ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

সকল মানুষই স্বাধীন সত্ত্বা নিয়ে জন্মেছে এবং মর্যাদা ও অধিকারের দিক থেকে সকলেই সমান। সকল মানবাধিকার নীতিমালাই সার্বজনীন, সার্বভৌম, অপরিবর্তনীয় এবং প্রত্যেকটি একে অন্যের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। যৌন সম্পর্ক ও যেন্ডার পরিচয়ে বিভিন্নতা থাকলেও প্রত্যেকটি মানুষের মর্যাদা ও মানবিকতা সমান এবং এই পরিচয় গুলোর ভিন্নতার কারণে তারা কোনভাবেই কোন বৈষম্যের বা কোন প্রকার নির্যাতনের শিকার হতে পারেন না।

লৈঙ্গিক পরিচিতি ও জেন্ডার পরিচয়ে পরিচিত সকল মানুষেরই প্রাপ্য সমমর্যাদা ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা নিশ্চিত করার জন্যে অনেক অগ্রগতিই সাধিত হয়েছে। অনেক দেশেই এখন যৌনতা, লৈঙ্গিক পরিচিতি ও জেন্ডার পরিচয়ে পরিচিতদের জন্যে সমতা ও বৈষম্যহীনতা এবং কোন ভেদাভেদ না করার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্যে আইন ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা রয়েছে।

তারপরও, প্রকৃত লৈঙ্গিক পরিচিতি ও জেন্ডার পরিচয়ের কারণে এখনো বহুসংখ্যক মানুষকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে হচ্ছে, যা সারা বিশ্বব্যপিই একধরণের মারাত্মক শংকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে আইন বহির্ভূত হত্যা, অত্যাচার, মন্দ আচরণ, যৌন হয়রানী ও ধর্ষণ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় অনুপ্রবেশ, হয়রানীমূলকভাবে আটক করা, কর্মের সুযোগ থেকে এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ছাড়াও অন্যান্য মানবাধিকার ভোগ করার ব্যাপারে মারাত্মক বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই্ সব অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোর সাথে সাথে জাতি, গোত্র, ধর্ম, শারিরীক বা মানসিক অক্ষমতা, অর্থনৈতিক, সামাজিক বা অন্যকোন দিক থেকেও ঘৃনা ও বৈষম্য সৃষ্টি করার মতো আরো অনেক বেশি মারাত্মক ঘটনাও ঘটে চলেছে।

অনেক দেশে ও সমাজে কোন ব্যক্তির ওপর সামাজিক রীতিনীতির নামে তার লৈঙ্গিক পরিচিতি ও জেন্ডার পরিচয়ের ওপর তাদের মনগড়া রীতি, আইন ও সন্ত্রাস চাপিয়ে দেয়া হয় এবং এর মাধ্যমে তাদের ব্যাক্তিগত অনুভূতি, সম্পর্ক ও তাদের পরিচিতির ওপর ভিন্ন নিয়ম চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। লৈঙ্গিক পরিচিতির ওপর নিয়মিত নজরদারীর বিষয়টি জেন্ডার ভিত্তিক সন্ত্রাস ও জেন্ডার অসমতার পিছনে একটা বড়ো কারণ হিসেবে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জেন্ডার সমতা, সমাজ, কমিউনিটি ও পরিবারে সহিংসতা রোধে বৃহত্তর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মনে করছে। এছাড়াও জাতিসংঘের মূল মানবাধিকার নীতিমালাগুলো সকল মানুষের লৈঙ্গিক পরিচিতি ও জেন্ডার পরিচয়ের কারণে কোন প্রকার বৈষম্য যাতে না করা হয় সেটা রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব বলে নিশ্চিত করেছে। তারপরও, লৈঙ্গিক পরিচিতি ও জেন্ডার পরিচয়ে কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ যথোপযুক্ত নয় এবং এবং সঠিকভাবে কাজও করছেনা।

এইসব সমস্যা সমাধানের জন্যে লৈঙ্গিক পরিচিতি ও জেন্ডার পরিচয়ের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা এবং এর কার্যকরী প্রয়োগ নিয়ে একটি সুনিবিড় ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনসমূহের অধীনে সমতা ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে সকলের জন্যে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্বের বিষয়টি অনুধাবন করা যথেষ্ঠ দুষ্কর বলে প্রতীয়মান হয়।