ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

এমনিতেই আমি স্ব‍ার্থপরদের কাতারের সামনের দিকের মানুষ…তার ওপর বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে আরো স্বার্থপর করে তুলেছে…যেমন বাসে উঠেই জপতে থাকি আল্লাহ এই বাসে যেনো বোমা না মারে আর বাস থেকে নামার পরেই আমার সহযাত্রীদের কথা বেমালুম ভুলে যাই…ভাবখানা এমন এইবার বাসে বোমা হামলা হলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না…বাসে উঠে দরজার কাছের সিটে বসবার জন্য হুড়োহুড়ি করি…যেন আগুন দিলে সবার আগে বেরিয়ে যেতে পারি…ছিঃ কী নিষ্ঠুরই না করে তুলেছে আমাকে মৃত্যু চিন্তা…
গতকাল রাতে বোমার হাত থেকে নিজেকে রক্ষার প্রার্থণা বাক্য আওড়াতে আওড়াতে বাসে করে বাড়ি ফিরছি…হঠাৎ খিলক্ষেতের একটু আগে বাসটা ভয়ানক ব্রেক কষে থেমে গেলো… বলা নেই কওয়া নেই বাস থেমে যাওয়ায় চমকে উঠেছে যাত্রীরা…হুড়োহুড়ি করে নামছে সবাই…
জানালার পাশটায় বসাতে আমি দেখতে পেলাম সামনের প্রাইভেট কারটি থামাতেই এই হঠাৎ ব্রেক কষা… কিন্তু যারা দেখেনি তারা নামছে হুড়োহুড়ি করে…গ্রাম থেকে আসা একটি পরিবার বসেছে বাসের একেবারে শেষ দিকে…ওরাও দেখলাম তাড়াহুড়া করে নামার চেষ্টা করছে…সঙ্গে অনেকগুলো ছোট বাচ্চা…
ভীড় ঠেলাঠেলিতে একটা বাচ্চা হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো, ‘বাজান আমারে নিয়া যাও’…বাবাকে বাজান ডাকাটা আমি শুধু বাংলা নাটক-সিনেমাতেই শুনেছি…বাস্তবে গতকালই প্রথম শুনলাম…বাচ্চাটার ডাকের কারণেই হোক অথবা বাজান শব্দটির কারণেই হোক আমার মুখ দিয়ে সঙ্গে বেরিয়ে এলো, ‘আল্লাহ এই পরিবারটির কেউ যেনো পুড়ে না মরে’…বিড়বিড় করেই কথাগুলো আওড়ালাম আর নিজের স্বার্থপরতার পরিবর্তে অন্যকারো মঙ্গল চিন্তায় চমৎকৃতও হলাম…
তারপর রিকশায় চড়ে যখন বাসায় ফিরছি তখন শুধু নূর হোসেনের পিঠে লেখা জ্বলেজ্বলে অক্ষরগুলো অন্যবাক্যে চোখে ভাসছিলো আমার…তখন দেখতে পাচ্ছিলাম নূর হোসেনের পিঠে লেখা….
‘গনতন্ত্র নিপাত যাক, মানবতা মুক্তি পাক’…..