ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

আবুল কালাম আযাদ, জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ দলের বিশিষ্ট নেতা। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে যার বড় পরিচয় একাত্তরে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষন করার খ্যাতি সম্পন্ন বাচ্চু রাজাকার। একাত্তরে মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ তার ফাঁসির রায় ঘোষনা করেছে। দেশের সকল ইলেক্ট্রনিক আর প্রিন্ট মিডিয়া এই ফাঁসির রায়ের খবরসহ একাত্তরে তার কর্মকাণ্ডের বিশদ বিবরণ প্রকাশ ও প্রচার করে নিজেদের ধন্য করেছে। আরো একধাপ এগিয়ে আওয়ামীলীগ ও বাম দলসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলসমূহ এবং একই ঘরনার বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং জাতীয়সহ বেসরকারী মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনসমূহ আজ আনন্দে আত্মহারা। দেশের মানুষের বহুদিনের প্রতিক্ষিত যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে অন্তত একজন রাজাকারের বিচার প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফাঁসির আদেশ হয়েছে। জাতি কলঙ্কমুক্ত হতে চলেছে। অচিরেই তার ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতি কলঙ্ক মুক্ত হবে।

আসলেই কি বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে? দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে? বিচার না করার সংস্কৃতি থেকে জাতি বেরিয়ে আসতে পারবে? হয়ত পারবে নয়ত না? কিন্তু একজনের জীবনের পরিসমাপ্তি হবে। যে কিনা একাত্তরে জঘন্য থেকে জঘন্যতম কর্মকাণ্ডের অপরাধে অপরাধী। কিন্তু তাতে কি???

সভ্য বিশ্ব যখন দিনে দিনে ফাঁসির মত নিষ্ঠুর সাজা থেকে বেড়িয়ে আসছে। আমরা তখন ফাঁসির মত সেসব নিষ্ঠুর সাজা দেখে আনন্দ উল্লাস করছি। হায়রে মানবতা!!! অপরাধের সাজা প্রদানের নামে একজন ব্যক্তির জীবন হরণ। তা ভবিষ্যতে অপরাধ নিরোধে কতটা কার্যকর? কতটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে? তারচেয়ে এই কুখ্যাত রাজাকারকে বাঁচিয়ে রেখে আমরণ জেলে বন্দী রাখা উত্তম ছিল না? মানবতার অপরাধের বিচার করতে গিয়ে আর একটি অমানবিক নিষ্ঠুর সাজা প্রদান থেকে আদালত কি বিরত থাকতে পারত না?

শুধু এইসব যুদ্ধাপরাধী নয়, সকল অপরাধীদের ক্ষেত্রেই ফাঁসির মত নিষ্ঠুর অমানবিক সাজার পরিবর্তে আমরণ জেলে বন্দী রাখার মত সাজা প্রদানে কি আদালত কখনো এগিয়ে আসবে না? অবশ্য আসবে!!! আসতে হবে!! সেদিন খুব বেশী দূরে নয় যেদিন আপামর জনগণ জেগে উঠবে ফাঁসির মত নিষ্ঠুর আর অমানবিক সাজার বিরুদ্ধে। আজ যেমন জাতি জেগে উঠেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। সেদিন খুব কাছে যেদিন বন্ধ হবে ফাঁসির এই মহোৎসব।