ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যু তদন্তে একটি কমিটি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে এর পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর সঙ্গে আরাে ২২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনেছেন রোগীদের স্বজনরা।

হুমম। হয়তো এদের কারোর মৃত্যুর জন্যই চিকিৎসকদের অবহেলা দায়ী নয়…প্রত্যেকের মৃত্যুই হয়তো হয়েছে একবোরে অমোঘ নিয়তির টানে….আবার হয়তো বা না…আমি এ তর্কে যেতে চাই না…আমি শুধু আমার একটা আশঙ্কার কথা বলতে চাই…

আমি কখনো দেখিনি, শুনিনি বা জানিনি আমাদের দেশে কর্তব্যে অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার জন্য কোন চিকিৎসক আইনি শাস্তি পেয়েছেন…আমার অভিজ্ঞতা বলে, যখনই কোন অভিযোগের তীর চিকিৎসকদের দিকে ছোঁড়া হয় তারা সঙ্গে সঙ্গে সবাই এক হয়ে যান…

তখন তাদের আচরণ হয় ‍অনেকটা নিজের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামা গার্মেন্টস শ্রমিকদের মতন…তারা গাড়ি ভাঙচুর করেন…রাস্তা আটকে রাখেন…এর বাইরে তারা আরো কয়েকটি কাজ করেন, যা আমাদের খেটে খাওয়া শ্রমিক ভাইরা করার কথা স্বপ্নেও কল্পনা করেন না…

তারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন…ধরে ধরে সাংবাদিক পেটাতে শুরু করেন ( সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডাক্তারদের আজন্ম রাগ। কারন এই র্নিলজ্জ শ্রেণীটা বরাবরই বেশি কথা বলে কীনা)…যে রোগীরা প্রাণ বাঁচাতে তাদের কাছে ছুটে এসেছিলেন সেই রোগীরই মৃত্যুর কারন হয়ে দাঁড়ায় তাদের আন্দোলন…তারা মূহুর্তেই প্রাণ ফিরিয়ে দেয়ার ভগবানের রূপ থেকে অসুরের রূপে অর্বিভূত হন…

নিজের স্বার্থের কথা বলতে গিয়ে অনেক সুশীল চিকিৎসককেও দেখেছি নিজের ভদ্রতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে…আর মাথা নেড়ে বলতে, ‘শালার সব দোষ ডাক্তারদের। এ দেশে থাকাই উচিত না’ (তাদের কথা শুনে বোঝাই যায়, তারা বিশ্বাস করেন নিতান্তই দয়াপরবশ হয়ে তারা এদেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।)

তাই বলছিলাম কী শুধু শুধু এসব তদন্ত কমিটি করে কী লাভ হবে বলুন…তদন্ত কমিটির রিপোর্টে যদি আল্লাহ না করুক ডাক্তারদের অবহেলার কারন উঠে আসে তাহলে কিন্তু মৃতের সংখ্যা এমনিতেই ৩২-এর জায়গায় ৬৪ হতে ২৪ ঘন্টাও সময় লাগবে না…তাও আবার সঙ্গে লিখতে হবে বিনা চিকিৎসায়…