মৃত দেহ উদ্ধার হয়েছে।

২। নির্যাতন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড:
ব্যপক সমালোচনা সত্বেও নির্যাতন ও বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড চলমান রয়েছে । যদিও বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইস্তেহারে নির্যাতন ও বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করবে বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছে কিন্তু বাস্তবে তার কোন প্রমান পাওয়া যায় না। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০১২ ইং সালের জুন মাস পর্যন্ত ৫২৫ জন ব্যক্তি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

চলবে…।