ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

03_DITF_08012016_0005

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজনে প্রতি বছরের ন্যায় এবার শুরু হয়েছে ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবারের মেলায় বিশ্বের পাঁচ মহাদেশ থেকে ২২টি দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অংশগহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মেলায় আসছে এবং বিভিন্নরকম পণ্য সামগ্রী ক্রয় করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিক্রেতারা আসল পন্যের নামে নকল পন্য বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে চলেছে।

গতকাল ভারতীয় একটি প্যাভিলিয়নে পন্যের উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ উল্লেখ ব্যতীত পণ্য বিক্রয় করতে দেখলাম। এ বিষয়ে বিক্রয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলে পন্যের উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ ছাড়াই তারা পন্য বিক্রয় করতে পারে বলে আমাকে জানান। প্রশাসন (বিএসটিএ) এ বিষয়ে অবগত বলেও তিনি জানান।

থাইল্যান্ডের অধিকাংশ প্যাভিলিয়নে চিনের তৈরি ব্যাগগুলো থাইল্যান্ডে তৈরি বলে বিক্রয় করছে। ভালভাবে যাচাই করে ব্যাগের বিতরে ছোট করে Made in China লিখাটি দোকানদারকে দেখালে তিনি আমার উপর প্রথমে ক্ষীপ্ত হয়ে বলতে থাকেন-“আপানার পছন্দ হলে নেন না হলে চলে যান, আমরা এইসব ব্যাগ থাইল্যান্ডে তৈরি বলেই বিক্রই করি”। আমি প্রতিবাদ করলে একসময় জৈষ্ঠ বিক্রেতা আমার হাত ধরে সরি বলে দোকান থেকে বের করে নিয়ে আসেন।

বাংলাদেশি কয়েকটি ক্রোকারিজ প্যাভিলিয়নে একটি কিনলে ১০টি ফ্রি প্রদান করছে। কিন্তু ফ্রি’র নামে কী দিচ্ছে? একজন দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি ফ্রি হিসেবে মালয়েশিয়ায় তৈরি একটি সনি টিভি দেখালেন। কিন্তু টিভিটি দেখে আমার মনে হলো না যে তা মালয়েশিয়ার তৈরি। তাই একটু যাচাই করে দেখলাম তা চিনের তৈরি। Made in China লিখাটি একটি ট্যাগ দিয়ে ঢেকে রেখেছে। বিষয়টি দোকানদারকে জানালে পারলে আমাকে ভষ্ম করে ফেলে। এ যেন চোরের মায়ের ডাঙ্গর গলা।

বিষয়গুলো আমি প্রশাসনকে জানাতে চাইলাম। কিন্তু অনেক খুঁজেও অভিযোগ কেন্দ্রের দেখা পেলাম না। তাছাড়া, আমার সাথে থাকা আমার একমাত্র সহধর্মীনিত মহা খ্যাপা আমার কাজকর্ম দেখে। শুধু নাকি আমি গায়ে পড়ে দোকানদারদের সাথে গণ্ডগোল বাঁধাচ্ছি। আর আমার নাকি নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর স্বভাব। এই স্বভাব না ছাড়তে পারলে নাকি মেলায় তার ইজ্জত থাকে না।

আমার মনে হয় প্রশাসন বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনেও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বিশেষ কোন কারনে। আর না যদি জেনে থাকে তবে তা প্রশাসনের ব্যর্থতা! এখনই যদি প্রশাসন বিষয়গুলো আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তবে অচিরেই ব্যনিজ্য মেলা দূর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করবে বলেই আমার ধারণা।