ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

জেলায় জেলায় শিশু আদালত গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারী করে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য অভিনন্দন বর্তমান আওয়ামী সরকার অভিনন্দন পাওয়ারই যোগ্য। চারিদিকে যখন প্রতিনিয়ত একের পর এক মানবাধিকার লংঘনজনিত ঘটনা ঘটেই চলেছে, আর সরকারের প্রতি দেশ বিদেশের প্রতিনিয়ত অনুরোধেও সরকারের টনক নড়ছে না, ঠিক সেই মুহুর্তে দেশের প্রতিটি জেলায় শিশু আদালত গঠনের মত স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত বাস্তবয়ন করায় সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাতেই হয়। আর এ থেকে প্রতিয়মান হয় সরকার চাইলেই দেশের নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় অনেক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে, শুধু প্রয়োজন সরকারের আন্তরিকতা।

তবে জেলায় জেলায় শিশু আদালত গঠনই যতেষ্ট নয়, প্রয়োজন সুষ্টুভাবে আদালতগুলো যেন চলতে পারে তার সঠিক ব্যবস্থাপনা। শিশু আদালত যেন দালাল, টাউট- বাটপার আর দূর্নীতিবাজদের পদাচারণায় মূখরিত না হয়ে উঠে সেব্যাপারে সরকারকে অবশ্য কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। তাছাড়া, পুলিশ কর্মকর্তা যারা অপরাধের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে থাকে তারা যেন শিশুদের প্রাপ্ত বয়স্কদের সাথে মিল্যে না ফেলে সে ব্যপারে তাদের যতেষ্ঠ পরিমান কেয়াফুল হতে হবে। অন্যথায় যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শিশু আদালত গঠন করা হয়েছে তা অলীক স্বপ্নই হয়ে থাকবে……

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনু্যায়ী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ শিশু আইন, ২০১৩ এর ১৬ (২) ধারার ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রত্যেক জেলায় শিশু-আদালত গঠন করেছে । প্রত্যেক জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতকে শিশু-আদালত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন ও বিচার বিভাগ থেকে গত ১৩ এপ্রিল তারিখে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার বিষয়টি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো জেলায় একাধিক অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বিদ্যমান থাকলে ওই জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত, অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত বিদ্যমান না থাকলে অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম ও দ্বিতীয় আদালত বিদ্যমান না থাকলে অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালত শিশু-আদালত হিসেবে নির্ধারিত হবে।

এদিকে মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতকে শিশু-আদালত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শিশু আইনের ১৬(২) ধারার বিধান মোতাবেক কোনো জেলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ না থাকলে ওই জেলার জেলা ও দায়রা জজ তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে শিশু-আদালতের দায়িত্ব পালন করবেন।