ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

trumps-utopian-conference

কল্পিত কন্ফারেন্স হওয়ায় বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্য থাকাটা নিতান্ত কাকতাল মাত্র!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই হোয়াইট হাউজ এর ওভাল অফিসে জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্প রুদ্ধদ্বার, গোপন বৈঠকে বসেছেন CIA, FBI, পেন্টাগনসহ শীর্ষস্থানীয় সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের সাথে। ইউটোপিয়ান সেই বৈঠকের আলাপচারিতার মাধ্যমে আমরা জেনে যাব, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়াম্বরতা আসলে কতটা মাকাল ফল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদটি ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেমের কাছে কতটা অসহায়ঃ

ট্রাম্পঃ কানখুলে শুনে রাখেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হল বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ISIS ধংস করা। কোন দেরি করা চলবে না।
CIA: আমরা এটা করতে পারবো না, স্যার। আমরাই টার্কি, সৌদি আরব, কাতার আর অন্যান্যদের নিয়ে ওদের তৈরি করেছি।
ট্রাম্পঃ ডেমোক্রেটরা তৈরি করেছে ওদের!
CIA: আমরাই করেছি, স্যার। ওদেরকে আপনার প্রয়োজন আছে, এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস এর লবি’রা ফান্ডিং বন্ধ করে দিবে।
ট্রাম্পঃ পাকিস্তানকে টাকা দেয়া বন্ধ করো। ইন্ডিয়াকেই ওদের সাথে বুঝতে দাও।
CIA: আমরা এটা করতে পারবো না, স্যার।
ট্রাম্পঃ কেন?
CIA: ইন্ডিয়া তাহলে পাকিস্তান থেকে বালুচিস্থানকে স্বাধীন করে ফেলবে।
ট্রাম্পঃ এতে আমার কিছু আসে যায় না।
CIA: কাশ্মীর এ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ওরা আমাদের অস্ত্র কেনা বন্ধ করে দিবে। ইন্ডিয়া ধীরে ধীরে সুপার পাওয়ারের পরিণত হবে। সুতরাং ইন্ডিয়াকে পাকিস্তানের সাথে ব্যস্ত রাখার জন্যই আমাদেরকে পাকিস্তানকে টাকা দিয়ে যেতে হবে।
ট্রাম্পঃ আচ্ছা তাহলে তোমাদেরকে তালেবান অবশ্যই ধংস করতে হবে।
CIA: আমরা এটাও করতে পারবো না, স্যার। আমরা ৮০’র দশকে ওদের তৈরি করেছিলাম রাশিয়াকে ঐদিকে ব্যস্ত রাখার জন্য। এখন ওরা পাকিস্তানকে ব্যস্ত রাখছে যেন ওরা পারমানবিক বোমায় হাত না দিতে পারে।
ট্রাম্পঃ আচ্ছা তাহলে টেররিজম স্পন্সর করে এমন দেশগুলোকে আমাদের মধ্যপ্রাচ্য থেকে ধংস করতেই হবে। সৌদি আরবকে দিয়ে শুরু করো।
পেন্টাগনঃ স্যার, ওটা করা যাবে না। আমরা ওদের রাজতন্ত্র তৈরি করেছি যেন ওদের তেলের ভাগ আমরা পাই। ওখানে গণতন্ত্র আসতে দেয়া যাবে না, স্যার। গণতন্ত্র আসলেই জনগণ আমাদেরকে তেল এর ভাগ দেয়া বন্ধ করে দিবে।
ট্রাম্পঃ আচ্ছা, তাহলে ইরান এ আক্রমণ করি চলো।
পেন্টাগনঃ আমরা ওটাও করতে পারবো না, স্যার।
ট্রাম্পঃ কেন না?
CIA: আমরা ওদের সাথে কথা বলছি, স্যার।
ট্রাম্পঃ কী? কেন?
CIA: আমাদের স্টীলথ ড্রোনগুলো ফেরত নিতে হবে। আমরা যদি ওদের আক্রমণ করি তাহলে রাশিয়া এসে ওদের পুরোপুরি ধংস করে  লবে, যেমনটা ওরা সিরিয়াতে করছে আমাদের দোস্ত আইসিস এর সাথে। এছাড়া ইজরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যও ইরানকে আমাদের দরকার আছে।
ট্রাম্পঃ আচ্ছা তাহলে আরেকবার ইরাক আক্রমণ করো।
CIA: স্যার আমাদের বন্ধুরা (আইসিস) তো ইতিমধ্যে ইরাকের তিনভাগের এক ভাগ দখল করেই রাখছে।
ট্রাম্পঃ তাহলে পুরো ইরাক নয় কেন?
CIA: না স্যার। ইরাকের ঐ নামকাওস্তা সরকার আমাদের দরকার আবার আইসিস্কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
ট্রাম্পঃ আমি মুসলমানদের আমেরিকাতে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করবো।
FBI: আমরা এটা করতে পারবো না, স্যার।
ট্রাম্পঃ কেন না?
FBI: তাহলে আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে ভয় জিনিশটা আর থাকবে না।
ট্রাম্পঃ যত অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট আছে সবাইকে আমি ম্যাক্সিকোতে পাঠিয়ে দেবো।
বর্ডার পেট্রোলঃ আপনার এটা করা ঠিক হবে না, স্যার।
ট্রাম্পঃ কেন না?
বর্ডার পেট্রোলঃ স্যার, ওরা চলে গেল বর্ডারে ওয়ালে বানানোর জন্য লেবার আপনি কোথায় পাবেন?
ট্রাম্পঃ আচ্ছা আমি ঐ H1B ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করে দিচ্ছি।
USCIS: এটা করতে পারবেন না, স্যার।
ট্রাম্পঃ কেন?
চীফ অব স্টাফঃ আপনি এটা করলে স্যার আমাদের হোয়াইট হাউজের কাজ করার জন্য আউটসোর্স এ পাঠাতে হবে বাঙ্গালোর এ। বাঙ্গালোর ইন্ডিয়াতে স্যার।
ট্রাম্প (ঘামতে ঘামতে জবুথবু অবস্থা ততক্ষণে): তাহলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি কী বসেবসে ভেড়েন্ডা ভাঁজবো? নাকি বাটা মরিচের বোটা বাছাই করবো?!
CIA: আপনি হোয়াইট হাউজ উপভোগ করেন, স্যার। আমরা সবকিছু সামাল দিবো। আপনি কোন টেনশন করবেন না।

মোর‌্যাল অব দ্যা স্টোরি হলো- আসলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সিস্টেম/স্ট্রাকচারের বাইরে গিয়ে তেমন কিছু করার স্কোপ থাকেনা। এই সিস্টেমই প্রেসিডেন্টে/প্রধানমন্ত্রীর হাত-গলা-টুটি চেপে ধরার জন্য যথেষ্ঠ। অনেকটা আপনা মা’সে (মাংসে) হরিণা বৈরি’র মত অবস্থা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবেগ-অনুভুতি-নৈতিকতা’র কোন স্থান নেই। জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকরণই যেকোন স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নির্ধারক!