ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

প্রধানমন্ত্রী আমেরিকায় গেছেন ১১ দিনের লম্বা সফরে। যদিও সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তিনি জাতিসংঘে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষন দিবেন, কিন্তু সেটার জন্য এত লম্বা সফরের কোন মানে হয় না। যাওয়ার আগে যেভাবে তেল-গ্যাসের দাম বাড়িয়ে গেলেন তাতে বড় অংকের ঋণ নেয়ার জন্য আইএমএফের নিকট তদবির করতে যাওয়াই আসল কাহিনী মনে হচ্ছে। গত চার মাস তুলনায় তেলের দাম যেখানে নিম্নমুখী সেখানে তেল-গ্যাস লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধির পেছনে খারাপ অনেক কারন থাকার কথা। প্রথমত রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা উধাও মনে হচ্ছে, এর মানে উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন ছাড়াই এত অর্থ খরচের বাহ্যিক কোন হদিস মিলছে না। সরকার ভুর্তুকি কমানোর নামে (!) বড় অংকের অর্থ জনগনের থেকে আদায় করলেও সেটা কোথায় ব্যয় হচ্ছে সেটাও সরকার তুলে ধরতে পারছে না। আর যেখানে বৈদেশিক মুদ্রার আগমন এখনো মোটামুটি ভালো, আবার সরকারী হিসেবে যেখানে রফতানী ভালো হচ্ছে সেখানে টাকার মান কমে যাচ্ছে, অথচ তেমন বড় কোন কলকারখানা বা ভালো ব্যবসা বাণিজ্যের খবরও মিলছে না। এছাড়া সরকারের প্রথম বছরে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্ত (২৮৬.৫ কোটি ডলার) থাকলেও গত অর্থবছরে (২০১০-১১) অদ্ভুতভাবে সেখানে বড়সড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে (৬৮.৫ কোটি ডলার), যেটা গত একযুগ ধরে উদ্বৃত্ত বজায় রেখেছিলো। তারমানে কি এটাই যে দেশ থেকে বিশাল অংকের অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে? সেটা কারা, কিভাবে পাচার করছে সেটাও চাউর হচ্ছে না। এই পাচার হওয়া টাকার বড় একটা অংশ কি শেয়ার বাজার ধ্বংস করে আনা? এখন শোনা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে সরকার বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়াবে বা বাড়াতে বাধ্য হবে। টিআইবির দেবপ্রিয়র মতে দেশের রাস্তা-ঘাটের মতই অর্থনীতির বেহাল দশা হতে পারে। এরকম আর্থিক অবস্থায় বড় অংকের ঋণ করলে সেটার বোঝা শুধু কি আমাদের নিয়ে বেড়াতে হবে??