ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমাদের মহামান্য অর্থমন্ত্রী ও কতিপয় ব্যাংকার মিলে “পে-স্কেল” বানাইছেন এক খান! একেবারে রেইনবো পে-স্কেল-২০১৫! সহস্র রংধনুর অসম মিশ্রণে চরম বৈষম্যমূলক একটি পে-স্কেল হল “পে-স্কেল-২০১৫”! সারা দেশে সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যকার আন্তঃবৈষম্য সৃষ্টির কারণে ব্যাপক সমালোচিত একটি পে-স্কেল। ক্যাডার-আন্তঃক্যাডার-সরকারী ব্যাংকার-ননক্যাডার-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ তৃণমূল পর্যায় থেকে আন্দোলন করছেন মর্যাদার জন্য। এখানে মজার বিষয় হলঃ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন- আমরা সচিব বানাই; তাহলে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকরাও তো বলতে পারেন- আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাই, হাই স্কুলের শিক্ষক বানাই, কলেজের শিক্ষক বানাই ইত্যাদি। তারা তো আমাদের কাছে পড়েই এতো বড় শিক্ষক হয়েছে। সচিবরাও তো আমাদের কাছেই পড়েছে। মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী সবাই তো আমাদের কাছেই পড়েছে ই্ত্যাদি ইত্যাদি।

যদি তাই হয় তাহলে আমার প্রশ্নঃ এই প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের কেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বানিয়ে রাখা হয়েছে? না আছে তাদের উচ্চ মর্যাদা, না আছে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার মতো বেতন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমাজে একটা অবস্থান আছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ তো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন মাঝে-মধ্যেই! এক জন রাষ্ট্রপতির চেযে বেশী সম্মানীত বাংলাদেশে কেউ নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন প্রধানমন্ত্রীর সাথে পিঠপুলি খাচ্ছিলো, তখন হয়তো দেশের অনেক প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকরা না খেয়ে নিজেদের বেতন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছিলো অথবা নীরবে পাঠ দান করে যাচ্ছিলো যার যার স্কুলে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা হয়তো তাদের কাছে আকাশ-কুসুম ব্যাপার!

বর্তমান সমাজব্যবস্থায় এলিট ক্লাসের (এলিট একদিনে হয়না) সমস্যা হলো তারা যখন বড় হয়ে যায়, সমাজে একটু প্রতিষ্ঠিা পেয়ে যায়, তখন তারা অতীতকে ভুলে যায়। শেকড়ের কথা আর মনে থাকেনা অথবা মনে করতে চায় না। এই যে “বড়” হয়ে উঠেছি, এর পেছনে যাদের অবদান ছিল, যাদের নিরলস ও নিঃস্বার্থ শ্রম একটু একটু করে “বড়” করে তুলেছে তোমায়; তারা হয়তো ছোটই থেকে যায়, তাই ছোট মানুষ গুলোর দিকে ফিরে তাকানোর সময় আর তাদের হয়ে উঠে না। সুপ্রিয় পাঠক, আপনারা বলুন বড় কে? আমার এলোমেলো ভাবনা প্রকাশ করেছি একটা সহজ সমীকরণেঃ- প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ≥ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ≥ সচিব? তো আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে একটা জরীপ করতে চাই। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকগণের মর্যাদা বাড়ানো দরকার কি না? প্রাইমারী শিক্ষকগণের মর্যাদা বৃদ্ধিকরে যদি প্রথম শ্রেণির (চাকুরীতে) উন্নীত করা হয় তাহলে মেধাবীরা এতে (চাকুরীতে) আকৃষ্ট হবে। এসএসসি/ এইচএসসি পাশ করা শিক্ষক নয় বরং প্রথম শ্রেনী প্রাপ্ত/ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিতীয় শ্রেণি প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স করা স্টুডেন্টদেরকে উক্ত পদে নিয়োগদান করতে পারলে বাঙালী জাতির শিক্ষার মেরুদন্ড হবে আরো শক্ত ও টেকসই! আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি যত দ্রুত উপলব্দি করবে ততই বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির মঙ্গল। শিক্ষা মূলত রাষ্ট্রের জন্য মানব সম্পদ তৈরী/গড়ে তোলে আর শত বছর যাবত মুনাফা আসবে যে বিনিয়োগ থেকে সেটা হল সুশিক্ষা।

slide

সুপ্রিয় পাঠক, আপনারা বলুন বড় কে?