ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক নির্যাতনের কারনে মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নারী ও শিশুই প্রধানত পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পারিবারিক নির্যাতনের ভয়াবহতা ও ব্যপ্তি শর-গ্রাম, ধনী- দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে স্পর্শ করছে। এর ধরন, প্রভাব ও কারণ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গবেষণা করেছে। এসব গবেষণার ফলাফল বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের পারিবারিক নির্যাতন চিত্র বোঝার জন্য প্রকাশিত এসব তথ্য থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিম্নে তুলে ধরছি:

প্ল্যান বাংলাদেশের প্রটেক্টিং হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত গবেষনায় দেখা যায় যে, ৪৯ শতাংশ নারী শারীরিক ও ৪২ শতাংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

আইসিডিডিআরবি কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশের শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ নারীর কোন না কোন ধরনের পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভের গবেষণা অনুযায়ী, চর থাপ্পড় পারিবারিক নির্যাতনের একটি বহুল প্রচলিত ধরন এবং শতকরা ৪৬ ভাগ বিবাহিত নারী স্বামী কর্তৃক এই বিশেষ ধরনের নির্যাতনের শিকার হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায় যে, ৬৮ শতাংশ নারী স্বামীর প্রহারের কথা কাউকে কখনো বলেনি।

ইউএনএফপিএ এবং আইসিআরডব্লিউ’র যৌথ গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রতিটি পারিবারিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ৫ ইউএস ডলার ব্যয় হয়।

কেয়ার কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায় যে, নারী নির্যাতনের ফলে প্রতিবছর ১৪ হাজার কোটি টাকার ওপর ব্যয় হচ্ছে, যা দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশের বেশী। নির্যাতনের শিকার নারীর পরিবার বছরে গড়ে ১১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় করছে। আর নির্যাতনকারীদের খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।

সুস্থ সমাজের জন্য নারী নির্যাতন বন্ধ হওয়া জরুরী। তাই আসুন সবাই মিলে পারিবারিক নির্যাতন বন্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।