ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

নারী ও পুরুষ ব্যতীত তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া সম্প্রদায় সম্পর্কে আমাদের মনোভাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতিবাচক বললে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে বলে মনে হয় না। নিজ পরিবার ও সমাজে প্রতিনিয়ত বৈষম্য-অবহেলা-নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা যেন মানব সমাজের মধ্যে থেকেও অন্য গ্রহের কোন প্রানী হয়ে রয়েছে। ছোট-বড় সকল মানষের কাছে তারা ঘৃনিত ও ভীতিকর সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে বসবাস করছে।

যদিও শিশুকাল থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ পরিবার ও সমাজের বৈষম্য-অবহেলা-নির্যাতনের ফলে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে পারে না, তারপরও তাদের স্বভাব, চালচলন প্রভৃতি বিষয়ে তারা নিজেরাও দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারে না।

রাস্তা-ঘাটে চলাচলের সময় অথবা অফিস আদালত বা বাজারগ-ঘাত করার সময় অথবা শিশু সন্তানের জন্ম বা বিবাহের সময় হিজড়াদের সাক্ষাৎ পাননি এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সমাজে আছে বলে মনে হয় না। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিজড়াদের সাথে সাক্ষাতগুলি যে খুব বেশি সৌহাদ্যপূর্ণ নয়, বরং বিব্রতকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

হিজড়াদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য-অবহেলা-নির্যাতন নিররসন তথা সমাজে তাদের পূনর্বাসনের বিষয়ে দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলির দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে বাংলাদেশ সরকার সমাজে তাদের পূনর্বাসনের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহন করে।

হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের মাধ্যমে বিনা খরচে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, মাসিক অর্থ প্রদান, তাদের চাকুরি প্রদানসহ উপযুক্ত প্রশিক্ষণ শেষে নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রচেষ্ঠা অন্যতম!

কিন্তু অতীব দু:খের বিষয় হিজড়াদের পূনর্বাসনের জন্য সরকারের নেয়া প্রকল্পগুলি সম্পূর্নরূপে ব্যর্থ হতে চলেছে। কারণ স্বভাবগুনে হিজড়ারা নিজেরাই চায়না তাদের পূনর্বাসন হোক। গত দুমাস ব্যাপী দেশের বিভিন্ন জেলায় হিজড়াদের জন্য পরিচালিত বিউটিশিয়ান, দড়জিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষনে অংশগ্রহণকারী হিজড়াদের সাথে কথা বলে আমি শুধু অবাকই হয়নি, অনেক বেশি কষ্টও পেয়েছি। তাছাড়া, প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের উপর বিরক্ত ও মনোক্ষুন্ন হয়েছি।

কারণ উক্ত প্রশিক্ষণগুলোতে হিজড়ারা শুধুমাত্র উপস্থিত হয়ে প্রতিদিনের আর্থিক সুবিধা এবং ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এককালীন নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে। কিন্তু একজন হিজড়া প্রশিক্ষণের এক কনা কড়িও আত্ত্বস্থ করেনি। তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণের পূর্বে হিজড়াদের নিড অ্যাসেসমেন্ট করেছে বলেও মনে হয়নি।

সরকারের তালিকাভুক্ত একাধিক হিজড়ার সাথে কথা বলে দেখেছি- তারা পূনর্বাসিত হয়ে কর্ম করে খাওয়ার চেয়ে মানুষের নিকট থেকে চেয়ে, জোড় করে-অনেকটা চাঁদাবাজি করে খাওয়ায় নাকি তাদের জন্য শ্রেয়। তাছাড়া, ব্যবসায়, চাকুরী বা অন্য কোন কাজের মাধ্যমে সারাদিন পরিশ্রম করে -কর্ম করে যা উপার্জন করতে পারবে, তিন তালি দিলেই নাকি তাদের উপার্জন তারচেয়ে বেশী হয়। তাইত তারা পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হতে চায় না।

যদি তিন তালি দিলেই সব পাওয়া যায় তবে পরিশ্রম করে কি হবে? তাইত সরকারের এখনি উচিত হিজড়াদের পূনর্বাসনের বিষয়টি নতুন করে ভাবা। প্রয়োজনে নতুন কৌশল অবলম্বন করা।