ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

শুধু বিশেষ দিনগুলোতে আমাদের সেই ব্যাপারটির জন্য মায়া জেগে ওঠে। জাতি হিসাবে আমরা বেশ হুজুগে এবং “পাছে লোকে কিছু বলে” কবিতাটি আমাদের জাতির জন্য যথার্থ প্রযোজ্য। ভাষা নিয়ে আমাদের এই মুহূর্তে বেশ মাতা-মাতি চলছে। দেশ ব্যাপী আমাদের দরদ দেখে বিশ্ব ভাবছে হয়তো জাতি বটে! আসলে কি তাই? জাতি হিসাবে ভাষার দিক থেকে কি আমরা সমৃদ্ধ? একুশের কতটুকু চেতনা আমরা লালন করছি নিজের মাঝে? একুশের দিনে আমি রেডিও র অনুষ্ঠানগুলো শোনার চেষ্টা করেছি। “ডিয়ার লিসেনারস; এখন আপনারা শুনবেন আউয়ার প্রাউড ডে 21st ফেব্রুয়ারী নিয়ে একটি গান; ফ্রম দা এ্যালবাম …… মিঃ.অমুকের কণ্ঠে! এই প্রথম বুঝতে পারলাম কুকুরের লেজ কোনদিন সোজা হয়না কথাটি কতটুকু সত্য। রেডিও জকি বলে আমরা যাদের কথা শুনি তারা প্রতিনিয়ত বাংলা ভাষাকে ধর্ষণ করে যাচ্ছে। ইচ্ছে মত আমাদের মাতৃভাষার অপমান করছে। চারকোনা ছোট ঘরে বসে, এই ভাষাকে নষ্ট করা হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। আর আমরা আমাদের সেই ভাষার চরিত্র হননের অপমান সহ্য করে যাচ্ছি; কারণ আমাদের সেই ভাষার প্রতি ভালবাসা কই? তার চরিত্র হনন হলেই বা কি? আমাদের ভালবাসা তো শুধু ফুল দেবার মাঝে সীমাবদ্ধ! শুধুমাত্র একটি দিনের জন্য সেই আবেগ। সেইদিনেও রেডিও জকিদের দ্বারা বাংলা ভাষার চরিত্র হনন আমরা ঠেকাতে পারিনি! কি বোকা ছিলেন ভাষা শহীদেরা! ভাগ্যিস তারা দেখে যেতে পারেননি তাদের রক্তের প্রতিদানে আমরা প্রতিনিয়ত তাদের তিরস্কার করে যাচ্ছি!

আমি রেডিও শুনি না এই সব ছাগল রেডিও জকিদের জন্য। একুশের দিন মনে করেছিলাম আজ অন্তত ওরা ঠিকভাবে বাংলা বলবে। ঠিক সে জন্যই রেডিও শুনছিলাম। কিন্তু একি? যে লাও সেই কদু! ৬০ বছর পূর্বে ভাষা শহীদরা রক্ত দিয়েছিল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। তখন সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ছিল” ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়”। eআজ সেই গান হওয়া উচিত “ রেডিও আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়”। e এইসব অশিক্ষিত রেডিও গুলোর অশিক্ষিত মালিক এবং রেডিও জকিদের ভাষা বিকৃতির তীব্র নিন্দা জানাই।

গতকাল চ্যানেল গুলোর নাটক দেখলাম। সবগুলো নাটক ভাষা বিকৃতি নিয়ে। নাটকে তারা অকপটে স্বীকার করে গেছে যে বাংলা ভাষাকে মিডিয়ার লোকজন বিকৃত করছে। তার মধ্যে রেডিও এবং হিন্দি কাটুন চ্যানেল অন্যতম ভুমিকা রাখছে। ছোট ছোট বাচ্চারা হিন্দিতে কথা বলছে। কি চমৎকার! “ম্যা আজ শাহিদ মিনার জায়েঙ্গে!” বাঙালি বাচ্চার একুশের প্রতি কি ভালবাসা। একটি চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করা কি খুব কঠিন কাজ? কার স্বার্থে হিন্দি কার্টুন চ্যানেল দেশে এভাবে প্রচার হচ্ছে কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না? একটি সময়ের বাচ্চাদের আমরা হিন্দি শিখিয়ে বড় করছি। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে বাঙালি সত্তাকে ধ্বংস করা হচ্ছে মিডিয়ার মাধ্যমে। আমরা তাই শুনে আনন্দিত হচ্ছি; আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান গুলো সেজন্য টাকা ও দিচ্ছে। আর বড় গলায় শহীদ মিনারে দাড়িয়ে বলছি “ উই আর ভেরি প্রাউড ফর দিজ ডে”।

আমাদের সরকারের চোখ কি এখনো অন্ধই থাকবে!!!! আমাদের চোখ ও কি আমরা অন্ধ রাখবো? আমরা কি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবো না?