ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

তাজরিন ফ্যাশনে হত্যাকাণ্ডে (আমি দুর্ঘটনা বলব না, বলব হত্যাকাণ্ড) শতাধিক শ্রমিক (তার শ্রমিক নয় আমার ভাই, আমার বোন, আমার মা) নিহত হওয়ার দুমাস পেরুতে কিনা পেরুতে আবারো হত্যাকাণ্ড। আবারো আমার,মা-বোনের গগনভেদী চিৎকার, তীব্র আর্তনাদ, বাঁচার প্রবল আকুতি, সব পেরিয়ে তাদের শীর্ণ পোড়া শরীরের বাতাস ভারী করা তীব্র গন্ধ। কিন্তু কেন???

সন্তানের মুখে দুমুঠো ভাত অথবা বৃদ্ধ বাবা মায়ের ওষুধের ব্যবস্থা করার জন্য আমার মা আর বোন আজ এসেছিল স্মার্ট (কি সুন্দর/এডভান্স নাম) নামক এক পোষাক কারখানায়। যে কারখানায় তৈরী পোষাক রপ্তানী করে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। মালিকের বাগানবাড়ি, নিত্য নতুন নতুন মডেলের গাড়ী, মালিকিনি আর তার সন্তানদের নিত্য বিদেশ ভ্রমন আর ইচ্ছে মত শপিং করার অর্থ অর্জিত হয় যে মা বোনদের ঘামঝরা শ্রমে, তারা কে?

তারা মানুষ নয়, তারা শ্রমিক, তাদের আধুনিক দাসত্বের জীবন!!! তাইত তাদের মৃত্যুতে কারো কিছুই যায় আসে না, কারো মন একটুও কাঁদে না!!! না মা-আমি তোমাদের সন্তানের কথা বলছি না, না বোন-, আমি তোমাদের ভাই আর বাবা মায়ের কথা বলছি না। আমি বলছি তাদের কথা যারা তোমাদের ঘামে ভেজা শ্রম শোষণ করে ফুলে ফেঁপে আজ অন্ধ। আমি বলছি তাদের কথা আজ যাদের তোমাদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা!!!

তাইত যারা তোমাদের হত্যা করে তারা থাকে বহাল তবিয়তে, শুধু মাত্র কয়েকটা টাকা আর শান্তনা বানী দিয়েই তাদের দায়মুক্তি। তাদের কখনো বিচার হয় না, তাদের কখনো বিচার করা হয় না, তাদের কখনো বিচার হবে না!! তাদের কখনো শাস্তি হয় না, তার আইন-বিচার সব কিছুর উর্ধ্বে। তাইত তারা তোমাদের হত্যা করতে একটুও দ্বিধা করে না, হত্যা করে তোমাদের লাশের উপর দিয়ে মুনাফা অর্জন করতে তাদের লজ্জা হয় না।

কারণ তোমরা মানুষ নও, তোমারা শ্রমিক, শুধু শ্রমিক নও, শ্রম দাস, না না তোমরা আধুনিক শ্রম দাস!! তোমরা শক্তিবান নও, তোমরা শক্তিহীন!! তোমরা একটুতেই সব কষ্ট ভুলে যাও। তোমরা মালিকের কূটকৌশলের কাছে পরাজিত হয়ে একতাবদ্ধ হতে পার না। নিজের অধিকার বুঝে নিতে রুখে দাঁড়াতে পার না, কারণ তারা তোমাদের মেরুদণ্ডকে মেরুদণ্ডহীন করে রেখেছে।

আর সময় নেই, আর দেরি নয়, এখুনি তোমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। তোমাদের মা, বোন, ভাইয়ের রক্তের বদলা নিতে হবে। তাদের কাছ থেকে তোমাদের অধিকার বুঝে নিতে হবে। নতুবা অচিরেই তোমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।