ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

bisb4

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অচেনা জাতীরজনকের স্নেহ ভাজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মালেকের নাম। মালেক চাচাকে প্রথম দেখি ৭০/৭১ সালে আমাদের পারিবারিক ব্যবসা পপুলার প্রেসের আড্ডায়। যেখানে নানা রাজনৈতিক মতপথের লেকেদের নিয়মিত জমজমাট আড্ডা চলত। ৬দফার প্রশ্নে তিনি ছিলেন সোচ্চার। মুক্তিযুদ্বের পর দেশ পুনর্গঠনে ঝাপিয়েপরেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নির্দেশে। আওয়ামীলীগ সভাপতি এড আলীআজম এমপির ছায়া সঙ্গী মালেক চাচাকে দেখতাম আব্বার কর্মস্থল পাকবাহিনীর হাতে ধ্বংসস্তুপে পরিনত ইন্ডাষ্ট্রিয়েল স্কুল পুননির্মানের কাজে কি পরম মমতায় জড়িত ছিলেন। স্কুলের নির্মান কাজ তদারকিতে তাঁর দ্বিতীয় আবাস স্থল হয়ে উঠে সেটি। আমাদের বাসায় প্রেসে বা ইন্ডাষ্ট্রিয়েল স্কুলে এত নিয়মিত দেখা হতো যে কখন তিনি আমার নিজ চাচার চেয়েও আপনন হয়ে উঠল জানিনা। মনে পড়ে ১৫ আগষ্টের বিপর্যয়ের পর স্বাধীনতা বিরুধীদের আস্ফালনে আমার আব্বা সামছুদ্দিন আহাম্মদ সহ মুজিব ভক্তরা যখন কোনঠাসা তখন মালেক চাচা অকুতভয়ে রুখে দাড়াতেন তাদের। মনে পড়ে পপুলার প্রেসের বেঞ্চে বসে ১৯৮১ সালে আখাউড়ার কুখ্যাত রাজাকার তাহের যখন জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে মিথ্যাচার করছিল রুখে দাড়িয়েছিলেন তিনি। তার গালে সপাটে চড় বসিয়েদেন মালেক চাচা। অনেকেই তাঁকে তখন আত্মগোপনে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিলেও বুক উচিয়ে চলেছেন মালেক চাচা। কাউকে ভয় পাননি। সুধু এ ঘটনাতেই নয় যেখানেই কেউ আওয়ামীলীগ জাতির জনক কিংবা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে সেখানেই রুখে দাড়িয়েছেন। ৭৫ পরবর্তি সময়ে যে গুটিকয়েক নেতাকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ¯^ক্রিয় থাকতে দেখা গেছে মালেক চাচা ছিলেন তাদের অন্যতম। দল করতে গিয়ে পরিবারের দিকে যথাযথ সময় দিতে না পারলেও দলের নেতাকর্মীদের আগলে রাখতে কোন কমতি ছিলনা তার। অথচ নতুন প্রজন্মের নেতা কর্মীরা অনেকে মালেক চাচার নাম ই জানেননা। জানেননা দলের প্রতি তার অবদানের কথা অনেকটা অনাদরে অবহেলায় অভিমানে কেটেছে তার শেষ সময়টুকু। যারা তার কথা মনে রাখতে পারতেন তারাও থেকেছেন নিরব, ব্যাস্ত রয়েছেন নিজেদের জাহিরে। তবে তিনি আছেন হাজারো মানুষের মনের মনিকোঠায়। দেশপ্রেমিক এই সমাজকর্মীকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।