ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

বাংলা ব্লগগুলোতে বিশেষ করে সামহোয়্যার ইন ব্লগের অনেক ব্লগার ইভ টিজিংয়ের জন্য মেয়েদেরকে দায়ী করে। তাদের যুক্তি হচ্ছে মেয়েরা নাকি আকর্ষনীয় পোশাক আষাক পরে ছেলেদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। গালে রং মেখে বুক ফুলিয়ে কিংবা শরীরকে মাখামাখা করে দেখিয়ে ছেলেদের প্রলুব্ধ করে। মেয়েদের এসব নিন্দনীয় কাজের পর কোন ছেলের যৌনানুভূতি সৃষ্টি না হলে সে নাকি হিজড়া! অনেকদিন ধরে এসব যুক্তি শুনে আসতেছি।

তথাকথিত জিয়াপন্থী এসব ব্লগারের কথা যদি আমলে নেয়া যায়, তাহলে সবার আগে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া দরকার। এ মহিলা বৃদ্ধ বয়সে এসেও যে কড়াভাবে মানঝা মারে, এর কি গাঢ় কোন অর্থ আছে?

একটু আগে ফেসবুকে এক বন্ধুর স্টাটাস দেখলাম

“আমার প্রথম হস্ত মৈথুনের রসদ ছিলো খালেদা জিয়ার একটা ভিউ কার্ড। অথচ ব্লগে জাতীয়তাবাদীরা ইভ টিজিংয়ের জন্য নির্যাতিত মেয়েদেরকে দায়ী করে। কোনদিনও খালেদা জিয়াকে দায়ী করতে শুনলাম না! বড় আজব দেশে বসবাস করি।”

খালেদা জিয়ার সাজ কোন দোষের বিষয় না। যারা পত্রিকা ঘেঁটে, অনলাইন চষে সারাদিনে বাঙালি মেয়েদের ৪/৫টি উগ্র ঘটনা যোগাড় করে বখাটেদেরকে ডিফেন্স করতে চায়, তাদের বেশিরভাগই খালেদা জিয়ার ভক্ত। এর কারণ কি?

একটা ভণ্ডলোকের বউ হয়ে যে পরিমান ভণ্ডামি করে যাচ্ছে এবং তারপরে তার ছেলেরা যা করতেছে, পুরা গুষ্টিসুদ্ধা ভণ্ড একটা দলের পেছনে দেশের কোটি কোটি মানুষ কোন মিঠা রসের জন্য ঘুরে বেড়ায়? এটা একটা বড় রহস্য। নাকি সব রহস্য ওই রূপসী সাজের ভেতরে!

জিয়াউর রহমানরে ভণ্ড কইলে অনেকের নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যায়, কানতে কানতে কয়, “আম্মু আমারে মারছে!”। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কথা বলে ক্ষমতায় এসে শুরুতেই পাকিস্তানপন্থীদের নিয়ে মন্ত্রীসভা বানিয়েছে। তারপরও বাঙালি এখনো মেজর জিয়ার নামে সেজদা যায়।

আধা বাঙালি, সেমি বাঙালি এসব ফালতু লোকজন দিনদিন বাইড়াই চলছে। দেশে প্রগতিশীলেরা বিয়া করতে চায় না, বিয়া করলেও ১/২টার বেশি সন্তান নেয় না। আর জিয়াপন্থী, গোলাপীপন্থীদের প্রত্যেকটা ঘরে ৮/১০টা করে বাচ্চা কাচ্ছা। যাদের বেশিরভাগই আব্বারে ঈমাম মেনে কেবলায় দাঁড়ায়।

জিয়াউর রহমানকে মরোনোত্তর ফাঁসি দিয়ে এবং খালেদা জিয়াকে বোরকা পরে রাজনীতি করার রায় দিয়ে দেশের আদালত কিছুটা পাপমোচন করতে পারে।