ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বগুড়া জেলা বিশেষ করে শহর আজ এক ভীত-সশস্ত্র নগরী । অবশ্য পালনীয় কোন কাজ ছাড়া কেও যেন বাসার বাহিরেই বের হতে চাচ্ছেন না । গতকাল শুক্রবার সারাদিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও শহরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বিজিবিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথায় ছিল নিরাপত্তার বলয়। তারপরও অজানা আশঙ্কায় জনসমাগম ছিল কম । বৃহস্পতিবারের জামাত-শিবিরের ডাকা হরতালে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের চলেছিল দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ । প্রথমে ৪ জন শিবির নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে সংগঠনটির পক্ষে এমনটি দাবী করা হলেও পরে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে । নিহত শিবির নেতাদের শজিমেক জরুরি বিভাগে দেখতে যাওয়া স্বজনদের উপর করেছে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৫ জনকে । সেই লাঠিচার্জে কিছু মহিলাও আহত হয়েছেন এমনটি দাবী করেছেন নিহতের পারিবারিক সদস্যরা । এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ছাত্রলীগের হামলায় নিহত শিবির নেতা আবু রোহানীর বড় ভাই রফিকুল ও ভগ্নিপতি হারুনুর রশিদকে ঘটনার রাতে পুলিশ জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যায়। এরপর রফিকুলকে ছেড়ে দিলেও হারুনকে আটকে রাখে। পরে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে চাপ সৃষ্টি করে। প্রথমে অস্বীকৃতি জানালে পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নিয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগকে বাঁচাতেই পুলিশ মামলা লিখে রোহানীর ভগ্নিপতিকে জোরপূর্বক বাদী বানিয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে।

এদিকে বাদ-জুমা শিবির নেতাকর্মীদের গায়েবানা জানাজায় সাধারণ মানুষের ঢল ছিল উল্লেখ করার মতো । নিহত ৩ নেতাকর্মীর গায়েবানা জানাজা শেষে ফেরার পথে সাতমাথায় ছাত্রলীগ জামায়াত-শিবির কর্মীদের মারপিট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন, সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে গায়েবানা জানাজা শেষে ফেরার পথে সাতমাথা ও এর আশপাশের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা জামায়াত শিবিরের বেশ ক’জন কর্মীকে মারপিট করে। অপরপক্ষে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ২টি মামলা করা হয়েছে যেখানে আসামী করা হয়েছে ২৪০০ জামাত-শিবির নেতাকর্মীকে ।

আজ শনিবারও বগুড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামাত-শিবির । দড়াজ কণ্ঠে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগকে রাজপথে প্রতিহত করা হবে । এদিকে সাধারণ জনগণের আতঙ্কগ্রস্থ ভাবনা, আসলে এসব হচ্ছে কি? দেশ কি তাহলে পতিত হলও কঠিন এক গৃহযুদ্ধে ?