ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

ঘটনার সূত্রপাত সেই সক্রেটিস- এরিস্টটল – প্লেটো এর সময় থেকে। গুরুর কাছ থেকে শিখে তার শিষ্য এর নাম ডাক বেশি হয়। এর ফলে কোন কোন গুরু রাগ হন। আবার কোন কোন গুরু ভাবেন, আহ! আমার শিক্ষা সার্থক। এখনকার সময়ে অবশ্য সেই রকম গুরু পাওয়া দুস্কর। আমার চেয়ে বড় হবি বেটা, খাড়া তরে নিউটনের সূত্রের এমন ব্যাখ্যা শিখামু যে জিন্দেগীতে আর নিউটনের নাম মুখে আনবি না। বাস্তবে হয় ও তাই। বর্তমানের গুরু কূলেরা তাদের শিস্যদের ব্যপারে খুব সতর্ক। একটু এদিক সেদিক দেখলেই তাদের লাগাম টেনে ধরেন। আমার চেনা জানা শ’খানেক ছাত্র আছে যাদের নাম তাদের গুরুরা জার্নালে পাবলিশ করা পেপারে দেয় নাই। অথচ সেই সব পোলাপান জীবন দিয়া দিন রাত পরিশ্রম করছে, কোন রকম পারিশ্রমিক ছাড়া। ভাবছে এই বয়সে হয়তো সবার শেষে হলেও একটা পেপারে নাম থাকবে। কিন্তু বিধিবাম। একনলেজমেনটে ও জায়গা হয় নাই। এগুলা গেলো বিজ্ঞান বিভাগের কথা। সামাজিক বিজ্ঞান ও কলা অনুষদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে নতুন কোন চিন্তা কোন ভাবেই ছাত্রদের দ্বারা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ সেখানে রয়েছে আপনার গুরুকুলের অভিমত। যে কোন কিছুকেই তারা প্রশ্রয় দিতে পারে না! অথচ সেই ছাত্রদের কষ্টার্জিত নতুন ভাবনা গুলো কিভাবে যেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের নতুন ভাবনা হয়ে যায়! তারুণ্যর যোশে সবাই ভুলে যায় তার মাথায় ও নতুন কিছু ভাবনা ছিল। সেগুলো আর তার নাই।

আশেপাশে না ঘুরে মুল কথায় আসি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন” “If you want status equal to a secretary’s, then just resign and become a secretary by sitting examinations through PSC. That will solve the problem.” Daily star. 12.01.2016”
এতে বোঝা যায় এই ব্যপার টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও খুব বিরক্ত। তার বিরক্ত হবার যথেষ্ট কারণ আছে। এমনিতেই হাজারো ঝামেলায় তিনি। তার মাঝে তার দলের শিক্ষকেরাই যদি এইসব করে, তাইলে এগুলারে রাইখা লাভ কি? তাই তিনি সরাসরি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বুঝে নিয়েছেন নাকি তার আশেপাশের সুখের মাছিদের কথায় নিয়েছেন টা এই মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছে না। তবে ২য় টি হবার সম্ভবনাই বেশি । নাহলে উনি শিক্ষকদের ডেকে উনাদের কথা শুনতেন।

আর শিক্ষকদের নেতা ফরিদ স্যার বলেছেন “We don’t want to be secretaries. Why would we want to be secretaries? It’s us who make secretaries. A student can be bureaucrat by obtaining a BA or with a third class, but to be a university teacher, he must have top academic result”. Daily star. 12.01.2016.

ঠিক এই কথাতির জন্য আজ এই লিখা। বাংলা খুব জটিল ভাষা। একটু এদিক সেদিকে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। ফরিদ স্যারের মতে আমলারা থার্ড ক্লাস পাওয়া ছাত্র ও হতে পারে। কিন্তু এই কথা বলার আগে স্যারের চিন্তা করা উচিত ছিল, থার্ড ক্লাস পাওয়া ছাত্রের ও শিক্ষক তিনি। একজন শিক্ষক হিসাবে ক্লাসের প্রথম জনের সাফল্য এবং শেষ জনের ব্যর্থতার দায়ভার উভয় ই শিক্ষকের ওপর বর্তায়। তিনি সেই কথা বেমালুম অস্বীকার করে একটা বিবৃতি দিলেন। তার মানে তিনি তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া ছাত্রদেরকে অবজ্ঞা করলেন। আজ আমি যদি আমলা হই, এবং আমার শিক্ষা জীবনে যদি তৃতীয় শ্রেণী থাকে , তাহলে আমার শেখা এবং প্রয়োগকৃত বিদ্যা হবে “গুরু মারা বিদ্যা”। কারণ আমার গুরু আমাকে অস্বীকার করেছেন। সেখানে গুরুকে সম্মান দিয়ে লাভ কি? স্যার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম শ্রেণীতে ১০তম এর পর থেকে ৩০তম এরপর পর্যন্ত ও নাকি শিক্ষক হবার রেকর্ড আছে। কিভাবে তারা শিক্ষক হয়েছে আপনারাই ভালো জানেন। ২য় শ্রেণী পাওয়া আপনাদের অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে আছেন। অস্বীকার করার কোন উপায় আছে কি?

স্যারের মতে তারা আমলা তৈরি করেন। তারা কারিগর। অথচ তাদের বিদ্বেষ তাদের সৃষ্টি র সাথেই। তাদের শিস্যকুল কেন তাদের থেকে বেশি আরাম আয়েশ করবে? তাহলে তাদের মান-সম্মান বলে কিছু থাকল না। অথচ অনেক সচিবকে আমি দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার রুমে ঢোকা মাত্র তিনি দাড়িয়ে সালাম দেন, তার আথিথেয়তার কোন কমতি করেন না। অনেকে স্যারদের অনুমতি না পেলে নিজ অফিসে চেয়ারে পর্যন্ত বসেন না। অপর ক্ষেত্রে কোন শিক্ষকের রুমে একজন সচিব ঢুকলে (সে যদি তার ছাত্র হয়) শিক্ষক চেয়ার থেকেই নড়ে না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই শিক্ষক যদি বলে, এই ব্যাটা ছাত্র তুই আমার থেকে বেতন কেন বেশি পাস?? হাহাহাহাহ। ভাবতেই যেন কেমন লাগছে।

প্রাইমারি স্কুল এবং হাই স্কুলের শিক্ষকেরা যত কষ্ট করে আমাদের পড়ালিখা করান, তার বিনিময়ে তারা কাগজে কলমে সম্মান চান না। সেই শিক্ষক একজন সচিবের রুমে ঢুকলে (সেই সচিব যদি তার ছাত্র হয়), সেই সচিব তার শিক্ষকে যে সম্মান দেন সেটা কখনোই কাগজে লিখা থাকে না। সেটা কখনোই আইন করে সিদ্ধ করা যায় না। প্রাইমারি স্কুল এবং হাই স্কুলের শিক্ষকেরা যদি এখন ফরিদ স্যার কে বলেন “ ওই ব্যাটা আমি তো তোকে স্কুলে পরাইছি।এখন তুই যে বেতন পাস আমি তার চার ভাগের এক ভাগ পাই ক্যান? আমার মান সম্মান কই?“ স্যার আপনি ওই সময় কি উত্তর দেবেন?

স্যার আপনারা আপনাদের ছাত্রদের গুরুমারা বিদ্যা শিখান নি। আমরা ও তা শিখতে চাইনা। আপানদের এখনকার ছাত্র, যারা বয়সে নবীন তারাও তা শিখতে চায়না। আমরা জানি আপনাদের গুরু যারা ছিলেন তারা ও আপনাদের গুরুমারা বিদ্যা শিখান নি। তাহলে এখন আপনারা কেন এমন অবস্থা তৈরি করছেন যার ফলে আপনাদের সম্মানের জায়গা নড়বরে হয়ে যায়? অথচ আমরা আমাদের শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি সম্মান করি।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশে একটা গল্প বলি। আমার স্কুলের এক স্যার আছেন। উনি এখন আধ-পাগল। প্রতি ঈদে উনি বাসায় আসেন আর কিছু টাকা নিয়ে যান। উনি আমার কাছ থেকে শুধু ঈদেই টাকা নেন। অন্য সময় দিতে চাইলে ও নেন না। বাসায় এসে উনি ভিখারির মত বারান্দায় বসে যান। আমি তাকে জোর করে ঘরে বসাই। উনি প্রলাপ বকতে থাকেন । আমি শুনি। প্রতি ঈদে একই কথা তারপর ও আমি শুনি। উনার কথা শেষ হলে উনি চলে যান। যাবার সময় আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন “ তুই আরও বড় হ।“ আমার চোখে পানি চলে আসে। কিন্তু ওনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন আমার বিন্দু মাত্র কমে না। কারণ আমি গুরুমারা বিদ্যা শিখিনি। আমার কোন শিক্ষক আমাকে গুরুমারা বিদ্যা শিখায় নি।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমলা নামে যে শিষ্যকুল তৈরি হয়েছে তাদের কাজ যেন গুরু বধ। স্যার এরা আপনাদের ছাত্র। আপনারা কি তাহলে গুরুমারা শিষ্য তৈরি করেছেন?