ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

রাজা হতে সবাই পারেনা। সবার রাজা হবার গুণাবলী থাকে না। যাদের রয়েছে অসীম সাহস আর অক্লান্ত কর্মস্পৃহা তারাই হয় রাজা। আর আমরা যারা অলস তারা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রজা হিসাবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করি। চাকুরী করলে বসের কাছে, বাবসা করলে কাস্তমারের কাছে। যার কাছে অর্থ, যার কাছে আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা তাকেই তো আমি রাজা মানবো। কিন্তু যদি রাজা হন হিটলার এর মত? তাহলে প্রশ্ন চলে আসে বিবেকের। ডঃ জেকিল অ্যান্ড মিঃ হাইড এর মত সবার দুইটা সত্তা থাকে। তখন প্রশ্ন চলে আসে কোন সত্তাকে আমি চাইবো। কিং যখন তার কর্তব্য পালনে মুড়তার পরিচয় দেন তখন আমাদের কিংকর্তব্যবিমুর হওয়া ছাড়া আর কি বা করার থাকে। তখন অনেকেই পারেননা তার মিঃ হাইড এর সত্তাকে গোপন রাখতে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কি এতই অস্থির হয়ে গেলেন? আপনারা আপনাদের রাজার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেললেন? আপনাদের আর কি দোষ দেবো! আমাদের আস্থাই কি আর এই রাজার ওপর আছে? আপনারা তো টিকে আছেন রেশন এর ওপর। কিন্তু আমরা? সাধারণ জনগণের তো রেশন নাই! বাজারে চিৎকার করে ১ টাকা কম দিয়ে নিজের ছোটলোকি প্রমাণ করি না আমার সংসারের জন্য ১ টাকা বাঁচালাম সেই ভেবে খুশি হই; সে ভাবনা থেকে মুক্তি নিয়েছি অনেক আগেই। দোকানদার যতই বলুক “আপনি মিয়া খালি ক্যাচাল করেন”। তারপরও আমার কোন ভাবনা নেই। কারণ দিন শেষে ওই ক্যাচালেই যে আমার শান্তি। অন্তত কোথাও তো কথা বলা যায়! কেউ তো কথা শুনে ১ টাকা হলেও কম নেয়। কিন্তু আমার রাজা? ১ বছর ধরে চিৎকার করে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের সর্বশান্ত হওয়া লোকগুলো। কিন্তু বাজার এখনো অস্থির। বিশ্ব চিৎকার করে যাচ্ছে তোমার মন্ত্রী সরাও। অথচ রাজা মুঢ়। আমরা চিৎকার করছি দ্রব্য মুল্লের দাম কমাও… অথচ রাজা মুঢ়। আমদানিকারকেরা চিৎকার করছে ডলারের দাম কমাও… অথচ রাজা মুঢ়।

আমাদের রাজা কি আসলেই মুঢ় হয়ে গেছেন? তার রাজ্য যে গভীর সঙ্কটের দিকে যাচ্ছে তিনি কি তা দেখতে পাচ্ছেন না? চাকুরীজীবী যারা তারা বুঝতে নাও পারেন অর্থনীতির চাকা কোন দিকে ঘুরছে। কিন্তু যারা বাবসা নামক অর্থনৈতিক লেনদেন এর সাথে জড়িত তারা জানেন অর্থনীতির চাকা কোন দিকে ঘুরছে। তিন মাস পর সরকার বেতন দিতে পারবে না, এই কথা শোনায় অর্থমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আজকে তিনি প্রথম আলোতে কলাম লিখেছেন। লাভ কি? আপনার ব্যাখ্যা কি আপনি বিশ্বাস করেন? ১০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রিজার্ভ ১২ মাসে কমে ১ বিলিয়ন এ কিভাবে এল? ৬৯ টাকা ডলারের মূল্য কিভাবে ৮৭ টাকা হল ছয় মাসে? এই কি আপনার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা? খুব গর্ব করে বলেন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছি। অথচ দেশের সব বৈদেশিক মুদ্রা যে সেই কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছে তা বলেন না। খুব গর্ব করে বলেন দেশের টাকা দিয়ে দেশ চলবে। অথচ আপনাদের একগুয়েমির কারণে বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ হয়ে গেছে তা বলেন না। আমাদের বিজ্ঞ রাজ পরিষদ কি জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করতে পারবেন কোন কারণে ৩ মাসের বাবধানে ডলারের দাম ১০ টাকা বেড়েছে? ডলারের মূল্য বৃদ্ধি মানে যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি সেটা কি রাজ্যের বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ভুলে গেছেন? আবার নাকি জ্বালানি মন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তেলের মূল্য কত বৃদ্ধি করলে সেখানে কোন ভর্তুকি দিতে হবে না?!!!!! আসলেই আমাদের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। না হলে তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুদ্র এক দেশ হউয়া সত্তেও আমরা আসল দামে তেল কিনতে চাই। আমাদের রাজাদের এত সাহস জন্যই তো আমাদের কলিজা এত বড়।

এরকম হাজারো প্রশ্ন শুনে রাজা বলতে পারেন গাধার দল বোঝে না খালি চেঁচায়। আমরা শুধু চেঁচিয়ে যাব; কারণ আমরা নিরস্ত্র সাধারণ প্রজা। না খেয়ে মরবো, তবু আমরা প্রমাণ করবো যে আমরা একনিষ্ঠ প্রজা। করে নাকো ফোঁস ফাঁস, মারে না কো ডুস-ডাস টাইপ প্রজা আমরা। আমাদের দিক থেকে বিপদের কোন আশংকা নাই। আমরা পুলিস নাম শুনলেই ভয় পাই। আমাদের জন্য গুলি খরচ করার দরকার নাই। আমাদের ছাগলের তিন নম্বর হয়ে থাকতে হবে আজীবন। কিন্তু যারা আপনার অনুগত অস্ত্র ধারী প্রজা, তাদের সামলান। আমাদের চিৎকার আপনার কানে না পৌছাতে না পারে কিন্তু গত পরশু রাতে তাদের গোলাগুলির শব্দ আমরা শুনেছি। আশা করি এই ক্ষেত্রে অন্তত আমাদের রাজা মুঢ় হবেন না।

১৯.০১.২০১২