ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ডেসটিনি প্রসঙ্গ- বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডেসটিনি উভয়ের দেয়া তথ্য মতে ডেসটিনি গ্রুপের সর্বমোট লেনদেন সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৪০০ কোটি টাকা ক্রেতা-পরিবেশকদের কমিশন বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে ভ্যাট,ট্যাক্স বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে বিগত ১১ বছরে ডেসটিনি গ্রুপের হাজার হাজার কর্মচারীর বেতন, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের সম্মানী ও লভ্যাংশ, অফিসের যাবতীয় খরচ, করপোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি’র আওতায় দেশব্যাপী বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৪০০ কোটি টাকার মত খরচ হয়েছে । এছাড়াও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস সোসাইটি’র সম্মানিত আট লাখ শেয়ার হোল্ডারকে বিগত বছরগুলোতে লভ্যাংশ বাবদ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে । ডেসটিনি গ্রুপের পক্ষ থেকে দেয়া তথ্যমতে ডেসটিনির প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে যা সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সকল টাকার হিসাব পরিষ্কার পাওয়া যাচ্ছে যা ডেসটিনির সকল ডিস্ট্রিবিউটর,বিনিয়োগকারীরা অবগত আছে । ডেসটিনি তাহলে বিদেশে পাচার করল কি ?? উত্তর- অশ্বডিম্ব ।।

সর্বপ্রথম নিউজ বের হল এই মর্মে যে, ডেসটিনি ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে । এরপরে বলা হল ১৫-২০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে । এর পরে নিউজ করা হল সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই পাচার করেছে ডেসটিনি । বিদেশে পরিচালকরা আপেল বাগান,বাড়ি-গাড়ি করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি শত শত ভিত্তিহীন অভিযোগ । এর পরে দুদক সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগ এনে দুটি মামলা দায়ের করে ডেসটিনির পরিচালকদের বিরুদ্ধে । এর পর বাংলাদেশ ব্যাংক আবার তদন্ত রিপোর্ট দেয় পণ্য আমদানির ছদ্মাবরনে মাত্র ৬৩ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে ডেসটিনি ( এই ৬৩ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছে) । এর আগেই কোনো অভিযোগ ছাড়াই ডেসটিনি গ্রুপের সকল ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করে রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক । এতে করে ডেসটিনিতে বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায় ডেসটিন গ্রুপে কর্মরত তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর । ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটরের পরিবারের রুটি-রুজি অনিশ্চিত হয়ে যায় । প্রায় ২ কোটি মানুষকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে, অভিভাবকদেরকে চোখে জল নিয়ে পার করতে হয়েছে একে একে দুটি ঈদ । এভাবে একের পর এক দমনমূলক কার্যক্রম চালিয়েও ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটর,বিনিয়োগকারীকে বিভ্রান্ত ও ডেসটিনির বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে না পেরে ডেসটিনির শীর্ষ পরিচালকদের ধর-পাকড় শুরু করে দুদক । রিমান্ডে নিয়ে জোর করে জবানবন্দী আদায় করে । এরপর অকস্মাৎ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানী আইন পরিবর্তন করে ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার । প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল ডেসটিনির সকল সম্পত্তি নিলামে তোলা । কোম্পানি আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে দেশের আপামর ব্যবসায়ী সমাজ আপত্তি তোলে । কিন্তু এতকিছুর পরও ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটর,গ্রাহক, বিনিয়োগকারীর ডেসটিনির প্রতি ভালবাসাকে এতটুকু-ও কমাতে পারেনি কুচক্রী মহল। ডেসটিনির ডিস্ট্রিবিউটররা এক সময় বাধ্য হয় এই ষড়যন্ত্র,অপপ্রচারের প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করতে । “ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরাম”-এর ব্যানারে সকলে একত্রিত হয়ে ডেসটিনিকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশব্যাপী সমাবেশ,মানববন্ধন এমনকি অনশন পর্যন্ত পালন করে । দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ এসব কর্মসূচীতে প্রশাসন একের পর এক প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে থাকে । বিভিন্ন জায়গায় তাদের উপর লাঠিচার্জ,টিয়ার শেল নিক্ষেপ থেকে শুরু করে গ্রেফতার পর্যন্ত করে। এক পর্যায়ে দেশের সকল মানবাধিকার সংগঠন-ও ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটরের পাশে দাঁড়ায়। তারাও প্রশ্ন তোলে যে, ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটর, গ্রাহক, বিনিয়োগকারীর যেখানে কোনো অভিযোগ নেই সেখানে অভিযোগ কাদের? ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটরের ১ জনেরও কোনো অভিযোগ নেই ডেসটিনির বিরুদ্ধে। উপরন্তু লাখ লাখ ডিস্ট্রিবিউটর ডেসটিনিকে ধ্বংস করার এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মানববন্ধন করছে, সংবাদ সম্মেলন করছে । চিৎকার করে বলছে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত নই, পরিচালকদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই, আমাদের বিনিয়োগের ব্যাপারে আমরা সচেতন, আমরা জানি আমাদের বিনিয়োগ নিরাপদ আছে, আমরা ডেসটিনিতে প্রশাসক চাইনা । আমরা রফিকুল আমীনের কাছেই নিরাপদ বোধ করি । তাহলে কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের এই প্রাণান্ত চেষ্টা ? সরকার বলছে, প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সম্পত্তি বিক্রি করে ডিস্ট্রিবিউটরদের টাকা ফেরত দেয়া সম্ভব । এটাই প্রমাণ করে কোনো টাকা বিদেশে যায়নি।

আর মানি-লন্ডারিং এর মামলার বিষয়টি আদালতে এখনো বিচারাধীন । কিন্তু সরকার মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ডেসটিনির সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলো বন্ধ করে সম্পত্তিগুলো গ্রাস করতে চাইছে । দেশে তাহলে আইনের দরকার কি? আদালত বন্ধ করে দেয়া হোক তাহলে। তাছাড়া, ডেসটিনির ভাল-মন্দের ব্যাপারে মতামত নিতে হবে ডেসটিনির সাথে সংশ্লিষ্ট দের কাছ থেকে । কিন্তু সরকার মুখে বলছে ডেসটিনির গ্রাহকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এতসব করা হচ্ছে অথচ পরামর্শ নিচ্ছে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের কাছ থেকে । যাদের ডেসটিনির সাথে কোনো সম্পর্কই নেই । বরঞ্চ ডেসটিনির ক্ষতি হলে যাদের সুবিধা হয় । অতঃপর এক সময় সরকার বাধ্য হয় প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে । সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানায় ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরাম । কিন্তু আবারো দুদক প্রচন্ড রকম হঠকারিতার পরিচয় দিয়ে আদালতে ডেসটিনির সকল সম্পত্তি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ চেয়ে জ্যেষ্ঠ জজ জহুরুল হকের আদালতে আবেদন করে । এবং সাথে সাথে আদেশ !!! কোনো বিনিয়োগকারীর অভিযোগ নেই,কোনো প্রমাণ নেই… সাথে সাথে আদেশ । বাংলাদেশ বলেই হয়তো এমন সম্ভব। তাছাড়া এর আগে দুদক সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এনেছিল। ডেসটিনির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল কোনো টাকা পাচার হয়নি । এই টাকা বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে ।

বিনিয়োগকারীদের টাকা প্রথমে ব্যাংক একাউন্ট-এ আসে । বিনিয়োগ করতে হলে ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা তুলে বিনিয়োগ করতে হয় । কিন্তু এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে টাকা “সরানো” হিসেবে দেখানো হচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক । উচ্চ আদালতে এই হাস্যকর ও ভিত্তিহীন মামলাটি টিকবে না বুঝতে পেরে দুদক তড়িঘড়ি করে সম্পত্তি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে যেই মামলাটি করলো এতে তো ডেসটিনি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই প্রমাণিত হচ্ছে । উচ্চ আদালতে আপিলের পর এই মামলাটিতেও ইনশাল্লাহ দুদকের পরাজয় অনিবার্য । আমি এখনো বিশ্বাস করি বাংলাদেশে এখনো ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করা যায় । সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ রায় দিয়ে উচ্চ আদালত আবার প্রমাণ করবে বাংলাদেশে এখনো ন্যায় বিচারের পথ বন্ধ হয়ে যায়নি । পরিশেষে ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ অধিকার বঞ্চিত মানুষের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই— ষড়যন্ত্র নিপাত যাক, ডেসটিনি মুক্তি পাক ।