ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

ফোনের দুনিয়ায় হয়তো অ্যাপল এবং স্যামসাঙের সাথে মাইক্রোসফটের তুলনা করা যাবে না, কিন্তু ডেক্সটপ অপারেটিং সিস্টেমের রাজ্যে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার মতো পৃথিবীতে আর কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। তাই, মাইক্রোসফটের কোন সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রভাব অনেক বিস্তৃত এবং সুদূরপ্রসারী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

মাইক্রোসফটের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও সত্য নাদেলার অনেক সিদ্ধান্তই পুরোনো মাইক্রোসফটকে নতুন আলোয় চেনাচ্ছে। এই নতুন মাইক্রোসফট যেন আরো মন-খোলা, গ্রাহকের চাহিদা বুঝে অন্য প্রতিযোগী কোম্পানীর সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতেও যেন তার আগের মতো দ্বিধা নেই। এটা একটা বড় সুখবর।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, মাইক্রোসফটের গ্যারাজ প্রোজেক্ট। একটাকে বলা হয়ে থাকে ‘আফটার আওয়ার আইডিয়া ফ্যাক্টরি’। নামেই বোঝা যায় কাজের পরিধি। এই গ্যারাজ প্রোজেক্ট থেকে নতুন ধাঁচের অ্যান্ড্রয়েড লকস্ক্রীন, ওয়েদার অ্যাপ বা মাইক্রোসফ এক্সেলের জন্য বিশেষায়িত কীবোর্ডও বের হয়েছে। এখানে আইডিয়ার ‘উৎপাদন’ করতে আসেন হ্যাকার, ডেভেলপার, প্রোগ্রামার, উদ্ভাবক থেকে শুরু করে চিত্রশিল্পী এমনকি সঙ্গীতজ্ঞরাও।

এই নতুন মাইক্রোসফটের নতুন অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০। উইন্ডোজ ৮.১ এর ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে, ডেক্সটপ ব্যবহারকারীদের যথেষ্ট অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই নতুন অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজ ১০ এর ফীচারগুলো নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে, তবে সেসবের অধিকাংশই প্রশংসাসূচক।

এই প্রশংসার অন্যতম কারণ: প্রোজেক্ট স্পার্টান। প্রোজেক্ট স্পার্টান সম্পর্কে এককথায় বলতে গেলে, এটি উইন্ডোজ ১০ এর সাথে আসবে এবং এটি হবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের জায়গায় বসা নতুন ডিফল্ট ওয়েব ব্রাউজার। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার নিয়ে ব্যবহারকারীদের মাথাব্যথার কোনও শেষ ছিলো না। এবং, পারতপক্ষে না ব্যবহার করে পারলে এই ব্রাউজার কেউ ব্যবহার করেনও না। এটা নিয়ে ইন্টারনেটে অনেক মজাদার কৌতুক এবং মীম-ও তৈরি হয়েছে। এমন দুটো মীম নিচে দেখুন:

কে সবচেয়ে শক্তিশালী সেটা নিয়ে ক্রোম এবং ফায়ারফক্স যখন লড়াই করছিলো তখন বাচ্চা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার আঠা খাচ্ছিলো

ফটো

বেচারা স্লো ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার!

 

আশা করা যায়, এই সব মীম এবং কৌতুকের দিন এখন শেষের পথে। প্রজেক্ট স্পার্টানকে শক্তিশালী এবং সুন্দর করে তুলতে মাইক্রোসফটের চেষ্টার কোনও ত্রুটি নেই। এই উদ্দেশ্য সম্প্রতি মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি সিস্টেমস এবং ওয়েব ইঞ্জিনিয়াররা একসাথে মিলে প্রোজেক্ট স্পার্টানের লে-আউট, মোশন ও গ্রাফিকস ডিজাইন এবং টাইপোগ্রাফিকে উন্নত করে তুলছেন। এবং আমরা সবাই-ই জানি মোশন, গ্রাফিকস এবং ওয়েব ডিজাইনের জগতে অ্যাডোবির চেয়ে সেরা কেউ নেই। কারণ, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, ড্রীমউইভার এবং প্রিমিয়ার এগুলো সবই ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড এবং অ্যাডোবির পণ্য।

নিচে দেখুন প্রজেক্ট স্পার্টানের একটি স্ক্রীনশট:

Project-Spartan-Imaeg

প্রোজেক্ট স্পার্টান – ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের বদলি ওয়েব ব্রাউজার।

 

[প্রযুক্তিপ্রিয় সব পাঠকের উদ্দেশ্যে এই লেখাটা। এটি বিডিনিউজ২৪ ব্লগে আমার প্রথম লেখা। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।]