ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

সরকার আসলেই এখন বেসামাল। শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে ঢাকতে এতো বেশি শাক হয়ে গিয়েছে, যে মাছ বলে কিছু আর নেই। আর আমরা কিছুই পাইনা বলে ওই শাকের ভেতর মাছ আছে মনে করেই খুশি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই অর্থমন্ত্রীর কথার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক’রা প্রতিবাদে গেলেন। তারপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট আরোপ ইস্যু। সব কিছু সরকার ঢাকতে চাইলো প্রজাতন্ত্রের সেবকদের বেতন বৃদ্ধি করে। কিন্তু সেই পদ্ধতি ও সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। গ্রেড বৈষম্য এর কারণে প্রজাতন্ত্রের অনেক সেবক-ই অসুখি।

এর মাঝে অহেতুক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হল। অহেতুক বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করানো হল। বিশ্ব বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে কমছে না তেলের দাম। সরকারের ব্যাখ্যায় সরকারের মাঝে থেকেই প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোন লাভ হয় নাই। এইসব আন্দোলনের মাঝে খুব নীরবে গনপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির কাজটি করে ফেলেছে পরিবহন মালিকেরা। একজন চাঁদাবাজ এবং একজন সিএনজি চালকের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। সেই চাঁদাবাজিকে সরকার আজ সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে। প্রথম ২ কিলোমিটার ৪০ টাকা!!

আসলে সরকার চাচ্ছে কী? এই দেশটাকে যদি তারা চালাতে না পারে তাহলে তারা স্বীকার করুক যে দেশ আজ সঙ্কটে। এভাবে দেশের মানুষের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সরকারের অর্থ আদায় অত্যন্ত নিন্দনীয়। যত দিন যাচ্ছে, সরকারের ব্যর্থতা তত প্রকট হয়ে উঠছে। সরকার জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, সরকার আজ সত্যি বেসামাল হয়ে পড়েছে। আর আমরা দিন এনে দিন খাওয়া জনগণ বসে আছি কেউ একজন প্রতিবাদ করবে সেইদিনের অপেক্ষায়।

নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকারী কর্মচারীদের সাহায্য যে সব নয়, বোধকরি সরকার এই ব্যাপারটি ভুলে গিয়েছে। ২১ লাখ মানুষকে হাতে রাখতে বাকি সব লোককে সরকার দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ১ কোটি মানুষের সুবিধা দেখতে গিয়ে ১৪ কোটি মানুষকে বেসামাল অবস্থায় ফেলে দিয়েছে সরকার। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে আর কতদিন? এই বেসামাল অবস্থা সরকার কিভাবে সামাল দেবে, যেখানে সাধারণ জনগণ তাদের পাশে থাকবে না? গুলি, বন্দুক দিয়ে কখনো মিথ্যা ঢাকা যায়না। জনগণের কষ্টের টাকা নয়-ছয় করে মিথ্যা ঢাকতে যাবেন না। তাতে সরকারের কোষাগার খালি হবে, ঋণের বোঝা বাড়বে, কিন্তু জনগণের মন পাওয়া যাবে না।