ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বেশ কিছুদিন ধরে কম খাচ্ছি, বাজারেও কমই যাচ্ছি , কিন্তু কিছুতেই যে কিছু হচ্ছে না ! দ্রব্যমূল্যের ঘোড়াটিকে কিছুতেই লাগাম পড়ানো যাচ্ছে না ! ধ্যাত ! দ্বিধায় পড়ে গেলাম! গুনীজনের উপদেশ মেনেও কেনো কিছু হচ্ছে না ? তবে কি আমিই শুধু কম যাই? অন্যরা উপদেশ শুনছেন না? ভাববার বিষয়। ভাবতে ভাবতে কিছু ব্যাপার দেখলাম, দেখতে দেখতে ভাবলাম… ভাবনা গুলো একসময় জট পাকিয়ে গেলো। জট খোলার একটা চেষ্টা অন্তত করা যাক!

আমার জানা মতে বাংলাদেশ হল ধান উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ! WFP এ প্রকাশিত BANGLADESH FOOD SECURITY MONITORING BULLETIN ( Aprl-Jun 2011) অনুসারে এ মৌসুমে আউশ, আমন, গম এবং বোরো উৎপাদন সন্তোষজনক । তথাপি ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে খাদ্যদ্রব্য মূল্যস্ফীতি (food price inflation) ১৪.৭ এ গিয়ে পৌঁছেছে , যা কিনা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ !

একজন উচ্চপদস্থ খাদ্য কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স (লিংক) জানায় এ বছর জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫.৫ মিলিয়ন টন চাল ও গম আমদানি করেছে যা কিনা গত বছরও ছিল ৩.০ মিলিয়ন টন। এর আগে ১৯৯৮/৯৯ অর্থ বছরে বন্যার কারনে এই আমদানির পরিমান ছিল ৫.৪ মিলিয়ন টন। অন্যদিকে জুলাই অর্থবছরে বাংলাদেশ সম্ভাব্য ৭০০০০০/৮০০০০০ টন ধান এবং ১ মিলিয়ন টন গম আমদানি করবে।

এবার আসি তেলের কথায় ! তেল খুব জরুরী একটা ইস্যু। তেলের রুপক অর্থ রয়েছে, তবে আমি এখানে রুপক –এ যাচ্ছিনা ! তেল সম্পর্কিত তাজা খবর হল IDB বাংলাদেশকে ২৫০ মিলিয়ান দলার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে। দিয়েছে, কারন বিপিসি চেয়েছে, পূর্বের অনুমোদিত ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণের অতিরিক্ত হিসেবে । এর মূল কারন হল এ অর্থবছরে বিপিসি ৬.৫ মিলিয়ন টন তেল আমদানি করবে যা কিনা ব্যবহার হবে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে। ( সূত্র-রয়টার্স)

এবার বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির একটা ক্ষুদ্র চিত্র দেখা যাক! জুন ২০১১ এর হিসাব অনুযায়ী মোট এক্সপোর্টের পরিমান ২৩৮৬.০৪ মিলিয়ন ডলার এবং ইমপোর্টের পরিমান ২৯১০.৪০ মিলিয়ন ডলার। ট্রেড ব্যালান্স দাঁড়ায় -৫২৪.৩৬ (পূর্বে এটা ছিল -১০৯৪.১৩ ) ।

সুতরাং সংশয়ের কোনো অবকাশ থাকে না যে বাংলাদেশ একটি আমদানি নির্ভর দেশ, যার খাদ্যদ্রব্য , তেল ইত্যাদি থেকে শুরু করে প্রায় অনেক জিনিসই আমদানি করতে হয়। এখন আসা যাক টাকা/ডলারের কথায়। খুব অল্প করেই বলি –

সরকারের প্রায় সব আমদানি ঋণপ্ত্র খোলা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক এর মাধ্যমে। এর জন্য ডলারের যে রেট ব্যাবহার করা হয় তা হল BC Rate। ইদানীং পত্র পত্রিকা পড়লে একটা ব্যাপার বেশ লক্ষ্য করা যায়-টাকার বিপরীত ডলারের ক্রমান্বয়ে মূল্য বৃদ্ধি। তার মানে টাকার ভয়াবহ দরপতন!(এর কারন বহুবিধ, তা আজ এখানে আলোচনা করলাম না ) গত ২০০৮ সালের শেষের দিকেও ডলারের BC ছিল ৬৯.২০ টাকা আর গতকাল পর্যন্ত এর সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ৭৫.৬০ টাকা , সর্বোচ্চ হল ৭৬.৪৫ টাকা । (এই হিসাব ১ ডলারের বিপরীতে টাকার )! বিগত শুধু জানুয়ারি মাসেই ডলারের দাম বেড়েছে ৪/৫ বার ! বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার রিজার্ভ যা কিনা কিছুদিন আগেও ছিল ১১ বিলিয়নের উপর, আমদানি চাপ মোকাবেলা করতে গিয়ে তা আজ ৯.৯০ তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে!

তো এতসব বলার কারন হল এ দেশে যদি সবই আমদানি করতে হয়, আর আমদানি মূল্য যদি এভাবে বাড়ে তাহলে আমরা আমজনতা বাজারে না গেলে, কম খেলে, কি করে দাম নিয়ন্ত্রনে থাকবে। (আমরা চাল ,গম, পেঁয়াজ খেলেও ফার্নেস অয়েল খাই না ! বুদ্ধিমানরা বুঝে নেবেন আশা করি আমদানি করা তেলের দাম বাড়লে কি করে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ে!)।

উল্লেখিত এত সব বিষয়ের পরও আছে বাজার সিন্ডিকেশন…ইত্যাদি ইত্যাদি… তার পর আছে আরেকটা বিষয়,কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ন হবার পরও আমরা এত আমদানি নির্ভর হলাম কেন ! থাক, এসব আলোচনায় নাইবা গেলাম , আবার মাথায় গিট্টু লেগে যাবে !