ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কিছু দিন আগেই নতজানু নীতি নিয়েও ভারতের কাছ থেকে তিস্তার নূ্ন্যতম হিস্যা আদায়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যাপক ঢাঁক-ঢোল বাজানো হয়েছিলো মনমোহন সিং-এর আগমন উপলক্ষে, অথচ চুক্তির খসড়া সম্পর্কে জানত না দলের নেতা-সাংসদরাই, মিডিয়াতো ছিলো অনেক দূরের বিষয়। একটা নির্বাচিত (!) সরকার প্রধানের কেন এই খসড়া প্রকাশে চরম অনীহা, সেটার ভেতরের কারন আজও আমরা জানি না। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ১১ দিনের লম্বা ও খরুচে (সবচেয়ে দামী হোটেলে থাকা) সফরে আমেরিকা গমন। সেটাও ব্যর্থতা ও লজ্জার চরম উপাখ্যান। চৌদ্দ ডক্টরেট ডিগ্রী ও ডিলিটসহ বেশ কয়েকটা সম্মাননা (নোবেলটাই এখন বাকি, সেটা যদি শান্তির মডেল দিয়ে চলে আসে!) পাওয়া সরকার প্রধান শেখ হাসিনার আচরন ছিলো কান্ডজ্ঞানহীন ও আত্মসম্মানবোধহীন। আমেরিকান নেতারা তাকে ও তার বিরাট লটবহরকে প্রায় এক রকম বর্জনই করেছে। অন্যদিকে আরেক বিশাল ডক্টরেট ডিগ্রীধারী আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমণির ছেলে-মানুষির আচরন ও ব্যর্থতার ষোল-কলা পূর্ণ করেছেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রচলিত আওয়ামী ঘরানার গোয়ার-গবিন্দ আচরন করতে গিয়ে সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে শুনতে হয়েছে অনাকাঙ্খিত ভৎসনা। বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেতৃত্বে থাকার পরও, ৭০ জন আন্তর্জাতিক অতিথিদের জন্য দেয়া ভোজে মাত্র ২ জন স্থায়ী প্রতিনিধিকে আনতে সক্ষম হয়। বেচে যাওয়া খাবারও প্যাকেট করে নিয়েও শেষ করতে পারেননি আমাদের স্বনামধন্য ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তারা।

কথার খাতিরে যদি ধরে নেই, যে এই সফরে আমেরিকার কাছ থেকে আমাদের অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার ছিলো না, তাহলে কেন এই অদ্ভুত আচরন সহকারে মান-সম্মান খোয়াতে গেলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সরাষ্ট্রমন্ত্রী? রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে এধরনের আচরন রাষ্ট্রের জন্যেও চরম অসম্মানজনক। নাকি ১/১১ সংক্রান্ত কোন গোপন রাজনৈতিক চুক্তির ব্যর্থতা পূরণের প্রাণান্ত চেষ্টা। উল্লেখ্য, প্রধান রাজনৈতিক অভিভাবকদের একজন হয়েও শেখ হাসিনাই ১/১১ এর পরে দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকা ও ভারতে অবস্থান নিয়ে ছিলেন (যদিও বাহ্যিক কারন হিসেবে কানের চিকিৎসার কথা বলা হয়েছিলো!)। ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যেই কি দু’নৌকায় পা দিয়ে এখন সামলাতে পারছেন না? এর আগেও ক্ষমতায় থাকতে প্রচুর অর্থ খরচ করে আমেরিকায় মাসাধিক কাল ব্যয় করার নজির আমাদের এই প্রধানমন্ত্রীর আছে। জাতিসংঘে যে সময় তিনি শান্তির মডেল উপস্থাপন করতে গিয়েছিলেন, ঠিক সে সময়ই সেখানে প্রচার পাচ্ছিলো আমাদের দেশের “পুলিশের বুটের তলায় গনতন্ত্র” খবর। বোধহয় এর জন্যেই তাল হারিয়ে সেখানকার সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে চোর-বাটপার মূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। হয়তো তার এই রং-হেডেড বক্তব্য শুনে সাংবাদিকরাও একচোট হেসেছিলেন, কারন তারা জানতেন সরকার প্রধান হিসেবে চোর-বাটপারদের প্রমাণ সহকারে ধরার দায়িত্ব শেখ হাসিনারই। উনাদের এই সফরকালে সেখানকার অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন সহকারে জানতে চেয়েছিলো তার বেকার ছেলের আরামদায়ক জীবন-যাপনের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থের উৎস কি, চকোলেট ব্যবসায়ী মেয়ে-জামাই এর এত অর্থ-বৈভবের উৎস কোথায়? আত্মমর্যাদাহীন এই নতজানু পররাষ্ট্রনীতি যে কোন সুফল বয়ে আনতে পারে না, তার এক জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ আমাদের বর্তমান আওয়ামী সরকার।

উৎস: এখানে ক্লিক করুন