ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

সমকামি অধিকারকর্মী জুলহাস মান্নান ও মাহবুব তনয়, প্রগতিশীল লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়সহ বেশ কয়েকজন মুক্তমনা ব্লগার, লেখক ও অধিকারকর্মী ইসলামী মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর দ্বারা হত্যা ও হত্যার হুমকি পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সমকামি অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। যদিও তাদের কর্মকাণ্ড আগেও যে খুব বেশি প্রকাশ্য ছিল না তা নয়।

পহেলা বৈশাখে রংধনু র‍্যালীর মাধ্যমে বাংলা নব বর্ষ উদযাপন বা কোন কোন সময় নির্দিষ্ট কোন ঘরোয়া পরিবেশে আড্ডা, গান, মুভি প্রদর্শন অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। তারপরও সমকামি সম্প্রদায় অল্পপরিসরে হলেও মাঝে মাঝে তাদের অবস্থান বা অস্তিত্বের জানান দিত। যা সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অণুঘটক হিসেবে কাজ করত বলে আমার বিশ্বাস।

কিন্তু ইদানিংকালে সমকামি অধিকার বিষয়ক কর্মকান্ডের প্রতি রাষ্ট্রের কড়া নজরদারী আর ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুংকারের ফলে সমকামী অধিকারকর্মীরা আজ আত্বরক্ষার্থে লোকসমাজের আড়ালে। নিরাপদে অবস্থান করছে। আর যাদের পরিচিতিতি বা বৈদেশিক যোগাযোগ আছে তারা দেশের বাহিরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেষ্টায়।ছুটছে। আগে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত হোক, তাঁরপর অন্যসব অধিকার। যদি জীবন বাঁচে তবে অন্যসব অধিকার একদিন না একদিন অর্জিত হবেই। কিন্তু এভাবে যদি সমকামী অধিকারকর্মীরা নিরব হয়ে থাকে তাহলে কি তাদের অধিকার এ সমাজ, এ রাষ্ট্রে কখনো প্রতিষ্ঠা পাবে? পাবে না! তবে কি সমকামি সম্প্রদায় ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ থেকে অদৃশ্য থেকে অদৃশ্যতর হয়ে যাবে?