ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছে নিহত পুলিশ দম্পতির বাসার শিশু গৃহকর্মী। আজ দুপুরে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও শিশু আদালত তাকে জামিন দেন।

দেশের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ ও প্রচার করেছে। খবরের সাথে যুক্ত করেছে শিশুটির একটি স্পষ্ট ছবি, যা দেখে সহজেই মেয়েটিকে সনাক্ত করা যায়। অর্থাৎ ভবিষ্যতে শিশুটিকে যে কেউ এক নজরে দেখেই সহজে চিনতে পারবে। ফলে সমাজে সে একজন ঘৃণিত অপরাধী হিসেবেই সবার মাঝে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এতে করে সমাজে তার বেঁচে থাকা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে।

শিশুটির ছবিটি প্রকাশ ও প্রচার করার পুর্বে আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো কি একবারও ভেবে দেখেছে যে ছবি প্রকাশ তার জীবনে কতটা ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে?সমাজ তাকে কিভাবে গ্রহণ করবে? সমাজে তার বেঁচে থাকা কতটা কঠিন হয়ে পড়বে?

হয়ত সংবাদ মাধ্যম তা ভেবে দেখেছে এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে শিশুটির ছবি প্রকাশের ফলে শিশুটির জীবনে কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। শ্রদ্ধা করি সংবাদ মাধ্যমের সিদ্ধান্ত।

কিন্তু শিশুটির ছবি প্রকাশের বিষয়ে আমাদের দেশে প্রচলিত আইন কি বলে?

২০১৩ সালের শিশু আইনের ২৮ (১) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ” শিশু-আদালতে বিচারাধীন কোন মামলায় জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কোন শিশুর ছবি বা এমন কোন বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটে প্রকাশ বা প্রচার করা যাইবে না যাহা সংশ্লিষ্ট শিশুকে শনাক্তকরণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।”

যদি আইনে শিশু আদালতে বিচার্য শিশুর ছবি প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া থাকে তাহলে কোন বিবেচনায় সংবাদ মাধ্যমগুলো শিশুটির ছবি প্রকাশ বা প্রচার করছে? তবে কি অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম আইন সম্পর্কে অবগত নয়!

যদি দেশে প্রচলিত আইন সম্পর্কে অবগত না হয়ে থাকে তবে আইন সংক্রান্ত বিষয় জড়িত রয়েছে এমন সংবাদ করা বা প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রে অবশ্য অবশ্যই আইন সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রয়েছে এমন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে নেয়া উচিত। অনথায়, সংবাদ মাধ্যম নিজের অজান্তেই আইনের লঙ্ঘন করে আইনের চোখে অপরাধীতে পরিনত হবে।

আর যদি আইন সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্বেও ইচ্ছে করে তা মানতে না চায় তবে বলার কিছু নেই……। শুধু একটি কথা বলতে পারি সমাজের আয়না যদি নিজেরা কলঙ্কিত হয় তবে বাকী থাকে আর কি?