ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 
index

আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ মারা গেছেন…তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান আয়োজনের তােড়জোড় চলছে…এই চান্সে আমিও দুই এক পিছ জ্ঞান ঝাইড়া ফালাই…লি কুয়ান ইউ অনেকের কাছে ‘হ্যারি’ লি নামেও পরিচিত…লি কুয়ান ইউ-কে বলা হয় আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক। কারণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট একটি বন্দর শহর থেকে সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত করার রূপকার এই ভদ্রলোক।

কোন অদ্ভুত কারনে আমাদের দেশের মানুষ দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত করার ক্ষেত্রে হরহামেশাই মালয়েশিয়ার মাহথির মোহাম্মদের নাম আওড়ালেও এই ভদ্রলােকের নাম আমি কখনো কারো মুখে শুনিনি…তবে লি কুয়ান আর মাহথিরের একটা জায়গায় খুব মিল। এরা দুজনেই দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরোধী দলকে দমন-নিপীড়ন করেছেন খুব শক্ত হাতে। তবে এই দমন নিপীড়নের দৌড়ে লি কুয়ানের চেয়ে এ দেশের মানুষের স্বপ্নের নেতা মাহথির খুব সম্ভবত কিছুটা এগিয়ে।

এক সমাবেশে লি কুয়ান বলেছিলেন, ‘সিঙ্গাপুর যেই শাসন করুক, তাকে আমার মতোই কঠোর হতে হবে, তা না হলে সেই চেষ্টা বাদ দিতে হবে। আর যতক্ষণ আমি দায়িত্বে আছি, কেউ এটাকে টলাতে পারবে না। একবারে শূন্য থেকে শীর্ষে পৌঁছানোর দেশগুলাের মূলমন্ত্র বোধকরি এটাই।সাম্প্রতিক সময়ে মুখ থুবড়ে পড়া লিবিয়ার উন্নতির কারিগর গাদ্দাফির বক্তব্যও ছিল অনেকটা একই রকম।

আমাদের দেশের টকশোজীবিরা কথায় কথায় মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টানলেও কখনোই তাদের এই উন্নয়নের পেছনের ঘটনা সর্ম্পকে খুব একটা ঝেড়ে কাশেন না। তারা শুধু আনন্দ খুঁজে পান কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য পেট্রোল বোমা ছোঁড়াটাই যে একমাত্র সমাধান ইনিয়ে বিনিয়ে সেই তথ্য প্রতিষ্ঠার যুক্তির বুলি আওড়িয়ে।

নিজের দেশকে মালয়শিয়া-সিঙ্গাপুর বানাতে চান তাহলে তাদের উন্নয়নের নীতিখানাও খুব ভালােভাবে জেনে নিন। শুধু গােলাপের গন্ধ শুকবেন কিন্তু কাঁটার খোঁচা খাবেন না তাতো হবে না। মাহাথির বা লি কুয়ান এ দেশে কেনো জন্মালো না এই আক্ষেপ না করে, তারা যে পথ ধরে এগিয়েছে সেই পথে দেশের সরকার এগোলে নিজে সহ্য করতে পারবেন কিনা সেটা আগে ভেবে দেখেন।

ভালো কথা সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা কতো জানেন তো? মাত্র ৬!
ইয়া মাবুদ তুমি রহম কইরো…!