ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনি সরকার খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। খবরটি শুনে খুব অবাক হয়নি। দুপরের দিকে শুনি ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগও এইবার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাতেও অবাক হয়নি। কিছুক্ষন পর শুনি পানির ড্রাম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিতে দেওয়া হয়নি। তখনো অবাক হয়নি। মনে হয় অবাক হতেই আমি ভুলে গেছি। শুধু আমি নই, আমার মত আম জনতা অনেকেই মনে হয় এখন অবাক হতে ভুলে গেছে। কারণ প্রতিদিন ককটেলের শব্দ শ্রবণ, পেট্রোল ঢেলে বাস পুড়ানোর ধোঁয়া সেবন, সাথে মানুষ পুড়ে কয়লা বানানোর ছবির সাথে খালেদা জিয়ার গুলাশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইণ্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াটা তেমন কোন বিষয় বলেই কেউ মনে করছে না।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোন আইনের বলে সরকার খালেদা জিয়া’র রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে? সরকারের কাছে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে তবে সরকার বড় জোড় খালেদা জিয়াকে গাড়ি পুড়ানো মামলায় গ্রেফতার করতে পারে। প্রকাশ্য আদালতে তার বিচার করতে পারে। কিন্তু তার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। খালেদা জিয়া’র রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে যে সাংবিধানিক অধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার খর্ব করা হয়েছে সে ব্যপারে আমরা এখনো নিরব কেন? বিশেষত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, নাশকতার ঘটনায় যে কমিশন বড় বেশী উদ্বিগ্ন, সেই কমিশন দেশের তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় এখনো এখনো নিরব কেন? আজব এই দেশ, আর আজব এই দেশের সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো!!!