ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

পাগল মনের ভেতরেই কেবলমাত্র এ ধরনের উপলব্ধি জন্মলাভ করতে পারে, শাখা প্রশাখা বিস্তার করতে পারে যে সমাজের আর দশটা মানুষের মত তাকে ভাবলে হবে না, ভাবতে হবে দেশ ও তার মানুষকে নিয়ে। কথা হলো শিক্ষা ও চাকরি লাভের উদ্দেশ্যই যেখানে কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন সেখানে খুবই গৌণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় ব্যক্তির নৈতিকতা, সামাজিকতা, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সর্বোপরি সৌজন্যবোধ। “লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে” টাইপের শ্লোগানের সাথে প্রতিটি শিক্ষাত্রীকে ধাতস্থ করানোর পাশাপাশি অভিভাবকের মানসিকতাও এর সমান্তরালে পরিচালিত করতে সমাজ তৎপর রয়েছে মোটামুটি ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমল থেকেই। আভিজাত্য আর টাকশাল সমৃদ্ধকরণ এদেশের শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মূল ভিত্তি। আর খাপটা হলো আলগা দেশপ্রেম ও মৌখিক মূল্যবোধের অশ্বডিম্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। বিসিএসে যার প্রতিফলন প্রথম থেকেই দেখতে পাই আমরা। কেন ফরেন অ্যাফেয়ার্স, পুলিশ, এ্যাডমিন ও কাস্টমস ক্যাডার পছন্দ তালিকার শীর্ষে থাকে তা এ অনুমানকে স্বতঃসিদ্ধ ভাবে প্রমাণ করে। ক্যাডার চয়েসের সময় নিজের মেধা, যোগ্যতা, সুযোগ, কাজের প্রকৃতি, দেশপ্রেম প্রভৃতি কারো ক্ষেত্রে শতকরা পাঁচ-দশ ভাগ প্রভাব ফেলেছে কিনা আমার প্রায় একশত ভাগ সন্দেহ রয়েছে। তাই যদি হত তাহলে সবার পছন্দ সূচীর প্রথমদিকে উল্লিখিত ক্যাডারগুলোই ঠাঁই পেত না। সেখানে বৈচিত্র থাকত একথা নিদ্বির্ধায় বলা যায়।

দু’চারজন যারা মানবিকতা মুল্যবোধ তাড়িত বলে দাবি করে থাকে তারাও তাদের নিজেদের অজান্তে বা পারিপার্শ্বিকতার চাপে পড়ে এগুলোর সাথে আপোস করে এবং দেখা যায় চাকরি জীবনে উভয় সংকটে নিপতিত হয়ে একদিকে যেমন ভবিষৎ (!) সুপ্রসন্ন করেত পারে না অন্যদিকে তেমন সুযোগ, সকলের সদিচ্ছা, পৃষ্ঠপোষকতা, জব সিকিউরিটি ও সর্বোপরি অনুকূল পরিবেশের অভাবে সঠিক কাজটি করা থেকে নিবৃত্ত থাকে। এতে করে প্রগতির চাকা সামনের দিকে না গিয়ে বরং সবেগে পেছনের দিকে ধাবিত হয় যার প্রতিচ্ছবি আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। দু’একটা উদাহরণ দেই। বিসিএস এ অন্তর্ভূক্তি মানেই সহজে ও কম পরিশ্রমে জনগণের টাকা লোপাট করার বৈধ লাইসেন্স হাতে পাওয়া। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেশন, ব্যাংক প্রভৃতি জায়গায় বেতন-পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও সেখানে একটি টাকা উপার্জন করতে গেলে শ্রম বিনিয়োগ করেত হয়। ক্যাডার সার্ভিসের এক একজন নিজেকে রাজা মনে করেন এবং নবাবজাদা ভেবে দেদারছে জনগণের অর্থ লোপাট করতে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। দু’চারজন ছাপোষা তথাকথিত ভদ্র ও সৎ কর্মকর্তা যারা আছেন তাদের কলিজা পুঁটি মাছের মত। কিছু করার ক্ষমতা তাদের এ যাবত কালের মধ্যেও সম্ভব হয় নি যখন আর কোনোদিন হবে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ শিক্ষার নিকুচি করি । এর থেকে মাঠে লাঙল চালানো ঢের উত্তম। কলম এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে ।পক্ষান্তরে লাঙল অন্যান্যদের সাথে ঐসব অসুস্থ কলম কর্মীদেরও খাবার সংস্থান করে।অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আমাদের সমস্ত জ্ঞান মূর্খতারই নামান্তর। আর এ মূর্খতাই আমাদের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করবে। ধিক এ সভ্যতা-শিক্ষা।