ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সেই দেশের উন্নতি অনেকাংশেই নির্ভর। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যখন শুধু শিক্ষার চর্চা হত তখনকার দিনের জ্ঞানী মানুষেরাই আজ দেশের কর্ণধার। তারাই জাতিকে উপহার দিয়েছে অনেক কিছু। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যখন রাজনীতি নামক ব্যাপারটা অর্থনৈতিক মুক্তির রুপ নিলো, বাক্তিগত জিঘাংসা আর স্বার্থের লোভে অন্ধভাবে রাজনীতির বলিষ্ঠ হাত যখন শিক্ষা বাবস্থার ওপর আঘাত হানল, তখন থেকেই এই দেশের শিক্ষা বাবস্থায় বিপর্যয় নেমে এলো। জাতি প্রতিদিন দেখে চলেছে দেশ ও জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের নির্লজ্জতা, ঘরের শান্ত ছেলেটি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়া আর এত স্বপ্ন নিয়ে বড় করা সন্তানের লাশ পিতার কাঁধে চেপে বসা। এসব দেখে আজ আমাদের কোন বিকার হয়না। কারণ আমাদের বিবেক যারা গড়ে দেবে সেই সব শিক্ষকেরা নিজেরাই যে তাদের বিবেক বিসর্জন দিয়ে আছেন কোন না কোন রাজনৈতিক দলের কাছে। নির্লজ্জভাবে প্রকাশে তারা মিথ্যা বলে যাচ্ছেন গণমাধ্যম গুলোতে। এবং এই নিয়ে তাদের কোন অনুশোচনা নেই। ক্লাস বর্জন করে দলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তারা দেশের প্রতি তাদের মহান দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিনিয়ত। আর আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা আর কি বলবো! তারা ত এক কাঠি বেশি সরেস। মনে হল তো নিজেদের ক্লাস না সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ই বন্ধ। দলের শিক্ষকেরা তাতে নির্লজ্জভাবে সায় দিয়ে যায়। ভাল মন্দ বিচারের বোধ টুকু যাদের নাই, তারা কিভাবে শিক্ষক হতে পারে? যাদের বাক্তিগত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন থেকে ঝড়ে যায় বছরের পর বছর তারা কতটুকু নৈতিকতা সম্পন্ন তা আমার বোধগম্য নয়। তাই আজ আমার একটি দাবি, একটি রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই।

আমাদের দেশে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ১০০ এর বেশি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আর একটি বেশি হলে ক্ষতি কি? বরং বাকি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বেঁচে যায় ঝামেলা থেকে। যেসব ছাত্র এবং শিক্ষক রাজনীতি করতে চায়, যারা দেশকে নেতৃত্ব দিতে চায়, তাদের অবশ্যই বিশেষ গুণাবলী থাকতে হয়। এবং তাদের এইসব গুণাবলী প্রকাশের জন্যই শুধুমাত্র তাদের জন্য একটি সতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। যেখানে তারা মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা করতে পারবে। দরকার হলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য তা বন্ধ থাকবে (আজীবন বন্ধ থাকলেও অবাক হব না)। যে স্থানের শিক্ষকেরা দলের স্তুতি গাইবে কোন রকম রাখঢাক ছাড়াই। আর তাতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাটা নিরবিগ্নে হবে কারণ তারা রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনা টা এরকম হতে পারে-

১। বিভিন্ন দল তাদের নিজেদের নামে এবং নিজেদের অর্থায়নে বিভাগ খুলবে। যেমনঃ ডিপার্টমেন্ট অব আওয়ামীলীগ, ডিপার্টমেন্ট অব বি এন পি, ডিপার্টমেন্ট অব জাতীয় পার্টি ইত্যাদি।
২। কোর্স কারিকুলাম দল ঠিক করবে। কত্রিপক্ষ নয়।
৩। দলের শিক্ষকেরাই সেই সব দলের বিভাগের ক্লাস নেবে।
৪। ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে অন্য দলের ২-৫ টা বিষয় পর্যন্ত সবাই নিতে পারবে।
৫। বাধ্যতামূলক বিষয় হিসাবে দেশপ্রেম এবং নৈতিকতা নামক বিষয়টি প্রতি সেমিস্টার এ থাকবে এবং এই বিষয়ে ৯০ ভাগ নম্বর না পেলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
৬। এই বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্রছাত্রী বাতিত কেউ দেশের কোন নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারবে না।
৭। এদের ক্যাম্পাস অবশ্যই লোকালয় থেকে দূরে হতে হবে। কারণ তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি দেখা তো সবার দায়িত্ব।
৮। রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্য কোনখানে ক্লাস নেয়া আইনত দণ্ডনীয় হবে।
৯। রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শুধু মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা তাদের ক্যাম্পাস এর ভেতর করতে পারবে। তারা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কোন রকম ঝামেলা করতে পারবে না।(যেমনঃ হ্যারি পটার মুভিতে জাদুবিদ্যা বিদ্যালয়ের বাইরে প্রয়োগ নিষেধ)।

আরও কিছু নিয়ম আলোচনা সাপেক্ষে যোগ করা যেতে পারে। আবার শিথিল ও করা হতে পারে। এইসব শর্ত মেনে যারা রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হবে তাদের হাতে দেশ নিশ্চিন্তে ছেড়ে দেয়া যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবরোধ, ক্লাস বর্জন নামক অদ্ভুত ব্যাপার থেকে সরে আসবে। তখন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে জ্ঞানের চর্চা হবে নিঃসন্দেহে। কারণ ওখানে যেসব শিক্ষকেরা থাকবেন তারা শুধু শিক্ষার ব্যাপারেই মনযোগী হবেন; অন্য কোন ব্যাপারে নয়।

আমার মনে হয় এই একটি মাত্র ব্যাপার দেশের সব সমস্যা সমাধান করে দিবে। সরকার পরিবর্তন হলে বিরোধী দলের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস এ আসা বন্ধ এরকম ব্যাপার গুলো থাকবে না। তখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এর মত রাজনীতি নিয়ে পড়াও একটা আগ্রহের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। বলা যায়না দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সেখানে ভিড় জমাতে পারে; হাজার হোক দেশ চালানোর মত একটা সুযোগ। কে চায় তা হাতছাড়া করতে! আমাদের দেশের সরকার কি এরকম একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাবেনা? আমার মনে হয় সরকারের এ ব্যাপারে উদ্যোগী হউয়া উচিত। আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের নৈতিক স্থলন আর আমরা দেখতে চাই না। তাদেরকে আমরা আর একটু বেশি সম্মান দিতে চাই। একটি জাতির বিবেক এভাবে ধ্বংস হতে পারেনা।